আল-আমীন মিশন

একটি শিক্ষা সংস্কৃতি ও সমাজসেবী প্রতিষ্ঠান

আল-আমীন মিশন ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের হাওড়া জেলার খলতপুর গ্রামে অবস্থিত একটি আবাসিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ১৯৮৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি এখন রাজ্যের ১৭ টি জেলা জুড়ে ৫৮ টি শাখা ছড়িয়ে আছে; এই রাজ্য ছাড়াও, আসাম, ত্রিপুরা, ঝাড়খণ্ড,মহারাষ্ট্রএর মতো অন্যান্য রাজ্যের মধ্যে ইহা বিস্তৃত। এখন এতে ১২ হাজার আবাসিক ছাত্রছাত্রী আছে। এখান থেকে প্রায় ২০ হাজার শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে।

আল-আমীন মিশন
ঠিকানা
খলতপুর,উদয়নারায়ণপুর, হাওড়া, পশ্চিমবঙ্গ
সিটি অফিস: ৫৩ বি, এলিয়ট রোড, পার্ক সার্কাস, কলকাতা - ৭০০০১৬

উদয়নারায়ণপুর
, , ,
তথ্য
প্রতিষ্ঠাকাল১৯৮৬; ৩৫ বছর আগে (1986)
প্রতিষ্ঠাতাএম নুরুল ইসলাম
বিদ্যালয় বোর্ডপশ্চিমবঙ্গ মধ্য শিক্ষা পর্ষদ, পশ্চিমবঙ্গ উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ
ভাষাবাংলা, ইংরেজি
প্রকাশনাআল-আমীন বার্তা
আল-আমীন নিউজলেটার
ওয়েবসাইট

ইতিহাসসম্পাদনা

এম নুরুল ইসলাম, প্রতিষ্ঠানের সাধারন সম্পাদক, ১৯৭৬ সালে দশম শ্রেণীতে অধ্যয়নরত অবস্থায় তিনি খলতপুর জুনিয়র হাই মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৮৪ সালের মে মাসে তিনি ইন্সটিটিউট অফ ইসলামিক কালচার" শুরু করেন। ১৯৮৬ সালে মুষ্টির চাল নিয়ে হাই মাদ্রাসা ভবনেই আবাসিক ছাত্রাবাস শুরু করেন। ১৯৮৭ -র  জানুয়ারী মাসে এটি নামান্তর করে হয় আল-আমীন মিশন[১]

কার্যক্রমসম্পাদনা

একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হওয়ার পাশাপাশি আল-আমীন মিশন মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য দাতব্য কাজ করে। এটি বেকার (Unemployme) মুসলমানদের লোন দিয়ে সহায়তা করেছে এবং অন্যান্য সম্প্রদায়ের অভাবী শিক্ষার্থীদের সহায়তার জন্য বৃত্তি কার্যক্রম রয়েছে।

১৯ মে ২০১৫-তে, আল-আমীন মিশন বঙ্গভূষণ পুরস্কার পেয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে আল-আমিন মিশন সুবিধাবঞ্চিত বাচ্চাদের উচ্চতর পেশায় ও দারিদ্র্যের বাইরে নিয়ে যাওয়ার জন্য জাতীয় নিউজ (টাইমস অফ ইন্ডিয়া,দ্য টেলিগ্রাফ ইত্যাদি ) এর কেন্দ্রবিন্দু।

তহবিলসম্পাদনা

আল আমিন অ্যাকাডেমি জীবন পুর উত্তর 24 পরগনা জেলার দেগঙ্গা থানার অন্তর্গত জীবন পুর গ্রামে অবস্থিত ছোট্ট একটি শাখা । এখানে 100 জন এর কম ছাত্র পড়াশোনা করে । এখনকার প্রধান শিক্ষক হলেন শেখ নিজামউদ্দিন আহমেদ।

শাখা[২]সম্পাদনা

এর মোট 68 টি শাখা আছে।

আল-আমীন মিশনসম্পাদনা

1.আল-আমীন মিশন, খলতপুর, উদয়নারায়ণপুর, হাওড়া

2.আল-আমীন মিশন, বেলপুকুর, দক্ষিণ দিনাজপুর।

3.আল-আমীন মিশন, পাথরচাপড়ি, বীরভূম (হজরত দাতা মাহবুব শাহ ওয়ালীর মাজারের কাছে।)

