চণ্ডীচরণ মুনশী

বাঙালি লেখক

চণ্ডীচরণ মুনশী অষ্টাদশ শতাব্দীতে আবির্ভূত ব্রিটিশ ভারতের একজন বাঙ্গালী লেখক, যিনি ১৮০৮ খ্রিস্টাব্দে পরলোক গমন করেন। তার জন্ম তারিখ সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায় নি তবে একটি সূত্রের অনুমান তার জন্ম ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দে।[১] তিনি ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে বাঙালা ভাষার অন্যতম অধ্যাপক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার রচিত তোতা ইতিহাস একটি উপাখ্যান যা বাঙালা গদ্য সাহিত্যের অন্যতম আদি নিদর্শন।[২][৩]

চণ্ডীচরণ মুনশী
জন্মজন্ম অজানা
মৃত্যু১৮০৮ খ্রিস্টাব্দে
পেশালেখক
জাতীয়তাভারতীয়
নাগরিকত্বব্রিটিশ ভারত

ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ স্থাপিত হয় ১৮০০ খ্রিস্টাব্দে। ১৮০১ খ্রিস্টাব্দে চালু হয় এ কলেজের বাঙালা বিভাগ। এ সময় চণ্ডীচরণ মুনশী ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। ১৮০৫ খ্রিস্টাব্দে ৪ঠা সেপ্টেম্বর তারিখে কলেজের কাউন্সিল অধিবেশনে উপস্থাপিত বাংলা-সংস্কৃত-মারাঠা ভাষার শিক্ষক তালিকায় চণ্ডীচরণ মুনশীর নাম লিপিবদ্ধ আছে। তাকে 'সার্টিফয়েড টীচার' হিসেবে উল্লেখ করা হযেছে। তার মাসিক বেতন ছিল ৩০ টাকা। চণ্ডীচরণ বিরচিত তোতা ইতিহাস এবং ভাগবদ্গীতা[৪] এ কলেজের বাঙালা শিক্ষাক্রমে পাঠ্যপুস্তক হিসেবে ব্যবহৃত হতো।[৫]

তোতা ইতিহাস প্রকৃতপক্ষে কাদির বখশ রচিত ফার্সি গল্পগ্রন্থ তুতিনামা-এর বঙ্গানুবাদ। ১৮০৪ তিনি এটি অনুবাদ করেন; এবং ১৮০৫ খ্রিস্টাব্দে তা গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। এটি মুদ্রিত হয়েছিল শ্রীরামপুর মিশন প্রেস থেকে। পরে ১৮৮৫ সালে এটি লন্ডনে পুনর্মুদ্রিত হয়েছিল।[৩]

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. সূত্রঃ হংসনারায়ণ ভট্টাচার্য্য সম্পাদিত বঙ্গ সাহিত্যাভিধান, ১৯৮৭, পৃষ্ঠা-৩২৭।
  2. সেলিনা হোসেন ও নুরুল ইসলাম সম্পাদিত; বাংলা একাডেমী চরিতাভিধান; ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৭; পৃষ্ঠা- ১৫৫।
  3. সুবোধ সেনগুপ্ত ও অঞ্জলি বসু সম্পাদিত, সংসদ বাঙালি চরিতাভিধান, প্রথম খণ্ড, সাহিত্য সংসদ, কলকাতা, নভেম্বর ২০১৩, পৃষ্ঠা ২১১, আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-৭৯৫৫-১৩৫-৬
  4. পাদটীকাঃ সংস্কৃত থেকে বাঙালায় অনূদিত
  5. তোতা ইতিহাস

বহিঃসংযোগসম্পাদনা