চুখাম্‌ফা (ইংরেজি: Sukhaamphaa) আহোম সাম্রাজ্যের ১৬তম রাজা ছিলেন। ১৫৫২ সনে তিনি রাজসিংহাসনে বসেন। চুখাম্‌ফা সুদীর্ঘ ৫১ বৎসর পর্যন্ত আহোম রাজ্য শাসন করেছিলেন। একবার তিনি শিকার করার সময় হাতি দ্বারা আঘাত প্রাপ্ত হয়ে পঙ্গু হন । পঙ্গু শব্দের অসমীয়া অর্থ হচ্ছে খোরা তাই তার অপরনাম খোরা রাজা। একবার সাতজন আহোম রাজকুমার মিলে চুখাম্‌ফাকে হত্যা করার ষড়যন্ত্র করে। ষড়যন্ত্রের কথা জানতে পেরে রাজা তাদেরকে বন্দী করেন কিন্তু আহোম রাজ্যের উচ্চপদস্থ ও বিজ্ঞ ব্যক্তিদের পরামর্শ অনুযায়ী তিনি অপরাধীদের কোন দণ্ড না দিয়েই ছেড়ে দেন। কিছুদিন পর ষড়যন্ত্রকারীরা পুনরায় একই আচরন করে। এইবার রাজা তাদের মৃত্যুদণ্ড দেন।[১]

রাজত্বকালসম্পাদনা

পশ্চিম দিক থেকে যাতে আহোম সাম্রাজ্য কেউ আক্রমণ করিতে না পেরে তাই তিনি দুর্গ নির্মাণ করেছিলেন। তার রাজত্বকালে নরা রাজা, শুতীয়া রাজানগা রাজা বিদ্রোহ করেছিলেন যদিও তিনি তাদের দমন করতে সক্ষম ছিলেন। চুখাম্‌ফার রাজত্বকালে অসমে প্রাকৃতিক দুর্যোগ সংঘটিত হয়েছিল। একবার বড় ভূমিকম্প ও বন্যা হয়েছিল।[১]

কোচের সহিত যুদ্ধসম্পাদনা

চুখামফার শাসনকালে আহোমের সহিত কোচ রাজার বিবাদ হয়েছিল। কোচ রাজা আহোম রাজার বিরুদ্ধে টেপু নামক একটি ব্যক্তির নেতৃত্বে সৈন্য পাঠান। কোচ সেনারা দিখৈ নদী গিয়ে পৌছায় । আহোম সৈন্যরা কোচ সেনাদের বাধা দিতে সক্ষম হয়েছিল যদিও কিছুদিন পর যুদ্ধে কোচ সেনাপতি চিলারায় যোগদান করার পর আহোম সৈন্যরা পরাজিত হয়েছিল। জয়ী হয়ে চিলারায় আহোমের রাজধানী গড়গাঁও দখল করে। একটি প্রবাদ মতে আহোম রাজা চুখাম্‌ফা কোচের সহিত যুদ্ধের সময় তার সৈন্যদের পৈতে লাগিয়ে গরুর উপর বসায়ে ব্রাহ্মণ বেশে পাঠিয়েছিলেন। চিলারায় ধার্মিক ছিলেন তাই তিনি ব্রাহ্মন ও গো-হত্যা পাপের ভয়ে যুদ্ধ করেন নাই।[১]

মৃত্যুসম্পাদনা

১৬০৩ সনে চুখাম্‌ফার মৃত্যু হয়।

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. ভূপেন্দ্রনাথ চৌধুরী (১৯৯৫)। সোণর অসম। গুৱাহাটী: শ্রী খগেন্দ্রনারায়ণ দত্তবরুৱা; লয়ার্ছ বুক ষ্টল, পাণবজার, গুৱাহাটী। পৃষ্ঠা ৫৭, ৫৮, ৫৯ পৃষ্ঠা।