জো ভ্যান ফ্লিট

মার্কিন অভিনেত্রী

ক্যাথরিন জোসেফিন ভ্যান ফ্লিট (ইংরেজি: Catherine Josephine Van Fleet; জন্ম: ২৯শে ডিসেম্বর ১৯১৫ - ১০ই জুন ১৯৯৬) ছিলেন একজন মার্কিন অভিনেত্রী। তিনি চলচ্চিত্র, মঞ্চ ও টেলিভিশনে অভিনয় করেছেন। তিনি তার নিজের বয়সের চেয়ে অধিক বয়সী চরিত্রে অভিনয়ের জন্য প্রসিদ্ধ ছিলেন। অভিনয়ের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি একটি একাডেমি পুরস্কার ও একটি টনি পুরস্কার অর্জন করেছেন।[১]

জো ভ্যান ফ্লিট
Jo Van Fleet
Studio publicity Jo Van Fleet.jpg
স্টুডিও প্রচারণামূলক ছবিতে ভ্যান ফ্লিট
জন্ম
ক্যাথরিন জোসেফিন ভ্যান ফ্লিট

(১৯১৫-১২-২৯)২৯ ডিসেম্বর ১৯১৫
মৃত্যু১০ জুন ১৯৯৬(1996-06-10) (বয়স ৮০)
জামাইকা, নিউ ইয়র্ক, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
জাতীয়তামার্কিন
মাতৃশিক্ষায়তনকলেজ অব দ্য প্যাসিফিক
পেশাঅভিনেত্রী
কর্মজীবন১৯৫৪-১৯৮৬
দাম্পত্য সঙ্গীউইলিয়াম বেলস (বি. ১৯৪৬; মৃ. ১৯৯০)
সন্তান১, মাইকেল
পুরস্কারটনি পুরস্কার (১৯৫৪)
একাডেমি পুরস্কার (১৯৫৫)

জীবনীসম্পাদনা

প্রারম্ভিক জীবনসম্পাদনা

ভ্যান ফ্লিট ১৯১৫ সালের ২৯শে ডিসেম্বর ক্যালিফোর্নিয়ার ওকল্যাণ্ডে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা রয় ভ্যান ফ্লিট এবং মাতা এলিজাবেথ "বেসি" ক্যাথরিন (প্রদত্ত নাম: গার্ডনার)।[২] তিনি স্টকটনের কলেজ অব দ্য প্যাসিফিকে পড়াশুনা করেন। তিনি স্যানফোর্ড মেইজনারের নেইবারহুড প্লেহাউজে অভিনয় বিষয়ে পাঠ গ্রহণের বৃত্তি লাভ করেন এবং অভিনয় কর্মজীবন শুরুর লক্ষ্যে নিউ ইয়র্ক যান।[১]

কর্মজীবনসম্পাদনা

১৯৪৬ সালে দ্য উইন্টার্‌স টেল মঞ্চনাটকে ডোরকার চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে ব্রডওয়ে মঞ্চে ভ্যান ফ্লিটের অভিষেক হয়। কয়েক বছরের মধ্যে তিনি তার অভিনয় দক্ষতা দিয়ে অন্যতম নাট্যধর্মী অভিনেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। তিনি ১৯৫০ সালে কিং লিয়ার নাটকে রিগান চরিত্রে অভিনয় করেন। ১৯৫২ সালে তিনি প্রথমবারের মত এলিয়া কাজান নির্দেশিত ফ্লাইট ইনটু ইজিপ্ট নাটকে অভিনয় করেন। পরের বছর টেনেসি উইলিয়ামসের বিতর্কিত কামিনো রিয়াল নাটকে কামিল চরিত্র তাকে মঞ্চনাটকে প্রতিষ্ঠা অর্জনে সহায়তা করে। এই নাটকটিও নির্দেশনা দেন কাজান। ভ্যান ফ্লিট পরবর্তীতে তার জীবনে কাজানের প্রভাবের কথা উল্লেখ করেন।[১][৩]

 
ইস্ট অব ইডেন ছবিতে ভ্যান ফ্লিট।

১৯৫৫ সালে কাজান জন স্টাইনবেকের ইস্ট অব ইডেন অবলম্বনে নির্মিত একই নামের চলচ্চিত্রে তাকে ক্যাথি অ্যামস চরিত্রের জন্য নির্বাচন করেন। এই ছবিটি দিয়ে ভ্যান ফ্লিটের চলচ্চিত্রে অভিষেক হয়।[১] এই ছবিতে তার জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেত্রী বিভাগে একাডেমি পুরস্কার অর্জন করেন। ১৯৬০ সাল পর্যন্ত তিনি নিয়মিত চলচ্চিত্রে কাজ করেন এবং এই সময়ে তিনি দ্য রোজ ট্যাটু (১৯৫৫), আই উইল ক্রাই টুমরো (১৯৫৫), দ্য কিং অ্যান্ড ফোর কুইন্স (১৯৫৬) এবং গানফাইট অ্যাট দ্য ও.কে. কোরাল (১৯৫৭) ছবিতে অভিনয় করেন।[১] ১৯৫৭ সালে লিলিয়ান গিশইভা মারি সেন্টের সাথে হর্টন ফুটের দ্য ট্রিপ টু বাউন্টিফুল নাটকে জেসি মে ওয়াটস চরিত্রে অভিনয় করেন। দ্য ট্রিপ টু বাউন্টিফুল নাটকে অভিনয়ের জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী বিভাগে টনি পুরস্কার লাভ করেন।[৪]

ব্যক্তিগত জীবন ও মৃত্যুসম্পাদনা

ভ্যান ফ্লিট ১৯৪৬ সালে নৃত্য পরিচালক উইলিয়াম বেলসের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। বেলস ১৯৯০ সালে মারা যায়।[৩] ভ্যান ফ্লিট ১৯৯৬ সালের ১০ই জুন কুইন্সের জামাইকা শহরের একটি হাসপাতালে ৮০ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। তার মরদেহ পুড়িয়ে ফেলা হয়ে এবং ছাই পরিবারের কাছে ফেরত দেওয়া হয়।[৫] মৃত্যুকালে তার সন্তান মাইকেল বেলস এবং নাতী আর্ডেন রগো-বেলস জীবিত ছিলেন।[৩]

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. ভ্যালেন্স, টম। "OBITUARY : Jo Van Fleet"দি ইন্ডিপেন্ডেন্ট। সংগ্রহের তারিখ ১০ জুন ২০১৮ 
  2. "Catherin J Vanfleet, Born 12/29/1915 in California"ক্যালিফোর্নিয়া বার্থ ইনডেক্স (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১০ জুন ২০১৮ 
  3. গুসো, মেল (১১ জুন ১৯৯৬)। "Jo Van Fleet, 81, an Actress Who Portrayed Proud Women"দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১০ জুন ২০১৮ 
  4. "OSCAR-WINNING ACTRESS JO VAN FLEET DIES AT 81"ওয়াশিংটন পোস্ট (ইংরেজি ভাষায়)। ১২ জুন ১৯৯৬। সংগ্রহের তারিখ ১০ জুন ২০১৮ 
  5. উইলসন, স্কট (২০১৬)। Resting Places: The Burial Sites of More Than 14,000 Famous Persons, 3d ed. (ইংরেজি ভাষায়)। ম্যাকফারল্যান্ড। আইএসবিএন 9781476625997। সংগ্রহের তারিখ ২৯ ডিসেম্বর ২০১৮ 

বহিঃসংযোগসম্পাদনা