4.আল-আমীন মিশন, ধুলিয়ান, মুর্শিদাবাদ।

5.আল-আমিন মিশন , পাঁচুর, কলকাতা

আল-আমীন মিশন ট্রাস্টসম্পাদনা

6.আল-আমীন মিশন একাডেমি, বেলডাঙা,মুর্শিদাবাদ

7.আল-আমীন মিশন একাডেমি, নয়াবাজ, হাওড়া

8.আল-আমীন মিশন একাডেমি, খলিসানী, হাওড়া

9.আল-আমীন মিশন একাডেমি, উলুবেড়িয়া, হাওড়া

10. আল-আমীন মিশন একাডেমি, নিউটাউন, উত্তর 24 পরগণা

11. আল-আমীন মিশন একাডেমি, হাসনেচা, দক্ষিণ 24 পরগনা

12.আল-আমীন মিশন একাডেমি, সূর্যপুর, দক্ষিণ 24 পরগনা

13.আল-আমীন মিশন একাডেমি, চাপড়া, নদীয়া

14.আল-আমীন মিশন একাডেমি, মালদা

15. আল-আমীন মিশন একাডেমি, মেমারি, পূর্ব বর্ধমান

16.আল-আমীন মিশন একাডেমি, জলপাইগুড়ি

17. আল-আমীন মিশন একাডেমী, মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর

18. আল-আমীন মিশন একাডেমী, উজুনিয়া, মুর্শিদাবাদ

19.আল-আমীন মিশন একাডেমি, রামপুরহাট, বীরভূম

20.আল-আমীন মিশন একাডেমি, ঝাড়বাড়ী

21. আল-আমীন মিশন একাডেমি, হেমতাবাদ

22. আল-আমীন মিশন একাডেমি, শিলিগুড়ি

23. আল-আমীন মিশন একাডেমি, খড়গপুর

24. আল-আমীন মিশন একাডেমি, রতনপুর

25. আল-আমীন মিশন একাডেমি, ভবতা

26.আল-আমীন মিশন একাডেমি, রাঁচি

27.আল-আমীন মিশন একাডেমি, হাউলি

28.আল-আমীন মিশন একাডেমী, নিউ টাউন

29.পলাশি গার্লস হোস্টেল, নদিয়া

30.চিচুরিয়া হাই স্কুল বয়েজ হোস্টেল

31.সুধাকরপুর হাই স্কুল বয়েজ হোস্টেল

32.আল-আমীন মিশন একাডেমি, ত্রিপুরা

33.আল-আমীন মিশন একাডেমি, পাটনা

34.আল-আমীন মিশন একাডেমি, মরিচা

35.আল-আমীন মিশন একাডেমি, কোচবিহার

36.আল-আমীন মিশন একাডেমী, বারুইপুর

37.আল-আমীন মিশন একাডেমি, উমরপুর

38.আল-আমীন মিশন একাডেমি, লোহাপুর

39.আল-আমীন মিশন একাডেমি, ইন্দোর

আল-আমীন শিক্ষা কাউন্সিলসম্পাদনা

40.আল-আমীন একাডেমী, বারুইপুর(গার্লস)

