টিলিঙা মন্দির তিনসুকিয়া জেলার বরডুবি নামের স্থানে অবস্থিত।[১] দুলীয়াজান থেকে এই মন্দিরে ১০ কিলোমিটার এবং তিনসুকিয়া শহর থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরত্ব। এই মন্দিরটি শিবপূজার পীঠস্থানের মতো হয়ে উঠেছে। হাজার হাজার কাঁসা পিতল, তামা এবং ব্রোঞ্জের টিলিঙা বা ঘন্টা ঝুলিয়ে রাখা একটি গাছকে কেন্দ্র করে এই মন্দিরটি তৈরি করে ফেলা হয়েছে। অবশ্য মন্দির পরিসরেও অনেক ঘন্টার স্তুপ দেখা যায়।

টিলিঙা মন্দির
চিত্র:টিলিঙ্গা মন্দির.jpeg
টিলিঙা মন্দিরের চৌহদ
ধর্ম
অন্তর্ভুক্তিহিন্দুধর্ম
জেলাতিনসুকিয়া জেলা
অবস্থান
অবস্থানবরডুবি
দেশভারত

বিশ্বাসসম্পাদনা

টিলিঙা মন্দিরের সাথে এক বিশ্বাস জড়িত হয়ে আছে। শিবভক্তরা বিশ্বাস করেন যে, এই মন্দিরে একটি টিলিঙা বা ঘন্টা দান করে ভগবান শিবের উপর আস্থা রেখে যে কামনা করে তার নিশ্চিত ফলপ্রাপ্তি ঘটে। এই মন্দিরের বড় গাছটিতে ভক্তরা টিলিঙা পরম উৎসাহে বাঁধলে ভক্তের মনোবাঞ্ছা পূর্ণ হয় বলে লোক-বিশ্বাস আছে; সেজন্য এই মন্দিরের নাম টিলিঙা মন্দির নামে পরিচিত।[১] বড়গাছটির ডালে ভক্তরা টিলিঙা বাঁধে এবং গাছটির গুড়িতে রাঙাসূতা একই উৎসাহে বাঁধে। প্রবাদ আছে যে, যে মনোবাঞ্ছা নিয়ে ভক্তই টিলিঙা বেঁধে রেখে আসেন সেই মনোবাঞ্ছা সিদ্ধি হওয়ারপর পুনরায় সেই মন্দিরে গিয়ে সূতা এবং টিলিঙা সোলোকাই রেখে আসব হয়। গাছটি সূতায় এবং ডালগুলি টিলিঙে ভর্তি হয়ে উঠেছে।[২]

ইতিহাসসম্পাদনা

টিলিঙা মন্দিরের ইতিহাস খুব বেশি পুরানো নয়। অর্থাৎ মন্দিরটিকে প্রাচীন কালের বলা যায় না। ১৯৬৫ সালে মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল।[৩] যে বটগাছকে কেন্দ্র করে টিলিঙা মন্দির আছে, সেই গাছের নিচে উল্লেখ সালের কোনো একটি সময়ে একজন চা শ্রমিক মাটি থেকে বেরিয়ে থাকা শিবলিঙ্গ একটি প্রত্যক্ষ করেন। বনুয়াজন শিবলিঙ্গটি দেখতে পাওয়ার সাথে সাথে এই বিষয়ে চা বাগিচা কর্তৃপক্ষকে অবগত করেন। বাগিচা কর্তৃপক্ষ উক্ত স্থানে একটি মন্দির তৈরি করার জন্য সিদ্ধান্ত নেয় এবং হাতে-কলমে কাজ নেয়। এমনভাবে টিলিঙা মন্দির নির্মাণ করা হয়েছিল।

দিন বাড়ার সাথে সাথে মন্দিরটিতে শিবভক্তের আগমন ঘটতে শুরু করে। সাধারণত এই মন্দিরে আসা ভক্তরা প্রার্থনা করেন মনোবাঞ্ছা পূরণের জন্য। মনোবাঞ্ছা পূর্ণ হলে পুনরায় এসে ভগবান শিবের নামে টিলিঙা দান করেন। অবশ্য কিছু কিছু ভক্ত একবারই টিলিঙা দান দিয়ে যায়। ভক্তদের দান করা টিলিঙার সংখ্যা এমন বেশি যে, সেইসমূহ স্তূপীকৃত করে রাখা হয়েছে। ৫০ গ্রাম ওজন থেকে ৫০ কিলোগ্রাম ওজনের টিলিঙা পর্যন্ত ভক্তরা দান করে আসছে। কিছুলোক পার চরিয়ে দিয়ে মনোবাঞ্ছা পূরণের জন্য ভগবান শিবের কাছে প্রার্থনা জানান।

যাতায়াতের সচলতার জন্য এবং শিবের প্রতি থাকা বিশ্বাসের জন্য দৈনিক যথেষ্টসংখ্যক ভক্ত এসে টিলিঙা মন্দির দর্শন করে যায়। এই মন্দিরে বিবাহ সম্পন্ন করার ব্যবস্থাও আছে। নাচগানেও টিলিঙা মন্দিরের বিষয়ে উল্লেখ পাওয়া যায়।

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. "টিলিঙা মন্দির"। mygov.in। সংগ্রহের তারিখ ৮ ডিসেম্বর ২০১৯ 
  2. "The sheer volume of bells at Tilinga Mandir in Tinsukia district will have you believe that wishes do come true here"। ইন্ডিয়া টুডে। ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ৮ ডিসেম্বর ২০১৯ 
  3. "Bell Temple Assam - Tilinga Mandir"। eSamskriti। ২৯ মে'২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ৮ ডিসেম্বর ২০১৯  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |তারিখ= (সাহায্য)

বহিঃসংযোগসম্পাদনা