টুক্রেশ্বরী দেবালয়

টুক্রেশ্বরী দেবালয় হচ্ছে গোয়ালপাড়া শহর থেকে প্রায় ২৪ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে টুক্রেশ্বরী পাহাড়ে অবস্থিত একটি দেবালয়।

টুক্রেশ্বরী দেবালয়
ধর্ম
অন্তর্ভুক্তিহিন্দুধর্ম
জেলাগোয়ালপাড়া
অবস্থান
দেশভারত

কিম্বদন্তি তথা ইতিহাসসম্পাদনা

প্রাচীন এক জনশ্রুতি অনুসারে এই পাহাড়ে দেবী সতীর দেহের কোনো একটুকরো (কোনো কোনোজনের মতে সতীর জিভ) পড়েছিল। 'টুকরো' শব্দ থেকেই এই পীঠস্থানের নাম টুক্রেশ্বরী হয় বলে জনশ্রুতি বলে। অন্য এক প্রবাদমতে এই অঞ্চলে টুকুরা নামের একজন গোরক্ষক ছিলেন। তিনি সদাই টুক্রেশ্বরী পাহাড়ের আশে-পাশে গরু চরাতেন। তাঁর চরাতে থাকা গরু থেকে নিত্য একটি গাইগরু সঙ্গোপনে পাহাড়ে উঠে গিয়ে একটি চাতালে বৃহৎ একটি পাথর একটি নির্দিষ্ট স্থানে নিজে থেকে দুধ ঢেলে দিত। একদিন টুকুরা গাইটির এই কাণ্ড ধরে ফেলে। ঘটনাটি দেখে টুকুরা হতভম্ব হল এবং অবশেষে এই সকল কথা বিজনীর রাজার কাছে বিবৃত করে। রাজা টুকুরার কথা বিশ্বাস করেননি। হতাশ হয়ে তিনি ফিরে আসেন। এর কিছুদিন পর রাজা স্বপ্নে নির্দেশ পান যে সেই পাহাড়ে একটি মন্দির তৈরি করে পূজা করতে হবে। সেই অনুসারে রাজা সেখানে মন্দির তৈরি করে পূজা-সেবার ব্যবস্থা করেন। গোরক্ষক টুকুরার নাম অনুসারে এই মন্দিরের নাম রাখা হয় টুকেশ্বরী।

বর্তমানসম্পাদনা

দুর্গা পূজা এবং বাসন্তী পূজার সময় এখানে মহাসমারোহে পূজা হয় এবং বিরাট মেলা বসে। দুর্গা পূজার সময় এখানে মোষ বলি দেয়ারও পরম্পরা আছে। এই মন্দিরের প্রাঙ্গণে অসংখ্য বাঁদরের বসতি। বাঁদরগুলির মধ্যে তাঁদের রাজা-রাণীও আছে। মন্দিরের পূজার ভোগ-প্রসাদের ভাগ এই বাঁদরগুলিকেও দেওয়া হয়। কিন্তু লক্ষণীয়ভাবে রাজা-রাণী না খাওয়া পর্যন্ত অন্য বাঁদরগুলি এই ভোগ-প্রসাদ খায় না। বর্তমানে অবশ্য মানুষের দৌরাত্ম্যে বাঁদরের সংখ্যা ক্রমশঃ কমে আসছে।[১]

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. আসাম অভিধান, শান্তনু কৌশিক বরুয়া, বনলতা,২০০১,পৃষ্ঠা-১০২ (১)