প্রধান মেনু খুলুন

তত্ত্ববিদ্যা দর্শনের সত্তা সম্পর্কিত আলোচনা । বিশদভাবে , এর আলোচ্য বিষয় হচ্ছে সত্তা বা পরম এর সাথে সম্পর্কিত বিষয়সমূহ । বিশেষত অস্তিত্ব,বাস্তবতা এবং এদের সম্পর্ক বিষয়ক আলোচনাই তত্ত্ববিদ্যার মুখ্য আলোচনার বিষয় । দর্শনের গুরুত্বপূর্ণ শাখা হিসেবে এটি অধিবিদ্যা নামেও এটি পরিচিত । তত্ত্ববিদ্যা অস্তিত্বশীলতা এবং অস্তিত্বশীল বিষয়ের একে অপরের সাথে সম্পর্কিত হওয়ার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করে ।

পরিচ্ছেদসমূহ

বুৎপত্তিসম্পাদনা

অন্টোলজি শব্দটির উৎপত্তি গ্রীক শব্দ অন্টোস (সত্তা) এবং লগোস (জ্ঞান) থেকে উদ্ভূত হয়েছে যার অর্থ হলো সত্তা বিষয়ক জ্ঞান । অর্থাৎ শব্দটি প্রথমে গ্রীক দারশনিকগণ ব্যবহার করেছিলেন ।

ইংরেজিতে শব্দটি প্রথমে অন্তর্ভুক্ত হয় অক্সফোর্ড ইংরেজী অভিধাণে , যা গিডন হারভে নামক ব্যক্তি অন্তর্ভুক্তি করেন । লিবনিজ হলেন সতেরো শতকের একমাত্র দার্শনিক যিনি এই শব্দটি ব্যবহার করেন ।

সংক্ষিপ্ত বিবরণসম্পাদনা

কিছু দার্শনিক , বিশেষত প্লাটোনিক স্কুলগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে সকল বিশেষ্য কোন না কোন অস্তিত্বশীল বস্তুকে নির্দেশ করে । পরবর্তীতে দার্শনিকরা বলেন যে বিশেষ্য সবসময় কোন বস্তু বা সত্তাকে নির্দেশ করেনা , কখনো কখনো কিছু বস্তু এবং তাদের মধ্যকার সম্পর্কের ধারণাও প্রদান করে । পরবর্তীতে মনকে কোন সত্তা হিসেবে উল্লেখ না করে ব্যক্তির মানসিক ঘটনাসমূহের একটি সংগঠন হিসেবে উল্লেখ করা হয় । সমাজ দ্বারা নির্দেশ করা হয় অনেকগুলো মানুষের সংগঠনকে এবং জ্যামিতি দ্বারা কিছু বুদ্ধিদীপ্ত ক্রিয়াকে নির্দেশ করা হয় । বাস্তববাদ এবং সংজ্ঞাবাদ এর এসকল মতের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন মত রয়েছে ।

কিছু মৌলিক প্রশ্নসম্পাদনা

তত্ত্ববিদ্যায় কিছু মৌলিক প্রশ্ন হলোঃ

  • "অস্তিত্বশীলতা কি?"
  • "বস্তু কি?"
  • "অস্তিত্বশীল বস্তুসমূহ কোন উপায়ে সম্পর্কিত হয়?"
  • "সত্তার অর্থ কি?"
  • "সত্তা হওয়ার বিভিন্ন শর্ত সমূহ কি?"

বিভিন্ন দার্শনিক এই প্রশ্নগুলোর বিভিন্ন জবাব দেওয়ার চেষ্টা করেছেন । সাধারণত বিষয় এবং বিষয়ীর মধ্যকার ভিন্নতা দ্বারা এই প্রশ্নগুলোর উত্তর প্রদানের চেষ্টা করেছেন দার্শনিকরা । তবে একেকজনের জবাব অন্যজন থেকে সম্পূর্ণ আলাদা, সকলের স্বতন্ত্র চিন্তাগুলো নিয়ে জ্ঞানবিদ্যা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতন শাখাগুলো সৃষ্টি হয়েছে । তত্ত্ববিদ্যক প্রকরণগুলো বিভিন্ন অনুক্রমে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়েছে । এরিষ্টটলের করা শ্রেণীবিন্যাসে সত্তাকে বুঝানো হয়েছে সত্তা দ্বারাই । যথাঃ

  • ইহা কি? (সারসত্তা নির্দেশ)
  • ইহা কেমন? (গুণবাচকতা)
  • ইহার পরিমাণ কত? (পরিমাণবাচকতা)
  • ইহা কোথায়? (সম্পর্ক)

