আব্দুর রহমান বাবা

আব্দুর রহমান বাবা (জন্ম ১৬৫৩ -মৃত্যু ১৭১১) (পশতু: عبدالرحمان بابا),রহমান বাবা নামেও পরিচিত, পাকিস্তানের একজন স্বনামধন্য পশতু সুফি দরবেশ এবং কবি ছিলেন। তিনি এবং তার সমসাময়িক কবি খোশাল খান খাট্টাক আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের পশতু সাহিত্যেরে জনপ্রিয় কবিদের অন্যতম বলে বিবেচনা করা হয়।[১]

আব্দুর রহমান বাবা
পশতু: عبدالرحمان بابا
Rahman baba - pukhtoogle.jpg
রহমান বাবার প্রতিকৃতি
জন্ম১৬৫৩ খ্রিস্টাব্দ (১০৬৪ হিজরী)
বাহাদুর কেলাই, হাজারখাওয়ানি, পেশোয়ার, মুঘল সাম্রাজ্য, বর্তমানে খাইবার পাখতুনখোয়া, পাকিস্তান
মৃত্যু১৭১১ খ্রিস্টাব্দ, ১১২৩ হিজরী (বয়স ৫৭-৫৮)
পেশোয়ার
সমাধিপেশোয়ার
পরিচিতির কারণপেশোয়ার সাহিত্য, সুফিবাদ
উল্লেখযোগ্য কর্ম
দিওয়ান
আদি নিবাসপেশোয়ার
পিতা-মাতাআব্দুস সাত্তার ঘরিয়াখেল (পিতা)

তার কাব্যে স্থানীয় সংস্কৃতির একটি রহস্যমূলক শান্তিপূর্ণ দিক বর্ণীত হয়েছে। [২]

বংশগতিসম্পাদনা

আব্দুর রহমানের বংশ পরম্পরা হল পশতু সম্প্রদায়ভুক্ত ঘোরয়াখেল যা মোহাম্মদী বংশের সাথে মিলিত হয়েছে। রহমানের পূর্বপুরুষ ত্রয়োদশ শতাব্দী থেকে ষোড়শ শতাব্দীরর মধ্যে হিন্দু কুশ পর্বত থেকে পেশেয়ার উপাত্যকায় নিজেদের বসতি স্থায়ীভাবে স্থানান্তর করে। তিনি পেশোয়ারের উপকন্ঠে একটি ছোট বসতিতে বেড়ে উঠতে থাকেন।[৩] রহমান বাবা ঐ এলাকায় আপাতদৃষ্টিতে শান্তিতে ববসবাস করতে থাকেন, এবং তিনি কখনো তার সময়কার চলা আন্তঃজাতিগত সংঘর্ষে নিজের সম্পৃক্ততারর কথা উল্লেখ করেননি। তার পরিবারের ইতিহাস সম্পর্কে বিভিন্ন ধরনের মতবাদ রয়েছে।[৪] অনেক মতামত প্রদানকারীরা একমত হয়েছেন যে তার পরিবার তাার গ্রামের প্রধান (দলপতি) ছিলেন। [৪] রহমান বাবা খুবই জ্ঞানী ব্যক্তি হওয়া সত্ত্বেও তিনি সাদাসিধে জীবন যাপনে অভ্যস্ত ছিলেন। তিনি নিজে দাবি করতেন, “স্বর্ণ পাত্রে যদিও পান করার জ্য সুমিষ্ট পানীয় থাকে, তবুও আমি আমার ঐ মাটির পাত্রের পানিকেই শ্রেয় বিবেচনা করি”। [৫]

আব্দুর রহমান বাবা ১৭১৫ খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যু বরণ করেন। তার সমাধি(মাজার) পেশোয়ারের দক্ষিণ উপকন্ঠে (রিং রোড হাজার খওয়ানি) অবস্থিত। তারর মাজার একটি বড় গম্বুজ বিশিষ্ট বড় কক্ষ। কবি এবং আধ্যাত্ববাদে বিশ্বাসীদের জজন্য তার মাজার তার জনপ্রিয় কবিতাগুচ্ছ সংগ্রহ ও পাঠের জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্থান হিসেবে বিবেচিত হয়। প্রতি বছরের এপ্রিলে তার ওরছ মহাসমারোহ পালিত হয়ে থাকে।

তরিকতের প্রেক্ষাপটসম্পাদনা

রহমান বাবা একজন সাধক ছিলেন কিন্তু তিনি কার হাতে বায়াত দান করেছিলেন বা কোন তরিকার অনুসারী ছিলেন সেটা নিয়ে বিভিন্ন ধরনের মতবাদ রয়েছে যার কোন দালিলিক সত্যতা পাওয়া যায়নি। সাবির অনুমান করেন যে রহমান নকশবন্দিয়া তরিকার অনুসারী ছিলেন, সাথে সাথে তিনি পীর বাবার সন্তানদের নিকট সুফিবাদের সশিক্ষা গ্রহণ করেন। শিমেল এবং সাদ আহমেদ বক্স তাকে চিশতিয়া তরিকার হিসেবে নিযুক্ত করেন। আকাব, নিজে কাদেরিয়া তরিকার খলিফা (প্রতিনিধি), তাকে কাদেরিয়া তরিকার খলিফা (প্রতিনিধি) বলে

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. Sampson, Robert. "Abdu'l Rahmān Bābā: The Legacy of His Poetry in Expressing Divergent Islamic Theology in Pushtūn Society." M.A. Thesis, University of Nottingham, 2003.
  2. Sampson, Robert. "The Poetry of Rahman Baba: The Gentle Side of Pushtun Consciousness." Central Asia 52 (2003): 213–228.
  3. Rahman Baba, Abdu'l, Robert Sampson, and Momin Khan. The Poetry of Rahman Baba: Poet of the Pukhtuns. Translated by Robert Sampson and Momin Khan. Peshawar: University Book Agency, 2005.
  4. RB-P ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ৩ এপ্রিল ২০০৯ তারিখে.
  5. D 135/9.