আনকা

আরবী পুরানে উল্লেখিত পাখি

আনকা (আরবি: عَنْقآء‎‎) বা আনকা মোগরেব (আরবি: عَنْقآء مُغْرِب‎‎)[১] আরব্য পুরাণের একটি রহস্যময়, কাল্পনিক বা দুর্লভ স্ত্রীপক্ষী যা অনেক দূরে উড়ে যায় এবং অনেক যুগ পর একবার দেখা দেয়। যদিও বলা হয়ে থাকে যে এই পাখিকে সূর্য যেখানে অস্ত যায় সেই স্থানে পাওয়া যায়।[১]

আজায়বুল মখলুকাত কিতাবে আনকা পক্ষীর চিত্র

ব্যুৎপত্তিসম্পাদনা

আরবি "আনকা" শব্দটি "আ'নাক" (أعنق) শব্দের স্ত্রীলিঙ্গ। "আ'নাক"-এর অর্থ "দীর্ঘ গলদেশ (লম্বা গলা) বিশিষ্ট" অথবা "যার গলা লম্বা ও মোটা"। এর মাধ্যমে বুঝা যায় যে এটি বক, সারস বা মানিকজোড়-জাতীয় পাখি। আবার এও বুঝা যায় যে এটি পৃথু বলিষ্ঠ গলদেশ বিশিষ্ট ঈগল, চিল বা বাজ-জাতীয় পাখি।

"মোগরেব" বা "মুগরিব" (مغرب) শব্দটির একাধিক অর্থ রয়েছে, যেমন "অচেনা, বিদেশাগত, দূরবর্তী, অদ্ভুত, পশ্চিম বা সূর্যাস্ত ("মাগরেব" বা "মাগরিব" শব্দের সাথে সম্পর্কিত), অজানা, মানবহীন" এবং "শুক্ল, ভোর" যার দ্বারা প্রকাশ পায় প্রাণীটির সঙ্গে জড়িত ধাঁধাঁ, রহস্যময়তা ও অবাস্তবতা।

বর্ণনাসম্পাদনা

বর্ণিত আছে আনকা খুবই সুদর্শন ও চমকপ্রদ বর্ণময় পালকবিশিষ্ট - যার আছে লম্বা গলা, চারটি পাখা এবং সব ধরনের প্রাণীর সঙ্গে মিল।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] এর গলায় রয়েছে শ্বেত বর্ণের সরু পালক রাশি।[২]

কথিত আছে যে আনকা পক্ষীকে আল্লাহ্‌ সৃষ্টি করেছিলেন পরিপূর্ণ রূপে কিন্তু এটিকে পৃথিবীর ওপর একটি আজাব বা উপদ্রব হয়ে যাবার কারণে মেরে ফেলা হয়।[৩][৪] জাকারিয়া কাজউইনী তার "আজায়েবুল মখলুকাত ওয়া গরায়েবুল মওজুদাত" গ্রন্থে আনকা পক্ষী সম্পর্কে একথা লিখেছেনঃ "[এই পাখি] কোহেকাফে (কোহকাফ বা কোকাফ) নিঃসঙ্গে বসবাসকারী পাখিদের জ্ঞাতিভাই" এবং "[এটি] একটি জ্ঞানী পাখি যার রয়েছে যুগের পর যুগের অর্জিত অভিজ্ঞতা। এটি নীতিগত উপদেশ ও অনুযোগও দেয়"।[৫] কাজউইনী আরও বলেন যে আনকা ১৭০০ বছর বাঁচে ও ৫০০ বছর বয়সে ডিম পাড়ে। ডিম থেকে বাচ্চা ফোটার পর তা ভিতরেই থাকে ও ১২৫ বছর পর বের হয়।[৫]

আনকা পাখির সাথে পারসিক পুরাণের সীমোরগ পাখির তুলনা করা হয়। ইসলামী স্বর্ণযুগে দুটি পাখিকে এক ধরা হত। আরব্য রজনীর সিন্দাবাদের কাহিনীতে উল্লেখ্যিত রোখ পাখি হয়তোবা এই আনকা পাখিরই একটি রূপ।

আরও দেখুনসম্পাদনা

তথ্যসুত্রসম্পাদনা

  1. Lane, Edward William (১৮৬৩)। Arabic-English Lexicon। London: Cosimo Classics। পৃষ্ঠা 2177। আইএসবিএন 9781616408985। সংগ্রহের তারিখ ৩ অক্টোবর ২০১৯ 
  2. Lane, Edward William (১৮৬৩)। Arabic-English Lexicon। London: Cosimo Classics। পৃষ্ঠা 2244। আইএসবিএন 9781616408985। সংগ্রহের তারিখ ৩ অক্টোবর ২০১৯ 
  3. "Phoenix (mythological bird)"Encyclopedia Britannica (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৩ অক্টোবর ২০১৯ 
  4. Abi Fadel, Marwan। "Honouring the gods in the classical Mediterranean realm and on its fringes - The phoenix in Arab-Muslim sources"hemed.univ-lemans.fr 
  5. Qazwīnī, Zakarīyā Ibn-Muḥammad al- (১৮৪৯)। Kosmographie: ¬Die Wunder der Schöpfung (আরবি ভাষায়)। Dieterich। সংগ্রহের তারিখ ৩ অক্টোবর ২০১৯