কনস্টান্টিনোপল

৩৩০ থেকে ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে বিদ্যমান একটি ঐতিহাসিক শহর
(কন্সটান্টিনোপল থেকে পুনর্নির্দেশিত)

কনস্টান্টিনোপল ৩৩০ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হবার পর রোমান সাম্রাজ্যের[১] প্রকৃত রাজধানী হয়ে উঠে কনস্টান্টিনোপল। এরপর ৪৭৬ খ্রিস্টাব্দে রেভেনা এবং পশ্চিম রোমান সাম্রাজ্যের পতনের পর ডি জুর রাজধানী হয়। এটি পূর্ব রোমান সাম্রাজ্যের (বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য নামেও পরিচিত; ৩৩০-১২০৪ এবং ১২৬১-১৪৫৩), লাতিন সাম্রাজ্য (১২০৪-১২৬১), এবং উসমানীয় সাম্রাজ্য (১৪৫৩-১৯২২) এর রাজধানী ছিলো। তুরস্কের স্বাধীনতা যুদ্ধ 'র পর রাজধানী আঙ্কারা চলে আসে। ১৯৩০ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে ইস্তাম্বুল নামকরন করা হয়। বর্তমানে শহরটি তুরস্ক প্রজাতন্ত্রের বৃহত্তম শহর এবং অর্থনৈতিক কেন্দ্র (১৯২৩-বর্তমান)। কন্সটান্টিনোপল ইউরোপের অন্যতম বৃহৎ শহর। ৩২৪ সালে পশ্চিমা এবং পূর্ব রোমান সাম্রাজ্যগুলি পুনরায় একত্রিত হওয়ার পর প্রাচীন শহর বাইজেন্টিয়ামকে রোমান সাম্রাজ্যের নতুন রাজধানী হিসেবে নির্ধারন করা হয়েছিলো। এসময় সম্রাট কনস্টানটাইন দ্যা গ্রেট দ্বারা শহরটির নামকরন করা হয় নভা রোমা বা নতুন রম। ১১ মে ৩৩০ তারিখে কনস্টানতাইনকে উৎসর্গ করে এর নাম কনস্টান্টিনপল রাখা হয়। কনস্টানন্টিনোপলকে সাধারনত কেন্দ্র এবং অর্থোডক্স খ্রিস্টান সভ্যতার বাহক মনে করা হয়। ৫ম শতাব্দীর মাঝামাঝি থেকে ১৩শ শতাব্দীর প্রথম দিকে কনস্টানটিনোপল ছিলো ইউরোপের বৃহত্তম এবং ধনী শহর। শহরটি তার স্থাপত্যের মাস্টারপিস এর জন্য বিখ্যাত হয়ে ওঠে। যেমন - হাজিয়া সোফিয়া, ইস্টার্ন অর্থোডক্স চার্চের ক্যাথেড্রাল, যা একুমেনিকাল প্যাট্রিয়ার্কেটের আসন হিসেবে কাজ করেছিলো, পবিত্র ইম্পেরিয়াল প্যালেস যেখানে সম্রাটরা থাকতেন, হিপ্পড্রোম, ল্যান্ডের গল্ডেন গেট প্রাচীর এবং ঐশ্বর্যশালী অভিজাত প্রাসাদ, কনস্টান্টিনোপল বিশ্ববিদ্যালয়টি পঞ্চম শতাব্দীতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো। ১২০৪ এবং ১৪৫৩ খ্রীষ্টাব্দের আগে এখানে শৈল্পিক ও সাহিত্যের ভান্ডার ছিলো। আরো ছিলো একুমেনিকাল প্যাট্রিয়ার্কের বাড়ি এবং খ্রিস্টধর্মের পবিত্রতম ধ্বংসাবশেষ যেমন কাঁটার মুকুট এবং ট্রু ক্রস এর অভিভাবক।

কনস্টান্টিনোপল
গ্রিক: Κωνσταντινούπολις
লাতিন: Constantinopolis
কনস্টান্টিনোপলের মানচিত্র, যা বর্তমানে ইস্তাম্বুল শহরের ফাতিহ জেলার অন্তর্ভুক্ত
বিকল্প নামবাইজান্টিওন (পুরাতন গ্রীক নাম), নোভা রোমা ("নতুন রোম"), মিকলাগার্ড/মিকলাগার্থ (প্রাচীন নর্স), সারিগ্রাদ (স্লাভীয়), কুস্তান্তিনিয়া (আরবি), বেসিলেয়ুসা ("শহরের রানী"), মেগালোপোলিস ("মহান শহর"), Πόλις ("শহর"), কনস্টান্টিনিয়ে (উসমানীয় তুর্কি), ইস্তাম্বুল (তুর্কি)
অবস্থানফাতিহ, ইস্তাম্বুল, তুরস্ক
অঞ্চলমারমারা অঞ্চল
স্থানাঙ্ক৪১°০০′৫০″ উত্তর ২৮°৫৭′২০″ পূর্ব / ৪১.০১৩৮৯° উত্তর ২৮.৯৫৫৫৬° পূর্ব / 41.01389; 28.95556
ধরনসাম্রাজ্যিক শহর
যার অংশ
এলাকা
  • কনস্ট্যান্টিনীয় প্রাচীরের মধ্যে আবদ্ধ ৬ কিমি (২.৩ মা)
  • থিওডোসীয় প্রাচীরের মধ্যে আবদ্ধ ১৪ কিমি (৫.৪ মা)
ইতিহাস
নির্মাতামহান কন্সট্যান্টাইন
প্রতিষ্ঠিত১১ মে ৩৩০
সময়কালধ্রুপদী সভ্যতার পর থেকে মধ্যযুগের শেষ পর্যায়
সংস্কৃতি


