আনোয়ারা (উপন্যাস)

মোহাম্মদ নজিবর রহমান রচিত ১৯১৪ সালে প্রকাশিত বাংলা উপন্যাস

আনোয়ারা বাঙ্গালী ঔপন্যাসিক মোহাম্মদ নজিবর রহমান সাহিত্যরত্ন রচিত একটি কালজয়ী সামাজিক উপন্যাস। এটি তার রচিত প্রথম ও সর্বাধিক সার্থক উপন্যাস।[১] এটি ১৯১৪ সালের ১৫ জুলাই (১৩২১ বঙ্গাব্দে) কলকাতা থেকে সর্বপ্রথম প্রকাশিত হয়। বাঙালি মুসলমান সমাজে মীর মশাররফ হোসেন রচিত “বিষাদ সিন্ধু”র পর এটিই সর্বাধিক পঠিত ও জনপ্রিয় উপন্যাস। ২০১৪ সালে এ উপন্যাসের শতবর্ষ পূর্তি পালন করা হয়।[২][৩] এই উপন্যাসে সপ্তাদশ শতাব্দীতে গ্রামীণ বাঙালি মধ্যবিত্ত মুসলমান সমাজের সামাজিক ও পারিবারিক জীবনের চিত্র ফুটে উঠে।

আনোয়ারা
আনোয়ারা (২০১২).jpg
অ্যাডর্ন পাবলিকেশন থেকে প্রকাশিত উপন্যাসের প্রচ্ছদ
লেখকমোহাম্মদ নজিবর রহমান
মূল শিরোনামআনোয়ারা
দেশবাংলাদেশ
ভাষাবাংলা
ধরনসামাজিক উপন্যাস
প্রকাশিত
  • ১৯১৪ (কলকাতা)
  • ১৯৮৮ (আনন্দ প্রকাশন, ঢাকা)
  • ২০০০ (বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র, ঢাকা)
  • ২০০৫ (নবরাগ প্রকাশনী)
  • ২০১২ (অ্যাডর্ন পাবলিকেশন)
  • ২০১৩ (বাঁধন পাবলিকেশন্স, ঢাকা)
  • ব্র্যাক প্রকাশনা
  • বর্ণবিচিত্রা
  • আলেয়া বুক ডিপো
মিডিয়া ধরনমুদ্রিত গ্রন্থ
আইএসবিএন978-984-20-0119-2
পরবর্তী বইপ্রেমের সমাধি 

চরিত্রসমূহসম্পাদনা

  • আনোয়ারা
  • হামীদা
  • নূর ইসলাম
  • উকিল সাহেব
  • দাদীমা
  • গোলাপজান(আনোয়ারার সত্ মা)
  • সালেহা
  • সালেহার মা

গ্রহণযোগ্যতাসম্পাদনা

আনোয়ারা উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯১৪ সনে। ১৯৫৬ সালে ‘আনোয়ারা’ সম্পর্কে ড. মুহম্মদ আবদুল হাইসৈয়দ আলী আহসান বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত (আধুনিক যুগ) এ বলেছেন,

“জনপ্রিয়তা দিয়ে যদি কোন বইয়ের বিচার করতে হয়, তাহলে মোহাম্মদ নজিবর রহমান রচিত ‘আনোয়ারা’র দাবিই সর্বাগ্রে বিবেচ্য। ১৯১১ থেকে ১৪ সালের মধ্যে এ বইটি প্রথম প্রকাশিত হয়। ১৯৪৯ সালে এ বইটির ত্রয়োবিংশতি সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে এবং এ যাবৎ ‘আনোয়ারা’র দেড়লক্ষ কপি নিঃশেষিত হয়েছে।”[৪]

১৯৬১ সালে (বাংলা ১৩৬৮ সনের চৈত্র মাসে) এর সাতাশতম সংস্করণ প্রকাশিত হয় এবং ঐ সময় পর্যন্ত এর সাড়ে পাঁচ লক্ষ কপি বিক্রয় হয় বলে জানা যায়। [৫] কলকাতা ও ঢাকা থেকে এ পর্যন্ত এ উপন্যাসের ৬০টিরও বেশি সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে। [২][৩][৬] ‘আনোয়ারা' এক সময় পাঠ্য-তালিকাভুক্ত ছিল। [৩][৫]

