কমন জেন্ডার-দ্য ফিল্ম

কমন জেন্ডার-দ্য ফিল্ম হল ২০১২ সালের একটি বাংলাদেশী হাস্যরসাত্মক নাট্য চলচ্চিত্র। ছবিটির কাহিনী, সংলাপ, চিত্রনাট্য ও পরিচালনা করেছেন নোমান রবিন। পার্ল অ্যান্ড পেন্টাগন ফিল্ম এর ব্যানারে নির্মিত এই চলচ্চিত্রটি প্রযোজনা করেছেন মোশারফ হোসেন, সাইদুল হক জুয়েল ও অন্তু করিম। এটি বাংলাদেশের প্রথম চলচ্চিত্র যা ব্লু-রে ফরম্যাটে মুক্তি দেয়া হয়েছে।

কমন জেন্ডার-দ্য ফিল্ম
কমন জেন্ডার-দ্য ফিল্ম চলচ্চিত্রের পোস্টার.JPG
চলচ্চিত্রের বাণিজ্যিক পোস্টার
পরিচালকনোমান রবিন
প্রযোজকমোশারফ হোসেন
সাইদুল হক জুয়েল
অন্তু করিম
রচয়িতানোমান রবিন
শ্রেষ্ঠাংশে
সুরকারআরফিন রুমি
বালাম
চিত্রগ্রাহকজাহেদ নান্নু
সম্পাদকমাহাদী
পরিবেশকই আর সিনেমা
মুক্তি২২ জুন, ২০১২
দেশ বাংলাদেশ
ভাষাবাংলা

চলচ্চিত্রটি একটি হিজড়া গোষ্ঠীর সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্নার গল্প নিয়ে গড়ে উঠেছে। চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন সোহেল খান, হাসান মাসুদ, রাশেদ মামুন অপু, রোজী সিদ্দিকী, চিত্রলেখা গুহ, ডলি জহুর, সাজু খাদেম, দিলীপ চক্রবর্তী, অয়ন চৌধুরী, মানস বন্দ্যোপাধ্যায়, শহীদুল আলম সাচ্চু, সিন্ডি রোলিংসহ আরও শতাধিক মঞ্চ কর্মী।

কাহিনী সংক্ষেপসম্পাদনা

প্রতিটি শিশুর মত সাধারণ ভাবেই জন্ম হয় হিজড়া সম্প্রদায়ের। মূলত এরা পুরুষ হয়ে জন্ম নেয় এবং বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে তাদের শারীরিক পরিবর্তন ঘটে তবে তা আর দশটা সাধারণ ছেলে বা মেয়ের মত নয়। এক সময় তাদের শারীরিক গঠন পরিবার ও সমাজের কাছে প্রশ্ন দাড় করিয়ে দেয়। এদেরকে তারা কোন শ্রেণীতে রাখবে পুরুষ নাকি নারী?

একটি ধনী পরিবারে জন্ম গ্রহণ করে সুশময়। বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে যখন পরিবারের সদস্যরা বুঝতে পারে ও একজন বৃহন্নলা হতে চলেছে, তখন বাবা সুশময়কে একটি হিজড়া গোষ্ঠির কাছে পাঠিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করে। কিন্তু এতে ছিল মায়ের অসীম আর্তনাদ। হিজড়া সম্প্রদায়ের পরিবারে নতুন কোনো সদস্য যোগ হলে তারা খুব আনন্দের মধ্যে দিয়ে তাকে বরণ করে আর সৃষ্টি কর্তার কাছে নতুন সদস্যের জন্য আহার প্রদান করতে প্রার্থনা করে। সে সুশময় থেকে হয়ে যায় সুস্মিতা (সাজু খাদেম) এবং এই এলাকার হিজড়া গোষ্ঠির মাসীর (সোহেল খান) কাছে বড় হয়। একবার এই পুরো হিজড়া গোষ্ঠি একটি হিন্দু সম্প্রদায়ের বিয়ের আমন্ত্রণ পায় এবং তারা সবাই সেখানে গিয়ে নাচে গানে মাতিয়ে তোলে। সেখানে সুস্মিতার রূপে মুগ্ধ হয় সঞ্জয় (দিলীপ চক্রবর্তী) নামের এক যুবক এবং সঞ্জয় হিজড়া জেনেও সুস্মিতার সাথে বন্ধুত্ব করতে চায়।

ঘটনাক্রমে সঞ্জয় ও সুস্মিতার মধ্যে দারুন বন্ধুত্বের সৃষ্টি হয়। মোবাইলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা বলা, রিক্সায় করে গুড়ে বেড়ানো, নৌকায় চড়ে স্বপ্নের রাজ্যে হারিয়ে যাওয়া ইত্যাদি। ওদের এই বন্ধুত্বের কথা হিজড়া গোষ্ঠির সবাই জানে। আস্তে আস্তে সুস্মিতার চলাফেরা ও মন মানসিকতার অনেক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়।

