চারুচন্দ্র বসু

বাঙালি স্বাধীনতা বিপ্লবী

চারুচন্দ্র বসু (ইংরেজি: Charuchandra Bose) (১৮৯০ - ১৯ মার্চ, ১৯০৯) ছিলেন ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন অন্যতম ব্যক্তিত্ব এবং অগ্নিযুগের বিপ্লবী। বিংশ শতাব্দীর প্রথম দশকে তিনি স্বদেশী আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন এবং পরে অনুশীলন সমিতির সদস্যভুক্ত হন। তিনি ছিলেন শীর্ণ, দুর্বলদেহের একজন তরুণ যার ডানহাত জন্মাবধি অসাড় ছিলো। তার পিতার নাম কেশবচন্দ্র বসু এবং জন্ম তৎকালীন খুলনা জেলার শোভনা গ্রামে।[১]

বিপ্লবী কার্যক্রমসম্পাদনা

বিশ শতকের শূন্য দশকে পুলিসের উকিল আশুতোষ বিশ্বাস বিপ্লবীদের সম্পর্কে মামলায় সরকারপক্ষে নিযুক্ত হতেন। বিপ্লবীরা তাকে হত্যা করার সংকল্প করলে চারুচন্দ্র একাজের ভার নেন। তিনি অসাড় হাতে রিভলভার বেঁধে বাঁ হাতে গুলি করে কোর্ট প্রাঙ্গণে আশু বিশ্বাসকে ১০ ফেব্রুয়ারি ১৯০৯ তারিখে হত্যা করেন এবং ঘটনাস্থলেই ধৃত হন। তার ওপর প্রচণ্ড অত্যাচার চালিয়েও পুলিস কোনো কথা আদায় করতে পারেনি। তিনি শুধু বলেছিলেনঃ "ভবিতব্য ছিলো আশু আমার হাতে নিহত হবে, আমি ফাঁসিতে মরবো, আশু দেশের শত্রু তাই হত্যা করেছি"। বিচারে তার ফাঁসির হুকুম হয় এবং ১৯ মার্চ, ১৯০৯ তারিখে আলিপুর কেন্দ্রীয় কারগারে ফাঁসি কার্যকর করা হয়।[১][২]

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. সুবোধ সেনগুপ্ত ও অঞ্জলি বসু সম্পাদিত, সংসদ বাঙালি চরিতাভিধান, প্রথম খণ্ড, সাহিত্য সংসদ, কলকাতা, দ্বিতীয় মুদ্রণঃ নভেম্বর ২০১৩, পৃষ্ঠা ২১৮, আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-৭৯৫৫-১৩৫-৬
  2. ত্রৈলোক্যনাথ চক্রবর্তী, জেলে ত্রিশ বছর, পাক-ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম, ধ্রুপদ সাহিত্যাঙ্গন, ঢাকা, ঢাকা বইমেলা ২০০৪, পৃষ্ঠা ১৭৯।

বহিঃসংযোগসম্পাদনা