এসকল তত্ত্ববিদ্যক প্রশ্নের আরো কিছু উদাহরণঃ

  • অস্তিত্ব কি? এটা দ্বারা কি বুঝানো হয়?
  • অস্তিত্ব কি কোন সম্পদ?
  • অস্তিত্ব কি কেবলমাত্র নির্দিষ্ট পার্থক্য দ্বারা বিভক্ত একটি জাতি বা সাধারণ শ্রেণী?
  • কোন সত্তা? যদি থাকে তবে তার মৌলিকতা কি?
  • সকল সত্তাই কি বস্তু?
  • একটি বস্তুর বৈশিষ্ট্য কিভাবে তার নিজের সাথে সম্পর্কিত হয়?
  • বস্তুগত কোন বৈশিষ্ট্য কি অস্তিত্বশীল?
  • একটি বস্তুর কোন বৈশিষ্ট্য একে অন্যদের থেকে পৃথক করে?
  • অস্তিত্বশীলতার কতগুলো ধাপ রয়েছে? ধাপ কি?
  • প্রাকৃতিক বস্তু কি?
  • প্রাকৃতিক বস্তুর অস্তিত্বশীলতার কোন প্রমাণ কি কেউ দিতে পারবে?
  • অ-প্রাকৃতিক বস্তুর অস্তিত্বশীলতার কোন প্রমাণ কেউ দিতে পারবে?
  • বস্তুর গঠন পরিচয় নির্ধারণ করে কে ?
  • কখন একটি বস্তু অস্তিত্বের বাইরে যায় বা পরিবর্তিত হয়?
  • বিষয় এবং বিষয়ীর বাইরেও কি কোন সত্তা অস্তিত্বশীল? বিষয় এবং বিষয়ী কি আধুনিক দর্শন এর অনিবার্যতাকে বিভক্ত করে?

ধারণাসম্পাদনা

অপরিহার্য তত্ত্ববিদ্যক দ্বি-বিভাজনসমূহঃ

  • সার্বিক এবং বিশেষ
  • দ্রব্য ও অদ্রব্য
  • মূর্ত এবং বিমূর্ত বস্তু
  • অস্তিত্ব ও সারসত্তা
  • নির্ধারণবাদ ও অনির্ধারণবাদ
  • একত্ববাদ ও দ্বৈতবাদ

ভাববাদ ও বাস্তববাদ

প্রকারসম্পাদনা

দার্শনিকগণ বিমূর্ততার মানদণ্ড ব্যবহার করে তত্ত্ববিদ্যাকে বিভিন্ন উপায়ে শ্রেণিবিভক্ত করেন । যথাঃ

  • পরা-তত্ত্ববিদ্যাঃ যেসকল ধারণা তত্ত্ববিদ্যার বিকাশ ঘটায় সেসকল বিষয়ের আলোচনা করে।
  • কার্য-তত্ত্ববিদ্যাঃ বিশেষ কোন বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত ধারণা, কার্যক্ষেত্র অথবা এর সাথে প্রাসঙ্গিক বিষয়ের ধারণা নিয়ে আলোচনা করে, কম্পিউটারের ভাষা, অথবা বিজ্ঞানের কোন বিশেষ শাখার ন্যায় ।
  • ইন্টারফেস অধিবিদ্যাঃ দুইটি বিদ্যার ধারণার সংযোগ ঘটানো
  • পদ্ধতিগত তত্ত্ববিদ্যাঃ ইনপুট, আউটপুট, সীমাবদ্ধতা, ক্রম তথ্য ইত্যাদির কৌশল প্রকিয়া নিয়ে কাজ করে ।

ইতিহাসসম্পাদনা

তত্ত্ববিদ্যার উল্লেখ পাওয়া যায় প্রথম সহস্রাব্দের প্রথম শতকে হিন্দু দর্শনের সাংখ্য সম্প্রদায়ে । গুণের বৈশিষ্ট্যের ধারণায় এর তিনটি ভাগের কথা বলা হয় , যথা স্বতঃ,তম ও রজ ; যা সকল অস্তিত্বশীল বস্তুর মধ্যে বিদ্যমান থাকে ; এটি এই সম্প্রদায়ের একটি উল্লেখযোগ্য ধারণা ।

পারমানাইডিস এবং একত্ববাদসম্পাদনা

গ্রীক দর্শনে, পারমানাইডিস খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম শতাব্দীর দিকে প্রথম অস্তিত্বের মৌলিক প্রকৃতির তত্ত্ববিদ্যক বৈশিষ্ট্য প্রদান করেন । তাঁর প্রকৃতিবিষয়ক পদ্য On Nature এ তিনি অস্তিত্ব বিষয়ে দুইটি ধারণা প্রদান করেন; কোনকিছু থেকেই কোনকিছু আসেনা তাই অস্তিত্ব চিরন্তন । ফলস্বরূপ সত্য বিষয়ে আমাদের ধারণা ভ্রান্ত এবং অমূলক হতে পারে । পাশ্চাত্য দর্শনের বেশিরভাগ ধারণাই মিথ্যা প্রতিপাদন নীতিকে অনুসরণ করে, এই নীতির ধারণা পারমানাইডিসের এ মত থেকেই সৃষ্ট । এর দ্বারা বোঝানো হয় অস্তিত্ব হলো যা আমরা চিন্তা করি,সৃষ্টি করি এবং ধারণ করি । প্রকৃত বাস্তবতার ধারণা আমরা নাও পেতে পারি তবে তা অস্তিত্বশীলতা থেকে কখনোই বিনষ্ট হয়ে যাবেনা । পারমেনাইডিস বলেন, আমাদের অভিজ্ঞতার মাধ্যমে প্রাপ্ত জ্ঞান ভ্রমমূলক ।

তত্ত্ববিদ্যক দ্বৈতবাদসম্পাদনা

পারমানাইডিসের তত্ত্ববিদ্যক একত্ববাদের বীপরীত মতই হচ্ছে তত্ত্ববিদ্যক দ্বৈতবাদ । এনাক্সেগোরাস এবং লিউসিপাস সত্তা এবং বাস্তবতার ধারণার পরিবর্তন সাধন করেন ।