ডেইজি ইরানি

ভারতীয় অভিনেত্রী

ডেইজি ইরানী (জন্ম: ১৯৫০) হলেন হিন্দি এবং তেলুগু ভাষার চলচ্চিত্রের একজন ভারতীয় অভিনেত্রী। তিনি ১৯৫০ এবং ১৯৬০-এর দশকে একজন জনপ্রিয় শিশু অভিনেত্রী ছিলেন। তিনি বন্দিশ (১৯৫৫) এক হি রাস্তা (১৯৫৬), নয়া দৌড় (১৯৫৭), হাম পঞ্ছি এক ডাল কে (১৯৫৭), জেইলর (১৯৫৮), কয়েদি নং ৯১১ (১৯৫৯) এবং দো উস্তাদ (১৯৫৯)-এর মতো হিন্দি চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে অধিক পরিচিতি লাভ করেছিলেন। পার্শ্ব অভিনেত্রী হিসাবে তিনি কটি পতঙ্গে অভিনয় করেছিলেন। তিনি স্টার প্লাসে প্রচারিত জনপ্রিয় টেলিভিশন অনুষ্ঠান শারারত-এ রাণী দেবীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন।

ডেইজি ইরানি
Daisy Irani at the audio release of 'Shirin Farhad Ki Toh Nikal Padi'.jpg
২০১২ সালে ডেইজি ইরানি
জন্ম১৯৫০ (বয়স ৬৯–৭০)
পেশাঅভিনেত্রী
দাম্পত্য সঙ্গীকে. কে. শুক্লা (১৯৭১–?)
সন্তান
আত্মীয়হানি ইরানি (বোন)

ব্যক্তিগত জীবনসম্পাদনা

ডেইজী ইরানি ১৯৫০ সালে ভারতের একটি জরাথুস্ট্রীয় পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তাঁর মাতৃভাষা হচ্ছে গুজরাটি। তিনি তাঁর তিন বোনের মধ্যে সবার বড়, তাঁর বোন দুই জন হচ্ছেন হানি ইরানি এবং মেনকা ইরানি। তাঁর ছোট বোন হানি, যিনি একজন শিশু তারকা ছিলেন, গীতিকার এবং লেখক জাভেদ আখতারের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন এবং তিনি ফারহান আখতার এবং জোয়া আখতারের মা। ডেইজীর অন্য বোন মেনকা চলচ্চিত্র নির্মাতা কামরান খানের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন[১] এবং তিনি চলচ্চিত্র নির্মাতা সাজিদ খান এবং ফারাহ খানের মা।

ডেইজি চিত্রনাট্যকার কে. কে. শুক্লা (যিনি একজন হিন্দু ব্রাহ্মণ) র সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন। তিনি ১৯৭১ সালের ২১শে জানুয়ারি তারিখে মাত্র ২১ বছর বয়সে বিবাহ করেছিলেন। শিশু শিল্পী হিসাবে অভিনয় জীবন শেষ করার পর তিনি প্রাপ্তবয়স্ক অভিনেত্রী হিসেবে চলচ্চিত্র জীবন শুরু করার কোনও প্রচেষ্টা করেননি; উক্ত সময়ে তিনি নিজেকে স্বামী এবং পরিবারের প্রতি নিবেদিত করেছিলেন। তাঁর তিন সন্তান রয়েছে, কবীর নামে একটি ছেলে এবং দুই মেয়ে বর্ষা ও রিতু। তাঁর সন্তানদের কেউই কোন ভাবে বিনোদন শিল্পের সাথে জড়িত হননি।

যদিও একজন জরাথুস্ট্রীয় হিসেবে জন্মগ্রহণ করেছেন, তবে একজন হিন্দুর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলেও ডেইজি পরবর্তী জীবনে খ্রিস্টধর্মে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। ১৯৭৫ সালে, তিনি মুম্বইয়ের নিউ লাইফ ফেলোশিপের একজন সদস্য হন।[২]

২০১৮ সালে, ডেইজি প্রকাশ করেছিলেন যে হাম পঞ্ছি এক ডাল কে (১৯৫৭) তৈরির সময় তাঁর "অভিভাবক" দ্বারা মাত্র ৬ বছর বয়সে তাঁকে ধর্ষণ করা হয়েছিল।[৩]

পেশাসম্পাদনা

১৯৭১ সালে বিয়ের পরে তিনি চলচ্চিত্র ছেড়ে দিয়েছিলেন। ১৯৭১ সালে তাঁর সর্বশেষ চলচ্চিত্রটি মুক্তি পেয়েছিল; যার নাম ছিল ছবিটি কটি পতঙ্গ। ১৯৮০-এর দশকে, তিনি মঞ্চ নাটকে বেশ কিছু দিন কাজ করেছিলেন এবং তাঁর নিজস্ব একটি অভিনয় স্কুল করেছিলেন। ১৯৯০-এর দশকের গোড়ার দিকে, তাঁর স্বামীর মৃত্যুর পরে তিনি কৌতুক বিষয়ক টেলিভিশন ধারাবাহিক দেখ ভাই দেখ, আস্থা (১৯৯৭), কেয়া কহনা এবং শারারত (২০০২)-এর মতো ধারাবাহিকে অভিনয় করেছেন।[৪]

তিনি ভাগ্নে সাজিদ খান দ্বারা পরিচালিত ২০১০ সালে হাউসফুল এবং তারপরে বেলা সেহগাল পরিচালিত এবং ভাতিজা ফারাহ খান অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্র শিরিন ফরহাদ কি তো নিকল পড়ি (২০১২) নামক চলচ্চিত্রে হাজির হয়েছিলেন।[৫]

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. "'I told Shah Rukh.."। The Telegraph। ৭ অক্টোবর ২০০৭। সংগ্রহের তারিখ ১৭ ডিসেম্বর ২০১৩ 
  2. "I knew nothing about Jesus Christ earlier: Daisy Irani Shukla"। The Christian Messenger। ৮ নভেম্বর ২০১৩। সংগ্রহের তারিখ ১৭ ডিসেম্বর ২০১৩ 
  3. "Actress Daisy Irani Reveals She Was Raped At 6 By Man Appointed As Her 'Guardian'"NDTV.com 
  4. "Lost and found: Thirty newsmakers from the pages of Indian history and where they are now: Cover Story"। India Today। ৩ জুলাই ২০০৬। সংগ্রহের তারিখ ১৬ ডিসেম্বর ২০১৩ 
  5. "I had five bottles of beer: Daisy Irani – Hindustan Times"। ২৮ জুন ২০১২। সংগ্রহের তারিখ ১৭ ডিসেম্বর ২০১৩ 

বহিঃসংযোগসম্পাদনা