আফতাব আলী (রাজনীতিবিদ)

বাংলাদেশী সমাজ সংস্কারক, রাজনীতিবিদ ও উদ্যোক্তা

আফতাব আলী (১৯০৭-১৯৭২) বিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকের বাঙালি সমাজ সংস্কারক, ব্রিটিশ ভারতীয় এবং পূর্ব পাকিস্তানের রাজনীতিবিদ ও উদ্যোক্তা ছিলেন। তার এই কাজটি হাজার হাজার ব্রিটিশ এশিয়ান লস্করকে ব্রিটেনে অভিবাসন, বসতি স্থাপন এবং কর্মসংস্থান খুঁজে পেতে সহায়তা করেছে বলে স্বীকৃত। তিনি পূর্ব পাকিস্তানের প্রতিনিধি হিসাবে পাকিস্তানের তৃতীয় জাতীয় পরিষদের সদস্য ও পূর্ব পাকিস্তানের প্রথম শ্রমমন্ত্রী ছিলেন।

আফতাব আলী
জন্ম(১৯০৭-০১-২০)২০ জানুয়ারি ১৯০৭
কাঠালখাইর, সিলেট, আসাম, ব্রিটিশ ভারত
(বর্তমান বাংলাদেশ)
মৃত্যু২২ ডিসেম্বর ১৯৭২(1972-12-22) (বয়স ৬৫)
স্মৃতিস্তম্ভআফতাব টেরেস, লন্ডন, ই১
জাতীয়তাব্রিটিশ বাংলাদেশী
নাগরিকত্বযুক্তরাজ্য
পেশাব্যবসায়ী, সমাজসেবক, রাজনীতিবিদ
পরিচিতির কারণসর্বভারতীয় সীমেন ফেডারেশন প্রতিষ্ঠা
রাজনৈতিক দলঅল ইন্ডিয়া ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেস
আন্দোলনইন্ডিয়ান সীমেন ইউনিয়ন
পিতা-মাতা
  • আবু আফতাব আলী (পিতা)
  • উম্মে আফতাব আলী (মাতা)

জন্ম ও প্রাথমিক জীবনসম্পাদনা

আফতাব আলী ২০ জানুয়ারি ১৯০৭ সালে ব্রিটিশ ভারতের উত্তর-পূর্ব সীমান্তের সিলেট জেলার কাঠালখাইর গ্রামে বাঙালি মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।[১] তার পিতা সিলেটের একজন ব্যবসায়ী ছিলেন। কলকাতার জলপথে বহু সংখ্যক নৌকো ছিল। ১৮ বছর বয়সে আলি দশম শ্রেণিতে পড়া কালে সিলেট সরকারি স্কুল ছেড়ে পালিয়ে কলকাতায় চলে যান। সেখানে তিনি সিলেটে জন্মগ্রহণকারী ভারতবর্ষের বিখ্যাত জাতীয়তাবাদী নেতা বাগ্মী বিপিন চন্দ্র পালের রাজনৈতিক কর্মীতে হিসেবে যোগ দেন।[২]

কর্মজীবনসম্পাদনা

১৯২০ এর দশকে তিনি ব্রিটিশ রাজের নাবিক ছিলেন এবং কর্মসংস্থানের সন্ধানে লস্কর হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে জাহাজে চাকরি নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। তবে কয়েক বছর পরে তিনি বাংলায় ফিরে আসেন।[৩]

এই অভিজ্ঞতা দক্ষিণ এশীয় লস্করের অধিকারের জন্য তার সামাজিক কাজের ভিত্তি তৈরি করে। তখন তিনি দক্ষিণ এশীয় লস্করগুলির খারাপ পরিস্থিতি দেখেছিলেন। [৪] ১৯২৫ সালে আলি কলকাতার ইন্ডিয়ান সিমন ইউনিয়নে যোগ দেন এবং শেষ পর্যন্ত সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হন। ১৯৩৭ সালের জানুয়ারিতে আলি সমস্ত ইউনিয়নকে (যেমন ইন্ডিয়ান কোয়ার্টারমাস্টার ইউনিয়ন, বেঙ্গল মেরিনার্স ইউনিয়ন, সেমেনস ওয়েলফেয়ার লিগ অফ ইন্ডিয়া এবং করাচি সেমেনস ইউনিয়ন) সর্বভারতীয় সীমেন ফেডারেশন নামে পরিচিত একটি বৃহৎ ফেডারেশনের অধীনে একত্রিত করেন। [৫] ১৯৩৭ সালের ভারতীয় প্রাদেশিক নির্বাচনের পরে বঙ্গীয় আইনসভায় যোগদান করেন।

রাজনৈতিক জীবনসম্পাদনা

আফতাব আলী পাকিস্তানের তৃতীয় জাতীয় পরিষদের সদস্য ছিলেন।[৬] ১৯৫০ এবং ১৯৬০-এর দশকে তিনি পূর্ব পাকিস্তানের একজন অন্যতম রাজনীতিবিদ হিসেবে ভূমিকা পালন করেন। তিনি পূর্ব পাকিস্তানের প্রথম শ্রমমন্ত্রী হন। তখন তিনি সিলেটের মিরবক্সটুলায় থাকতেন।[৭]

মৃত্যুসম্পাদনা

আলি লন্ডনে থাকাকালীন ২২ ডিসেম্বর ১৯২২ সালে মৃত্যুবরণ করেন। তাকে ব্রুকউড কবরস্থানে দাফন করা হয়। [৮] ১৯৯৫ সালে টেন্ট স্ট্রিটে (ব্র্যাডি স্ট্রিট, পূর্ব লন্ডনের বাইরে) একটি আবাসন নির্মিত হয়েছিল যা আফতাব টেরেস নামে নামকরণ করা হয়।[৯]

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. "Aftab Ali – Making Britain"Open University 
  2. Hossain, Ashfaque। "Ali, Aftab"Banglapedia: National Encyclopedia of BangladeshAsiatic Society of Bangladesh 
  3. Jerry Bentley; Renate Bridenthal (৩০ নভেম্বর ২০১৬)। Seascapes: Maritime Histories, Littoral Cultures, and Transoceanic ExchangesUniversity of Hawaii। পৃষ্ঠা 197। 
  4. "Aftab Ali – Making Britain"Open University 
  5. "All-India Seamen's Federation – Making Britain"Open University 
  6. "LIST OF MEMBERS OF THE 3RD NATIONAL ASSEMBLY OF PAKISTAN FROM 1962-1964" (PDF)na.gov.pk। সংগ্রহের তারিখ ৬ এপ্রিল ২০২১ 
  7. "List of Members of the 3rd National Assembly of Pakistan from 1962-1964" (PDF)। পৃষ্ঠা 2। 
  8. Ullah, Ansar Ahmed; Eversley, John (২০১০)। Bengalis in London's East End (PDF)। Swadhinata Trust। আইএসবিএন 978-0-9565745-0-3 
  9. "The Bengali East End – Histories of life and work in Tower Hamlets" (PDF)Tower Hamlets