প্রধান মেনু খুলুন

চার্লস কোরিয়া

ভারতীয় স্থপতি

চার্লস কোরিয়া একজন ভারতীয় স্থপতি ও নগর পরিকল্পনাবিদ। তিনি একবিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রভাবশালী স্থপতি। স্বাধীনতা পরবর্তি সময়ে ভারতে আধুনিক স্থাপত্য প্রবর্তনের জন্য তিনি স্বীকৃত। শহুরে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর স্থাপত্য নির্মাণে সংবেদনশীলতার জন্য চার্লস কোরিয়া খ্যাত, এছাড়া স্থাপত্যে দেশীয় ও প্রথাগত পদ্ধতি-উপকরণ ব্যবহারের ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা অগ্রগণ্য।

চার্লস কোরিয়া
Charles Correa.jpg
জন্ম(১৯৩০-০৯-০১)১ সেপ্টেম্বর ১৯৩০
মৃত্যু১৬ জুন ২০১৫(2015-06-16) (বয়স ৮৪)
মুম্বাই, ভারত
জাতীয়তাভারতীয়
যেখানের শিক্ষার্থীসেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ, মুম্বাই
ইউনিভার্সিটি অফ মিশিগান
ম্যাসাচুসেট্‌স ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি
পুরস্কারপদ্মশ্রী, পদ্মবিভূষণ
ভবনসমুহজওহর কালা কেন্দ্র, ন্যাশনাল ক্র্যাফটস মিউজিয়াম, ভারত ভবন

১৯৭২ সালে চার্লস কোরিয়া পদ্মশ্রী পদক লাভ করেন। ভারত সরকার ২০০৬ সালে চার্লস কোরিয়াকে ভারতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক পদক পদ্মবিভূষণ প্রদান করে। রয়াল ইন্সটিটিউট অফ ব্রিটিশ আর্কিটেক্টস তাকে ১৯৮৪ সালে রয়্যাল গোল্ড মেডেল ফর আর্কিটেকচার পুরস্কার প্রদান করে।

প্রাথমিক জীবন ও শিক্ষাসম্পাদনা

চার্লস কোরিয়া ১৯৩০ সালের ১ সেপ্টেম্বরে ভারতের তেলাঙ্গানা রাজ্যের সিকান্দারাবাদ শহরে জন্মগ্রহণ করেন।[১][২] মুম্বাই-এর সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজে তিনি তাঁর উচ্চশিক্ষা অর্জন শুরু করেন। এরপর তিনি বোম্বে বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইউনিভার্সিটি অফ মিশিগানে পড়ালেখা করেন। ম্যাসাচুসেট্‌স ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি থেকে তিনি স্নাতোকোত্তর অর্জন করেন। ১৯৫৮ সালে মুম্বাইতে তিনি তাঁর স্থাপত্য প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন।[৩]

স্থাপত্য ও কর্মসম্পাদনা

 
গান্ধী সংগ্রহালয়, আহমেদাবাদ
 
দিল্লীতে ১৯৮৬ সালে চার্লস কোরিয়ার নকশায় নির্মিত ভারতীয় জীবন বীমা ভবন
 
জওহর কালা কেন্দ্র, জয়পুর

একবিংশ শতাব্দীর সমকালীন স্থাপত্যে চার্লস কোরিয়া অন্যতম প্রভাবশালী স্থপতি। ভারতে স্বাধীনতা পরবর্তি সময়ে স্থাপত্য চর্চায় তিনি অগ্রগণ্য ভূমিকা রেখেছেন। তাঁর বিখ্যাত স্থাপত্যের মধ্যে রয়েছে আহমেদাবাদের সাবারমতি আশ্রমে মহাত্মা গান্ধী মেমোরিয়াল মিউজিয়াম, মুম্বাই-এর কাঞ্ছনজঙ্ঘা অ্যাপার্টমেন্ট, জয়পুরের জওহর কালা কেন্দ্র, নাওয়ি মুম্বাই পরিকল্পনা, ম্যাসাচুসেট্স ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির ব্রেইন এন্ড কগনিটিভ সাইন্সেস সেন্টার, কেরালার পারুমালা চার্চ এবং সাম্প্রতিক পর্তুগালের লিসবনে চ্যাম্পালিমাড সেন্টার ফর দ্য আননোওন। চার্লস কোরিয়ার স্থাপত্যে স্থানীয় উপকরণ ও প্রথার সঙ্গতিপূর্ণ ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। স্থানীয় জলবায়ু এবং পরিবেশগত উপাদান তাঁর স্থাপত্য নির্মানে গুরুত্বপূর্ণ নির্ধারক হিসেবে কাজ করে।

তাঁর প্রথম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প ছিল মহাত্মা গান্ধী সংগ্রহালয়।[৪] এটি গুজরাট রাজ্যের আহমেদাবাদ শরের সাবারমতি আশ্রমে। এরপরে ১৯৬৭ সালে তিনি মধ্যপ্রদেশ বিধানসবা ভবনের নকশা করেন।[৫] ১৯৭৫-১৯৯০ সালের মধ্যে তিনি নয়া দিল্লীতে ন্যাশনাল ক্র্যাফটস মিউজিয়াম, ১৯৮২ সালে ভোপালে ভারত ভবন, ১৯৮৬-১৯৯২ সালে জয়পুরে জওহর কালা কেন্দ্র, ১৯৮৭-৯২ সালে নয়া দিল্লীতে ব্রিটিশ কাউন্সিল, ২০০০-২০০৫ সালে বোস্টনে এমআইটির ম্যাকগভার্ন ইন্সটিটিউট ফর ব্রেইন রিসার্চ, ২০০৪ সালে কলকাতার সল্ট লেক সিটিতে সিটি সেন্টার এবং ২০০৭-২০১০ সালে পর্তুগালের লিসবনে চ্যাম্পালিমাড সেন্টার ফর দ্য আননোওন-এর নকশা করেন।[৪]

