দাখিল মাদ্রাসা

দাখিল মাদ্রাসা(আরবি ভাষা:داخل المدرسة) হলো এমন পর্যায়ের মাদ্রাসা যেখানে প্রথম শ্রেণী থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত পড়ানো হয় এবং দশম শ্রেণী শেষে একটি পাবলিক এক্সামিনেশনের মাধ্যমে দাখিল পাসের সার্টিফিকেট প্রদান করা হয় যা সেকেণ্ডারী স্কুল সার্টিফিকেটের (এস. এস. সি.) সমকক্ষ। যে কোন মাদ্রাসার মতই দাখিল মাদ্রাসা প্রধানতঃ একটি ইসলামী ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যার মূল লক্ষ্য কোরআনহাদিস শিক্ষা প্রদান। তবে বিংশ শতাব্দীর শেষভাগে পাঠ্যসূচীতে ইসলামী শিক্ষার পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষা প্রবর্তিত হয়। একবিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে শিক্ষাপ্রদান কার্যক্রমে কম্পিউটারও ব্যবহার করা হতে থাকে।

ইতিহাসসম্পাদনা

বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয়ভাবে একটি ধর্ম নিরপেক্ষ দেশ তবে এতে মুসলমান জনাসংখ্যাধিক্য রয়েছে এবং মুসলমান জনগোষ্ঠীর বিরাট একটি অংশ ধর্মপ্রাণ। পরিসংখ্যান অনুযায়ী বাংলাদেশের শতকরা প্রায় ৩০ ভাগ মানুষ মাদরাসা শিক্ষার সাথে সংশ্লিষ্ট। তাই এদেশে প্রচলিত বিভিন্ন শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যে মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। দেশে সরকারীভাবে স্বীকৃত মাদরাসার সংখ্যা ১৫ হাজারের অধিক, মাদরাসা শিক্ষকের সংখ্যা দেড় লক্ষাধিক। এক সময় কেবল কুরআন ও হাদিস শিক্ষার জন্য প্রচলিত থাকলেও ক্রমান্বয়ে মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকায়ন চলছে। এজন্য রয়েছে মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর ও মাদরাসা বোর্ড।[১] প্রায়শঃ দাখিল মাদরাসাকে পর্যায়ক্রমে আলিম মাদরাসা উন্নীত করা হয়ে থাকে।

পাঠ্যসূচীসম্পাদনা

দাখিল মাদরাসায় বিভিন্ন পর্যায়ে এবং বিভিন্ন বিভাগে শিক্ষা প্রদান করা হয়। যেমন:

  • দাখিল ৬ষ্ঠ-৮ম
  • দাখিল জেনারেল
  • দাখিল মুযাব্বিদ
  • দাখিল বিজ্ঞান
  • দাখিল হিফযুল কুরাআন
  • দাখিল বিজনেস স্টাডিস

সম্প্রতিকালে দাখিল মাদরাসায় ‘তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি’ বিষয়ে শিক্ষাদানের বিষয়ে অনুমোদন প্রদানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। [২]

পরীক্ষা ব্যবস্থাসম্পাদনা

দাখিল পরীক্ষার পদ্ধতি এস.এস.সি পরীক্ষার মতই। প্রতি বিষয়ে ৩ ঘণ্টার পরীক্ষা দিতে হয় যার পূর্ণমান ১০০ নম্বর। পরীক্ষায় ‘বহুনির্বাচনী’ এবং ‘সৃজনশীল’ উভয়প্রকার প্রশ্ন থাকে। ‘বহুনির্বাচনী’ এবং ‘সৃজনশীল’ পরীক্ষার মধ্যে কোন বিরতি থাকে না। ‘বহুনির্বাচনী’ প্রশ্নের সর্বমোট মান ৩০ নম্বর হলে বরাদ্দ সময়ের পরিমাণ ৩০ মিনিট। অন্যদিকে ‘বহুনির্বাচনী’ প্রশ্নের সর্বমোট মান ২৫ নম্বর হলে বরাদ্দ সময়ের পরিমাণ ৩০ মিনিট।[৩]

মাদ্রাসা বোর্ডসম্পাদনা

দাখিল মাদ্রাসা পরিচালনার জন্য বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির প্রয়োজন পড়ে। বাংলাদেশের মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থা পরিচালনার ১৯৭৮ খ্রিষ্টাব্দে মাদরাসা শিক্ষা অধ্যাদেশ এই বোর্ড স্থাপিত হয়। এই বোর্ড কর্তৃক দাখিল পরীক্ষা পরিচালিত হয় এবং ছাত্র-ছাত্রীদের ফলাফলের ভিত্তিতে বোর্ড কর্তৃক দাখিল সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়। এই বোর্ডের অনুমতিক্রমে বিজ্ঞান, বাণিজ্য ইত্যাদি বিভাগ খোলা যায়। বোর্ড-এর কর্মকর্তারা নিয়মিতভাবে দাখিল মাদরাসা পরিদর্শন করেন এবং শিক্ষাপ্রদান কার্যক্রম মূল্যায়ন করেন। বেসরকারী মাদরাসার সরকারের এমপিও ভুক্তির জন্য বোর্ডের সুপারিশ প্রয়োজন হয়।[৪]

সরকারি অনুমোদনসম্পাদনা

সমালোচনাসম্পাদনা

সচরাচর এরকম সমালোচনা রয়েছে যে মাদরাসার শিক্ষাক্রম আধুনিক নয় এবং দাখিল পাস করে শিক্ষার্থীরা চাকুরীর বাজারে সুবিধা করতে পারে না। কিংবা দাখিল পাসকারী শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চতর শিক্ষার সুযোগ সংকুচিত। আরো সমালোচনা রয়েছে যে, মাদরাসার শিক্ষাক্রম দেশের মানব সম্পদ উন্নয়নে বাধা স্বরূপ।

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর
  2. তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি শিক্ষা বিষয়ক তথ্য
  3. পরীক্ষাবিষয়ক তথ্যাদি
  4. মাদ্রাসা বোর্ড-এর তথ্যতীর্থ

আরও দেখুনসম্পাদনা

বহি:সংযোগসম্পাদনা