নজিবর রহমান সাহিত্যরত্ন তাঁর উপন্যাসে তাঁর সমকালীন জীবন ও সমাজকে যথাযথভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। সে সময়কার মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা, স্বপ্ন-কল্পনা ও স্খলন-পতনকে তিনি বাস্তবসম্মতভাবে রূপায়িত করতে সচেষ্ট হয়েছেন। তাছাড়া মানবজীবনের কতগুলো চিরায়ত মূল্যবোধ যেমন-প্রেম, ন্যায়পরায়ণতা ও মানুষের প্রতি মানুষের মমত্ববোধ ইত্যাদি তাঁর লেখায় যথাযথভাবে ফুটে উঠেছে। এসব কারণেই তাঁর রচনা সেসময়ে যেমন ব্যাপকভাবে সমাদৃত ও জনপ্রিয়তা লাভ করেছে, তেমনি তা চিরকালীন মানুষের কাছেও প্রশংসিত হয়েছে, বিশেষত তাঁর রচিত ‘আনোয়ারা' উপন্যাস বাংলা সাহিত্যে ক্লাসিক মর্যাদা পেয়েছে। [৭]

পরিশিষ্টসম্পাদনা

১৯১৭- ১৯১৮ সালের মধ্যে ‘আনোয়ারা' উপন্যাসের পরিশিষ্ট বা সিকুয়্যাল হিসাবে 'প্রেমের সমাধি' প্রকাশিত হয়। [৮][৯] ১৯৬৩ সালে (বাংলা ১৩৭০ বঙ্গাব্দে) এর উনিশতম সংস্করণ প্রকাশিত হয়। আনোয়ারার মত এটিও ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে।

রূপায়ণসম্পাদনা

চলচ্চিত্রসম্পাদনা

১৯৬৭ সালে প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার ও সাহিত্যিক জহির রায়হান এ উপন্যাস অবলম্বনে একই নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।[৩] প্রযোজনা করেছেন ইফতেখারুল আলম। চলচ্চিত্রটিতে প্রধান চরিত্রসমূহে অভিনয় করেন রাজ্জাক, সূচন্দা, বেবী জামান, রুবিনা, রানী সরকার, আমজাদ হোসেন প্রমুখ।

টেলিভিশনসম্পাদনা

বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ১৯৮৭ সালে এ উপন্যাসের ধারাবাহিক নাট্যরূপ সম্প্রচার করে।[৩]

আরো দেখুনসম্পাদনা

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. "সাহিত্যরত্ন সকাশে-শেষ : নোট অভ ডিসেন্ট"। ৬ ফেব্রুয়ারি ২০১০। ৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৫ ডিসেম্বর ২০১৪ 
  2. "আনোয়ারা উপন্যাস প্রকাশের আজ শতবর্ষপূর্তি"। সংগ্রহের তারিখ ৪ ডিসেম্বর ২০১৪ 
  3. "শতবর্ষে আনোয়ারা"। ২১ মার্চ ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৪ ডিসেম্বর ২০১৪ 
  4. "উৎসব: স্মৃতি ও বাস্তবতা'"। সংগ্রহের তারিখ ৪ ডিসেম্বর ২০১৪ 
  5. বুলবুল ইসলাম। আনোয়ারা : প্রাসঙ্গিক ইতিহাস 
  6. "'আনোয়ারা' উপন্যাসের শতবর্ষ পূর্তি"। ১৫ জুলাই ২০১০। সংগ্রহের তারিখ ৫ ডিসেম্বর ২০১৪ 
  7. "অমর কথাশিল্পী মোহাম্মদ নজিবর রহমান"। ৪ মার্চ ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৪ ডিসেম্বর ২০১৪ 
  8. "কথা সাহিত্যিক নজিবর রহমান সাহিত্যরত্ন"। সাপ্তাহিক সোনার বাংলা। সংগ্রহের তারিখ ৪ ডিসেম্বর ২০১৪ 
  9. মুহাম্মদ মনজুর হোসেন খান (২৪ ডিসেম্বর ২০১০)। "নজিবর রহমান সাহিত্যরত্ন : জীবন ও কর্ম"দৈনিক সংগ্রাম। সংগ্রহের তারিখ ৫ ডিসেম্বর ২০১৪ [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]