কোরিয়া ভারতের চেন্নাইতে মাহিন্দ্র এন্ড মাহিন্দ্র লিমিটেডের গবেষণা ও উন্নয়ন কেন্দ্রও নকশা করেছেন। ১৯৭০-৭৫ পর্যন্ত তিনি নাওয়ি মুম্বাই বা নিউ বোম্বে-এর উন্নয়ন পরিকল্পনায় প্রধান স্থপতি হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন। নাওয়ি মুম্বাই বর্তমান মুম্বাই এর নিকটবর্তি একটি নতুন পরিকল্পিত নগর যেখানে প্রায় ২০ লক্ষ মানুষের আবাস ও কর্মক্ষেত্রের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ১৯৮৫ সালে প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী চার্লস কোরিয়াকে জাতীয় নগরায়ন কমিশনের চেয়ারম্যান নিযুক্ত করেন।

১৯৮৪ সালে মুম্বাইতে তিনি আরবান ডিজাইন রিসার্চ ইন্সটিটিউট প্রতিষ্ঠা করেন। এর লক্ষ্য ছিল নির্মিত পরিবেশের সুরক্ষা এবং নগরের জনগোষ্ঠীর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার উন্নয়ন পরিকল্পনা। বিগত চার দশকে কোরিয়া নগর পরিকল্পনা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে এবং উন্নয়নশীল জনগোষ্ঠীর সাশ্রয়ী আবাসন ব্যবস্থার পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছেন। ২০০৫-২০০৮ পর্যন্ত তিনি দিল্লী আরবান আর্টস কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

২০১৩ সালে রয়াল ইন্সটিটিউট অফ ব্রিটিশ আর্কিটেক্টস চার্লস কোরিয়ার কর্মজীবনের উপর ভিত্তি করে একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করে। প্রদর্শনীটির নাম ছিল “চার্লস কোরিয়া – ইন্ডিয়া’স গ্রেটেস্ট আর্কিটেক্ট”। এতে কোরিয়ার কাজ এবং স্থাপত্য ও নগর পরিকল্পনা ক্ষেত্রে কোরিয়ার কাজের প্রভাব উপস্থাপিত হয়।[৬][৭]

পুরস্কার ও পদকসম্পাদনা

  • রিবা রয়াল গোল্ড মেডেল – ১৯৮৪[৮]
  • পদ্মবিভূষণ (২০০৬) এবং পদ্মশ্রী (১৯৭২)[৯]
  • প্রিমিয়াম ইম্পেরিয়াল (১৯৯৪)
  • ৭ম আগা খান অ্যাওয়ার্ড ফর আর্কিটেকচার (১৯৯৮)
  • অস্ট্রিয়ান ডেকোরেশন ফর সাইন্স এন্ড আর্ট[১০]
  • তাঁর ম্যাকগভার্ন ইন্সটিটিউট ফর ব্রেইন রিসার্চ সম্প্রতি দ্য ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন অফ আর্কিটেক্টস গোল্ড মেডেল অর্জন করে।

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. "Charles Correa"Encyclopædia Britannica। সংগ্রহের তারিখ ৫ মার্চ ২০১৪ 
  2. Kazi Khaleed Ashraf, James Belluardo (১৯৯৮), An Architecture of Independence: The Making of Modern South Asia, Architectural League of New York, পৃষ্ঠা 33, আইএসবিএন 09663-8560-8, আইএসবিএন ৯৭৮০৯৬৬৩৮৫৬০১ 
  3. "Charles Correa, Britannica" 
  4. "Charles Correa – India's greatest architect?"। BBC News। ১৩ মে ২০১৩। সংগ্রহের তারিখ ২ জুলাই ২০১৩ 
  5. "Vidhan Bhavan, (ArchNet)"। ৮ ফেব্রুয়ারি ২০০৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৮ জুন ২০১৫ 
  6. "Master class with Charles Correa"। Mumbai Mirror। ৯ জুন ২০১৩। সংগ্রহের তারিখ ২ জুলাই ২০১৩ 
  7. "Charles Correa & Out of India Season"। RIBA। ২০১৩। ৯ জুন ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২ জুলাই ২০১৩ 
  8. "List of medal winners 1848–2008(PDF)" (PDF)। RIBA। ২ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। 
  9. "Padma Awards Directory (1954–2009)" (PDF)Ministry of Home Affairs। ১০ মে ২০১৩ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৮ জুন ২০১৫ 
  10. "Reply to a parliamentary question" (pdf) (German ভাষায়)। পৃষ্ঠা 1714। সংগ্রহের তারিখ ১ মার্চ ২০১৩ 

আরো পড়ুনসম্পাদনা

বহিঃসংযোগসম্পাদনা