দিব্যেন্দু নন্দী

দিব্যেন্দু নন্দী একজন ভারতীয় বিজ্ঞানী। তিনি সৌর চক্র নিয়ে গবেষণার জন্য পরিচিত। তিনি মন্টানা স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়, হার্ভার্ড-স্মিথসোনিয়ান সেন্টার ফর অ্যাস্ট্রোফিজিক্স এবং ভারতীয় বিজ্ঞান শিক্ষা ও গবেষণা সংস্থানের সাথে জড়িত। তিনি এসকল প্রতিষ্ঠানেই বেশিরভাগ গবেষণার কাজ করেছেন। তিনি বর্তমানে সেন্টার অব এক্সিলেন্স ইন স্পেস সায়েন্সেস ইন্ডিয়ার এর প্রধান ও সমন্বয়ক। প্রতিষ্ঠানটি ভারত সরকারের মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রণালয় দ্বারা ভারতীয় বিজ্ঞান শিক্ষা ও গবেষণা সংস্থানে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

দিব্যেন্দু নন্দী
জন্ম
জাতীয়তাভারতীয়
মাতৃশিক্ষায়তনসেন্ট জেভিয়ার'স কলেজ, কলকাতা
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
ভারতীয় বিজ্ঞান সংস্থা
মন্টানা স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়
হার্ভার্ড-স্মিথসোনিয়ান সেন্টার ফর অ্যাস্ট্রোফিজিক্স
পরিচিতির কারণসৌর ডাইনামো তত্ত্বের ক্ষেত্রে অবদান
বৈজ্ঞানিক কর্মজীবন
কর্মক্ষেত্রপদার্থবিজ্ঞান
প্রতিষ্ঠানসমূহভারতীয় বিজ্ঞান শিক্ষা ও গবেষণা সংস্থান, কলকাতা
ডক্টরাল উপদেষ্টাঅর্ণব রায় চৌধুরী

দিব্যেন্দু নন্দী ২০১২ সালে আমেরিকান অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটির সম্মানজনক ক্যারেন হার্ভি পুরস্কার পেয়েছিলেন।[১] তিনিই এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে কর্মরত প্রথম মহাকাশ বিজ্ঞানী যিনি এই পুরস্কার পেয়েছেন।

শিক্ষাসম্পাদনা

দিব্যেন্দু নন্দী তার প্রাথমিক স্কুল পড়াশোনা কলকাতার কাশীপুর ইংলিশ স্কুল এবং সেন্ট জেমস স্কুলে সম্পন্ন করেছিলেন। এরপরে তিনি ১৯৯৫ সালে কলকাতার সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপরে তিনি ভারতীয় বিজ্ঞান সংস্থায় যোগদান করেন এবং সেখানে তিনি যথাক্রমে ১৯৯৭ এবং ২০০৩ সালে এম.এস. এবং পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।[২]

কর্মসংস্থান এবং পদসমূহসম্পাদনা

• পোস্টডক্টোরাল গবেষণা ফেলো, মন্টানা স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়, ২০০২-২০০৪

• গবেষণা বিজ্ঞানী, মন্টানা স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়, ২০০৫-২০০৭

• সহকারী গবেষণা অধ্যাপক, মন্টানা স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়, ২০০৭-২০০৮

• পরিদর্শক অনুষদ, গণিত ও পরিসংখ্যান ইনস্টিটিউট, সেন্ট অ্যান্ড্রুজ বিশ্ববিদ্যালয়, ২০০৭

• পরিদর্শক জ্যোতিঃপদার্থবিজ্ঞানী, হার্ভার্ড-স্মিথসোনিয়ান সেন্টার ফর অ্যাস্ট্রোফিজিক্স, ২০০৯ ও ২০১০

• সহকারী অধ্যাপক, ভারতীয় বিজ্ঞান শিক্ষা ও গবেষণা সংস্থান, কলকাতা , ২০০৮- বর্তমান। তিনি কলকাতায় ভারতের প্রথম মহাকাশ আবহাওয়া কেন্দ্র স্থাপনে প্রকল্পের নেতা। এটি মহাকাশ আবহাওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষত্বের কেন্দ্র হবে।