শ্রেষ্ঠাংশেসম্পাদনা

নির্মাণ ইতিহাসসম্পাদনা

চলচ্চিত্রটি সম্পর্কে পরিচালক নোমান রবিনের বক্তব্য; শুধু নারী ও পুরুষই কী আশরাফুল মাখলুকাত? নারী ও পুরুষ মিলে যে আশ্চর্য আরও একটি মানুষ জাতি সৃষ্টিকর্তা সৃষ্টি করেছেন তাকে কী বলব? হিজড়া বা শিখণ্ডী। তাদের নিয়েই এই কমন জেন্ডার-দ্য ফিল্ম চলচ্চিত্রটি নির্মিত হয়েছে।[২] হিজড়া সম্প্রদায়ের কেউ মারা গেলে তাকে কবর দেওয়া যায় না, নয়তো পরিচয় গোপন করে কবর দিতে হয়। তাই এই চলচ্চিত্রের অর্জিত অর্থের পুরোটা দিয়ে তাদের জন্য একটি কবরস্থান নির্মাণ করা হবে।[৩]

জনপ্রিয় নাট্য নির্মাতা নোমান রবিন ২০১১ সালে 'কমন জেন্ডার' নামে একটি টেলিছবি নির্মাণ করেছিলেন, এটি ওই বছর কোরবানি ঈদের তৃতীয় দিন আরটিভিতে প্রচারিত হয়েছিল। তা ছিল কমন জেন্ডার-দ্য ফিল্ম চলচ্চিত্রের একটি পরীক্ষামূলক প্রযোজনা, পার্ল অ্যান্ড পেন্টাগন ফিল্মের ব্যানারে নির্মিত টেলিছবি ও চলচ্চিত্র দুটি।[৩] উভলিঙ্গ, বৃহন্নলা, শিখণ্ডী বা হিজড়া সম্প্রদায়ের জীবনযাত্রা, প্রেম-ভালোবাসা আর আনন্দ-বেদনার নানা তথ্য বিনোদনের মাধ্যমে সারা পৃথিবীর মানুষের সামনে তুলে ধরতেই এই চলচ্চিত্র। এটি নির্মাণ করা হয়েছে কিছুটা বাণিজ্যিক ছবির ধাছে যেমন; কোনো অশ্লীলতা ছাড়াই একটি আইটেম গান সহ মোট ছয়টি গান রয়েছে চলচ্চিত্রে। এছাড়া চলচ্চিত্রের গল্পের প্রয়োজনে প্রায় শতাধিক থিয়েটার কর্মী নিয়ে কাজ করা হয়েছে।

সংগীতসম্পাদনা

কমন জেন্ডার-দ্য ফিল্ম
আরফিন রুমী ও বালাম কর্তৃক অ্যালবাম
মুক্তির তারিখ২০১২
ঘরানাচলচ্চিত্রের গান
সঙ্গীত প্রকাশনীগান বাংলা

কমন জেন্ডার-দ্য ফিল্ম চলচ্চিত্রের সংগীত পরিচালনা করেছেন আরফিন রুমী ও বালাম। গীত রচনা করেছেন অনুরুপ আইচ। জননন্দিত সঙ্গীত তারকা ফেরদৌস ওয়াহিদ প্রায় এক যুগেরও বেশি সময় পর এ ছবির মাধ্যমে চলচ্চিত্রের গান করলেন। এছাড়া প্রথমবার মৌলিক গান গেয়েছেন অভিনয়শিল্পী হাসান মাসুদ। বালাম ও ন্যান্সি প্রথমবার দ্বৈত গান করেছেন এই ছবিটিতে। 'মা' শিরোনামের গান করেছেন বালাম এই প্রথম এটিতেই। এছাড়াও গেয়েছেন আরফিন রুমি, ফকির আরিফ বাউল ও সায়রা রেজা। ডিজে সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন ডিজে রাহাত।[৪]

গানের তালিকাসম্পাদনা

ট্র্যাক গান কণ্ঠশিল্পী টীকা
চাঁদ যেমন ঘোমটা দিয়ে বালাম ও ন্যান্সি
বাজারের ঢোল আরফিন রুমী
উপচে পরে প্রেমের জল সায়রা রেজা আইটেম গান
সাক্ষী আছে রব ফেরদৌস ওয়াহিদ
মাগো মা বালাম
যুগল মিলন আরিফ বাউল
উপচে পরে প্রেমের জল সায়রা রেজা ও ডিজে রাহাত ডিজে মিক্স
সাক্ষী আছে রব আরফিন রুমী ধীর
বাজারের ঢোল হাসান মাসুদ

আরো দেখুনসম্পাদনা

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

বহিঃসংযোগসম্পাদনা