নামকরণ

সম্পাদনা

কনস্টান্টিনোপলের পূর্বনাম ছিল বাইজান্টিয়াম। সম্রাট কন্সটান্টাইন যখন এখানে রোমান সাম্রাজ্যের রাজধানী সরিয়ে আনেন তখন এই শহরের নামকরণ করেন কনস্টান্টিনোপল যার অর্থ কন্সটান্টাইনের শহর। পরবর্তীতে ফাতিহ সুলতান মুহাম্মদ কন্স্টান্টিনোপল জয় করে, এর নাম পরিবর্তন করে রাখেন "ইস্তাম্বুল" (মতান্তরের "ইসলামবুল", অর্থাৎ ইসলামের শহর) এ নামটিই এখনো ব্যবহৃত হচ্ছে।

ইতিহাস

সম্পাদনা

সম্রাট কন্সটান্টাইনের সময়ের বহু আগে থেকেই এই শহর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কারণ এটি ছিল ভূমধ্যসাগরকৃষ্ণসাগরের মধ্যে সংযোগ স্থাপনকারী বসফরাস প্রণালীর তীরে অবস্থিত। ধারণা করা হয় খ্রিস্টপূর্ব সপ্তম শতকে মেগাররা এখানে চালসেডন(Chalcedon) নামে একটি শহর স্থাপন করে। এটি অবস্থিত ছিল বসফরাসের অপর পারে। পরবর্তীতে মেগারদের এক গোত্রপ্রধান বাইজাস এর নামে বাইজান্টিয়াম শহরটি স্থাপিত হয়। এই বিষয়ে হেরোডোটাস থেকে শুরু করে অনেক গ্রিক ও রোমান ইতিহাসবিদ অনেক তথ্য রেখে গেছেন।

দীর্ঘকাল ধরে এই শহরের মূল গুরুত্ব ছিল বাণিজ্যবন্দর হিসেবে। দ্বিতীয় শতকের শেষ দিকে সম্রাট সেপ্তিমিয়াস সেভারাস তার প্রতিদ্বন্দ্বী পেসিনিয়াস নিগারকে হারানোর পর এই শহরের অনেক ক্ষতি সাধন করেন। কন্সটান্টাইন যখন রোমান সাম্রাজ্যের নতুন রাজধানীর জন্য জায়গা অনুসন্ধান করছিলেন তখন শুরুতে আরও অন্যান্য শহরের কথাও চিন্তা করেছিলেন। ৩২৪ খ্রিষ্টাব্দেও এটি গ্রামের মত ছিল। অনেকটা হঠাৎ করেই তিনি এখানে রাজধানী স্থাপন করেন। খ্রিষ্টান ঐতিহাসিকগণ অলৌকিক প্রভাবের কথা বলেছেন।

রাজধানী হবার পরই এই শহরের অভুতপুরব উন্নতি ঘটে। চতুর্থ শতকের শুরুতে এখানে দুই লক্ষাধিক লোক বাস করত। পূর্ব রোমান সাম্রাজ্য যতদিন গুরুত্বপূর্ণ ছিল ততদিন এই শহরও জৌলুশময় ছিল। কিন্তু ১২০৪ সালে চতুর্থ ক্রুসেডের সময় ক্রুসেডাররা এই শহরের ব্যাপক ক্ষতি করে। পরবর্তী ২০০ বছর এই শহর অধঃপতনের দিকেই ছিল। তবে খ্রিষ্টান ধর্মের একটি প্রধান শহর হিসেবে এর গুরুত্ব সবসময়ই ছিল। এই শহরের প্রতিরক্ষা পদ্ধতিও ছিল অত্যন্ত দৃঢ়। তাই আরব ও তুর্কিরা বহু শতাব্দী ধরে চেষ্টা করেও এই শহর জয় করতে পারেন নি। মুহাম্মাদ(সাঃ) এর ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী ১৪৫৩ সালে ফাতিহ সুলতান মুহাম্মদ এই শহরটি জয় করার মাধ্যমে ১১০০ বছরের খ্রিষ্টীয় রোমান বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের পতন ঘটে এবং তিনি এটিকে উসমানীয় সাম্রাজ্যের রাজধানী হিসেবে ঘোষণা করেন।[২][১]

গ্যালারি

সম্পাদনা

তথ্যসূত্র

সম্পাদনা
  1. "রোমান সাম্রাজ্য"উইকিপিডিয়া। ২০২৩-০২-০২। 
  2. Alexander, Vasiliev। History of the Byzantine Empire, 324-1453 

বহিঃসংযোগ

সম্পাদনা