পুরস্কার এবং স্বীকৃতিসম্পাদনা

• ১৯৯৫ সালের বি.এস পরীক্ষার ভিত্তিতে ভারত সরকারের জাতীয় বৃত্তি।

• ২০০০ সালে আমেরিকান অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটির সৌর পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ কর্তৃক "ব্রাকনার স্টুডেন্টশিপ"।

• ২০০৪ সালে ভারতীয় বিজ্ঞান সংস্থা, বেঙ্গালুরুর ভৌত এবং গাণিতিক বিজ্ঞান বিভাগ দ্বারা ২০০২-২০০৩ সালের এর সেরা থিসিসের জন্য "মার্টিন ফারস্টার স্বর্ণপদক"।

• ২০০৭ সালে যুক্তরাজ্যের ব্রিটিশ কাউন্সিলের "গবেষক এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম অ্যাওয়ার্ড"।

• ২০০৮ সালে আমেরিকান অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটির বার্ষিক সভায় সৌর পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ কর্তৃক "পার্কার লেকচারশিপ"।

• ২০০৯ সালে ভারত সরকারের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগ কর্তৃক "রামানুজন ফেলোশিপ"।

• ২০১১ সালে সৌর ক্রিয়াকলাপের অস্বাভাবিকর উপর দিব্যেন্দু নন্দীর গবেষণা সম্পর্কিত নিবন্ধ এবং সাক্ষাৎকার রয়টার্স, এবিসি, সিবিসি, সিডনি মর্নিং হেরাল্ড, ডন, টাইমস অফ ইন্ডিয়া, টেলিগ্রাফ, হিন্দু, ডেকান হেরাল্ড, হিন্দুস্তান টাইমস, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস সহ একাধিক সংবাদ প্রতিষ্ঠানে প্রকাশিত হয়েছে। এই ম্যাগাজিনগুলোতেও এই বিষয়ে নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে: সায়েন্টিফিক আমেরিকান, স্কাই এবং টেলিস্কোপ এবং ডিসকভারি। এসকল চ্যানেলে সাক্ষাৎকার প্রচারিত হয়েছিল: সিএনএন-আইবিএন, লোকসভা টিভি, অল ইন্ডিয়া রেডিও (কলকাতা)।[৩][৪][৫][৬]

• ২০১২ সালে আমেরিকান অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটির সম্মানজনক ক্যারেন হার্ভি পুরস্কার।[১]

তার সর্বশেষ পুরস্কার পাওয়ার পরে তিনি বলেছেন:

''আমি একইসাথে দুর্দান্ত এবং নম্রতা অনুভব করছি। আমি জানি যে বিশ্বজুড়ে আরও কিছু অসামান্য সৌর পদার্থবিদ আছেন যাদের কাছে এই পুরষ্কারটিও যেতে পারত। আমি এখন আমেরিকা থেকে দূরে এবং গত তিন বছর ধরে ভারতে ছিলাম। এই পুরস্কার বিশ্বের কাছে উম্মুক্ত করার জন্য আমেরিকান অ্যাস্ট্রোনমিকাল সোসাইটির সৌর পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের মহানুভাবতার জন্য আমি কৃতজ্ঞ বোধ করি।''

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. Evelyn Boswell (১৯ জানুয়ারি ২০১২)। "Fourth solar physicist affiliated with MSU wins national prize"। MSU News Service। ৩ জুন ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১২ জুন ২০১২ 
  2. "Resume"। সংগ্রহের তারিখ ১২ জুন ২০১২ 
  3. Srinivas Laxman, TNN (৩ মার্চ ২০১১)। "Indian-led research tells world how Sun lost its spots"The Times of India। ৩ জানুয়ারি ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১২ জুন ২০১২ 
  4. "Kolkata scientist clears up mystery of sun spots"The Hindu। ৪ মার্চ ২০১১। সংগ্রহের তারিখ ১২ জুন ২০১২ 
  5. "NASA, India sponsored research explains missing sunspots"। IBN Live। ৩ মার্চ ২০১১। সংগ্রহের তারিখ ১২ জুন ২০১২ [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  6. "NASA explains sun's record energy low"। KPCL TV News। ২৮ অক্টোবর ২০১১। সংগ্রহের তারিখ ১২ জুন ২০১২ [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]