41.আল-আমীন একাডেমি, পাইকপাড়ী

42. আল-আমীন একাডেমি, বাবনান

43.আল-আমীন একাডেমী, দুবরাজপুর

44.আল-আমীন একাডেমী, সুগড়

45.আল-আমীন একাডেমি, মহম্মদপুর

46.আল-আমীন একাডেমী, উলুবেড়িয়া

47.আল-আমীন একাডেমি, জয়নগর

48.আল-আমীন একাডেমী, বর্ধমান

49.আল-আমীন একাডেমী, উস্তি

50.আল-আমীন একাডেমি, পাপুরি

51.আল-আমীন একাডেমি, কালেজোড়া

52.আল-আমীন একাডেমী, বাঁকুড়া

53.আল-হেদায়েত মিশন স্কুল, রানীহাটি

54.আল-আমীন একাডেমী, জীবনপুর

55.আল-আমীন একাডেমি, বৈষ্ণবনগর

56.আল-আমীন একাডেমি, তালদি

57.আল-আমীন একাডেমি, ভাঙ্গার

58.আল-আমীন একাডেমি, গালসি

59.আল-আমীন একাডেমি, পশ্চিম দুর্গাপুর

60.আল-আমীন একাডেমী, হাসামুদিপুর

61.আল-আমীন একাডেমি, হরিহরপাড়া

62.আল-আমীন একাডেমি, হেমতাবাদ

63.আল-আমীন একাডেমী, বীরপুর

64.আল-আমীন একাডেমি, নওদা

65.আল-আমীন একাডেমি, পান্ডুয়া

66.আল-আমীন একাডেমী, সুরজাপুর

67.আল-আমীন একাডেমি, কোটবার

68.আল-আমীন একাডেমী, বারুইপুর

ব্যাবস্থাপনাসম্পাদনা

মিশনের প্রধান ক্যাম্পাস, আল-আমিন মিশন একটি আবাসিক প্রতিষ্ঠান। প্রধান ক্যাম্পাস খলতপুর অন্যান্য ক্যাম্পাসগুলিকে পরিচালনা করে। পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে আল আমীন প্রায় 50 টি স্কুল পরিচালনা করে। তাদের বেশিরভাগ সরাসরি আল আমীন মিশন দরা চালিত হয় এবং প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে অবস্থিত কয়েকটি উন্নত পরিচালনা ও সেবার জন্য স্থানীয় অলাভজনক প্রতিষ্ঠান দ্বারা পরিচালিত হয়। সেই একাডেমী / স্কুলকে "Collaboration with Al Ameen Mission"(আল আমিন মিশনের সহযোগিতায়) হিসাবে ডাকা হয়। তারা আল আমীন মিশনের সঙ্গে অভিন্ন।

শিক্ষক-শিক্ষিকাগণসম্পাদনা

আল-আমিন মিশনে বেশ কয়েকটি স্থায়ী শিক্ষকের পাশাপাশি কয়েকটি নামী স্কুল এবং কলেজের অতিথি শিক্ষক রয়েছে। অতিথি শিক্ষকেরা পিছিয়ে পড়া সমাজের শিক্ষার জন্য তাদের আগ্রহের কারণে, পিছিয়ে পড়া সংখ্যালঘুদের প্রতিভা লালন করতে আল-আমিনের দীর্ঘমেয়াদী সহযোগী হয়ে ওঠেন। পশ্চিমবঙ্গে উচ্চমাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞানের মানসম্পন্ন পাঠ্যপুস্তক হিসাবে খ্যাতিমান প্রফেসর মৃণাল কান্তি দোয়ারি আল-আমীন শিক্ষার্থীদের অন্যতম প্রিয় শিক্ষক হিসাবে রয়েছেন। আল-আমিনের বেশিরভাগ স্থায়ী শিক্ষকের আল-আমিনের স্বর্ণযুগের সময় 2000-2006 ( যখন প্রতিষ্ঠানটি ডানা মেলতে আরম্ভ করেছে) অভাব ছিল। কিন্তু যারা ছিলেন তাদের ত্যাগ নিঃসন্দেহে উল্লেখযোগ্য ছিল। এবং ছাত্রদের প্রশংসাপত্রগুলি উচ্চস্বরে তাই বলে। আল-আমীন শিক্ষার্থীদের সাফল্য কেবল বিদ্যালয়ের সাফল্য নয়, সাম্প্রতিক সময়ে বাঙালি মুসলমানদের মধ্যে সর্বাধিক পরিচিত শিক্ষাগত আন্দোলনে শিক্ষকদের নিষ্ঠার এক চিরস্থায়ী বিজয়। তবে, এমন কিছু শিক্ষক রয়েছেন যা শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে অস্পষ্ট সমর্থনের জন্য উল্লেখ করা দরকার, তা সে শিক্ষামূলক, সংবেদনশীল, অনুপ্রেরণামূলক বা প্রেরণাদায়ক হোক। ডাঃ মোসরফ হোসেন, আমির হোসেন, হারুন হালদার, মদত আলী, এস জাকারিয়া, সৈয়দ শহীদ-উল ইসলাম, রবিয়াল হোসেন খান, প্রফেসর সুসিল কুমার দাস, এসকে মোঃ আইয়ামিন, মৃদুল আহমাদ, পারভেজ আলম, মোঃ নুর আলম, ডাঃ গাহুল আমেন, ডা। খান, কাজী মতিউর জামাল( KMZ) পৃষ্ঠপোষক ছিল। অনেকের বক্তব্য এই শিক্ষকরা না থাকলে আল-আমিনকে আলাদাভাবে জানা হত। এবং অনেকাংশে ড.মোসরাফ হোসেনকে জনপ্রিয় রায় দিয়ে নিরাপদে শিক্ষার্থীদের রোল মডেল হিসাবে ধরে নেওয়া যেতে পারে। ডাঃ হোসেন এবং সৈয়দ শহীদ-উল ইসলাম বাঙালি মুসলমানদের মধ্যে শিক্ষামূলক আন্দোলনের নতুন অধ্যায় শুরু করতে 2006 এর পরেই আল-আমিন ত্যাগ করেছেন।

উজ্জ্বল প্রাক্তনীসম্পাদনা

আল আমিন মিশন থেকে এখনও পর্যন্ত প্রায় 20,000 শিক্ষার্থী বেরিয়েছেন এবং তাদের বেশিরভাগই ভারত তথা বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে মানবসেবায় নিযুক্ত।

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. "Al-Ameen Mission"alameenmission.org। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০২-২৩ 
  2. "Al-Ameen Mission"alameenmission.org। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০২-২৩ 

বহিঃসংযোগসম্পাদনা