গেরাসিম স্তেপানোভিচ লেবেদেফ

গেরাসিম স্তেপানোভিচ লেবেদেফ, মাঝে মাঝে হেরাসিম স্তেপানোভিচ লেবেদেফ হিসেবেও উচ্চারিত হয়; (রুশ: Гера́сим Степа́нович Ле́бедев; জন্মঃ ১৭৪৯ – জুলাই ১৫, ১৮১৭) [১] ছিলেন একজন রুশ অভিযাত্রী, ভাষাবিদ, অনুবাদক, সংগীতজ্ঞ এবং লেখক।[২] এছাড়াও তিনি ছিলেন ভারতবিদ্যা বিষয়ের পণ্ডিত।[৩][৪]

জন্ম ও প্রারম্ভিক জীবনসম্পাদনা

হেরাসিম লেবেদেফের জন্ম রাশিয়ার ইউক্রেনের এক যাজক পরিবারে। পিতা স্তেফান লিয়েবেদেফ এবং মাতা পারাস্কোভিয়া লিয়েবেদেফ। সংগীতে দক্ষতার জন্য তিনি যৌবনে এক রাজপুরুষের সংস্পর্শে আসেন এবং তার সঙ্গে ঘুরতে ঘুরতে প্যারিস হয়ে লন্ডনে পৌঁছান। সেখানে তিনি ভারতীয় পণ্যসম্ভারে পূর্ণ দোকান দেখেন। এখান থেকেই এক যাত্রীবাহী জাহাজে ১৭৭৫ খ্রিস্টাব্দের ১৫ ই আগস্ট মাদ্রাজ বর্তমানে চেন্নাই পৌঁছান। এখানকার মেয়র কর্তৃক তিনি সংবর্ধিত হন এবং কয়েকটি আসরে সংগীত পরিবেশন করে কিছু অর্থ সংগ্রহ করেন। কিন্তু এখানে রক্ষণশীল সমাজে প্রবেশাধিকার না পেয়ে ১৭৮৭ খ্রিস্টাব্দে তিনি কলকাতায় আসেন। এই শহরের একমাত্র রুশ চিকিৎসকের সাহায্যে স্থানীয় সমাজে সংগীতজ্ঞরূপে প্রতিষ্ঠা পান। তার আসরের টিকিট মূল্য ছিল বারো টাকা। তিনিই প্রথম পাশ্চাত্য যন্ত্রে ভারতীয় সুর বাজিয়ে শোনান। [১]

প্রথম বাংলা নাটকের রচয়িতা ও পরিচালক গেরাসিম স্তেপানোভিচ লেবেদেফ কলকাতায় "দ্য বেঙ্গলি থিয়েটার" নামে একটি থিয়েটার গড়ে তোলেন। ২৫ নম্বর ডোমতলায় (এজরা স্ট্রীট) একটি বাড়িতে গড়ে উঠে এই থিয়েটার। দ্য ডিজগুয়িজ (The disguise) এর অনুবাদে প্রথম অনুদিত বাংলা নাটকটির নাম "সংবদল"। এটি ১৭৯৫ সালের ২৭ শে নভেম্বর প্রথম প্রদর্শিত হয়। এই সময় বিশিষ্ট ইংরেজদের জন্য মূল্যবান আসনের দু-টি থিয়েটার ছিল। লেবেডেফের সাফল্যে ঈর্ষান্বিত ইংরেজগণ প্রত্যক্ষভাবে জোসেফ ব্যাটেল নামে সিন পেন্টার ও মি হে নামে এক রাজকর্মচারীর সাহায্যে লেবেডেফের থিয়েটারে আগুন লাগিয়ে নষ্ট করে দেয়।[১]

কলকাতায় থাকাকালীন তিনি পণ্ডিত গোলক নাথ দাসের নিকট এদেশের ভাষা ও সংস্কৃতি সম্বন্ধে শিক্ষা লাভ করেন, বিশেষত বাংলা ও সংস্কৃত ভাষা ও ভারতচন্দ্র রায়ের কাব্যের সংস্পর্শে আসেন। এদেশে আসার আগেই অবশ্য তিনি কালিদাসের রচনার সাথে পরিচিত ছিলেন। তিনিই প্রথম বাংলার ব্যাকরণ নিয়ে প্রথম চিন্তাভাবনা করেন বলে ধারণা করা হয়ে থাকে। তিনি ভালো ভায়োলিন বাজাতে পারতেন।

একজন ইংরেজ মহিলা সঙ্গে প্রণয় ও ব্যর্থতা লেবেডেফের জীবনের অন্যতম বিপর্যয়। ঋণের দায়ে তাঁকে আদালতে যেতে হয়। সবশেষে ব্রিটিশ কোম্পানির কর্তৃপক্ষ তাঁকে কলকাতা ত্যাগ করতে বাধ্য করে। শেষজীবনে স্বদেশে ফিরে পররাষ্ট্র দপ্তরে কাজ করেন। রুশদেশে ভারতীয় ভাষা ও সংস্কৃতি প্রচারের জন্য তিনি সম্রাটকে পত্র দিয়েছিলেন। [১]

তার জীবনী নিয়ে মামুনুর রশীদ লেবেদেফ নামের একটি নাটক রচনা করেছেন।

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. সুবোধ সেনগুপ্ত ও অঞ্জলি বসু সম্পাদিত, সংসদ বাঙালি চরিতাভিধান, প্রথম খণ্ড, সাহিত্য সংসদ, কলকাতা, আগস্ট ২০১৬, পৃষ্ঠা ৬৮৭, আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-৭৯৫৫-১৩৫-৬
  2. Ghosh, Prodyot। "Lebedeff, Herasim (Gerasim) Steppanovich"Banglapedia। Asiatic Society of Bangladesh। সংগ্রহের তারিখ ২০০৬-১২-০৮ 
  3. Kadakin, Alexander M. (ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০০২)। "Text of the Message of the Russian Ambassador, Alexander M. Kadakin, on the Occasion of the Stone Laying Ceremony of the Russian Culture Pavilion in the International Town of Auroville (Tamilnadu, India)"Ambassador's Interviews, Speeches and Articles। The Embassy of the Russian Federation in the Republic of India। ২০০৭-০৮-০৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০০৬-১২-০৮ 
  4. "G.S. Lebedev — Founder of the Russian Indology (1749-1817)"Russian Indology: Personalities। Russian Cultural Centre, Mumbai। ২০০৭-০৮-২৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০০৬-১২-০৮ 

আরো পড়ুনসম্পাদনা