ইন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়

বাঙালি লেখক

ইন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় (ইংরেজি:  : Indranath Bandyopadhyay ) ( জন্ম- ১৪ মে ,১৮৪৯ - মৃত্যু- ২৩ মার্চ , ১৯১১) এক বাঙালি কবি, সাহিত্যিক ও আইনজীবী । [১]

ইন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
জন্ম১৪ মে ১৮৪৯
পাণ্ডুগ্রাম, পূর্ব বর্ধমান , পশ্চিমবঙ্গ
মৃত্যু২৩ মার্চ ১৯১১ (বয়স ৬২)
পেশাকবি ও সাহিত্যিক
পিতা-মাতাবামাচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় (পিতা)

জন্ম ও শিক্ষা জীবনসম্পাদনা

ইন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্ম পূর্ব বর্ধমান জেলার পাণ্ডুগ্রামে, মাতুলালয়ে। আদি বাড়ি ছিল ১৭ কি.মি. দূরের গঙ্গাটিকুরি গ্রামে। পিতা বামাচরণ বিহারের পূর্ণিয়াতে ওকালতি করতেন। ইন্দ্রনাথের পড়াশোনা শুরু হয় পিতার কর্মস্থল পূর্ণিয়ার গভর্নমেন্ট স্কুলে । সেখানে স্কুলপাঠ্যে বাংলা ছিল না। তার নয় বৎসর বয়সে পিতার মৃত্যুতে তাঁর পরিবার গঙ্গাটিকুরি এসে থাকতে শুরু করেন । তিনি ভর্তি হলেন কৃষ্ণনগর কলেজিয়েট স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণীতে । এরপর বীরভূমের গভর্নমেন্ট স্কুলে পড়ার পর ভাগলপুরে গভর্নমেন্ট স্কুল থেকে এন্ট্রান্স পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে ভর্তি হন। কিন্তু স্বাস্থ্য ও পারিবারিক কারণে সেখান থেকে হুগলি কলেজ হয়ে কলকাতার ক্যাথিড্রাল মিশন কলেজ থেকে বি.এ.পাশ করেন ১৮৬৯ খ্রিস্টাব্দে ।[২]

কর্মজীবনসম্পাদনা

কিছুকাল বীরভূমের হেতমপুর ও বর্ধমানের ওকড়সা স্কুলে প্রধানশিক্ষকের কাজ করেন। ১৮৭১ খ্রিস্টাব্দে বি.এল. পাশ করে কলকাতা হাইকোর্ট সহ পূর্ণিয়া দিনাজপুর বর্ধমান প্রভৃতি জেলা কোর্টে ওকালতি করেন। কিছু দিনের জন্য মুনসেফের কাজও করেছেন।

সাহিত্যকর্মসম্পাদনা

ইন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সাহিত্যকর্ম শুরু করেন মোটামুটি ১৮৭০ খ্রিস্টাব্দে । তাঁর প্রথম ব্যঙ্গ রচনা 'উৎকৃষ্ট কাব্যম' । বাংলা সাহিত্যের অন্যতম হাস্যকৌতুক ও ব্যঙ্গ রচনাকার তিনি । 'পঞ্চানন্দ' নামে একটি মাসিক পত্রিকা প্রকাশ করেন ১৮৭৮ খ্রিস্টাব্দের ২৬ শে অক্টোবর । বিলেতি আচারের অন্ধ অনুকরণ, প্রগতি ও সংস্কৃতির নামে ইংরেজ সেবার বিরুদ্ধে তীব্র ব্যঙ্গ বিদ্রুপ করতেন 'পঞ্চানন্দ' এর মাধ্যমে । তিনি সেসময় 'পাঁচুঠাকুর' বা 'পঞ্চানন্দ' নামে প্রতিষ্ঠিত হন। বঙ্কিমের ভাষায় বাংলার জীবন ও সাহিত্যাকাশে তিনি 'হেলির ধূমকেতু' । পাঁচটি সর্গে সম্মূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত তাঁর 'ভারত উদ্ধার' অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যঙ্গকাব্য। 'পঞ্চানন্দ' পত্রিকাটি পরে অবশ্য 'বঙ্গবাসী' পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায় । বঙ্গবাসীতে রচিত তাঁর চুটকিগুলি পাঁচটি খণ্ডের 'পাঁচু ঠাকুর' গ্রন্থমালায় সংকলিত হয়েছে । এছাড়াও 'বঙ্গবাসী' পত্রিকায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধ লিখেছিলেন। 'বাংলা ভাষার সংস্কার' শীর্ষক এক প্রবন্ধে সংস্কৃতের ছাঁচে ঢেলে বাংলা ভাষার ব্যাকরণ প্রণয়নের অসঙ্গতি বোঝাতে চেয়েছিলেন। [১] ইন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিভিন্ন বিষয়ের উপর লেখা 'বঙ্গবাসী'ছাড়াও 'নবজীবন' ও অক্ষয়চন্দ্র সরকার সম্পাদিত 'সাধারণী' পত্রিকাতেও প্রকাশিত হত।

রচনাবলীসম্পাদনা

  • 'উৎকৃষ্ট কাব্যম' (১৮৭০) ব্যঙ্গকাব্য
  • 'কল্পতরু' (১৮৭৪) উপন্যাস
  • 'ভারত উদ্ধার' ( ১৮৭৮) ব্যঙ্গকাব্য
  • 'ক্ষুদিরাম' (১৮৮৮) উপন্যাস
  • 'হাতে হাতে ফল' (১৮৮২)
  • 'পাঁচু ঠাকুর' (১৯০৯)

মৃত্যুসম্পাদনা

ইন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯১১ খ্রিস্টাব্দের ২৩ শে মার্চ ৬২ বয়সে প্রয়াত হন ।

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. সুবোধচন্দ্র সেনগুপ্ত ও অঞ্জলি বসু সম্পাদিত, সংসদ বাঙালি চরিতাভিধান, প্রথম খণ্ড, সাহিত্য সংসদ, কলকাতা, আগস্ট ২০১৬, পৃষ্ঠা ৮৯, আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-৭৯৫৫-১৩৫-৬
  2. শিশিরকুমার দাশ সম্পাদিত,সংসদ বাংলা সাহিত্য সঙ্গী,২০০৩