আচেহ রাজ্য জাদুঘর (ইংরেজি: Aceh State Museum, ইন্দোনেশিয়ান: Indonesian Museum Negeri Aceh) জনপ্রিয় হলো আচেহ জাদুঘর বা বান্দা আচেহ জাদুঘর নামে। এটি ইন্দোনেশিয়ার আচেহ প্রদেশের রাজধানী বান্দা আচেহতে অবস্থিত। এটি ইন্দোনেশিয়ার প্রাচীনতম জাদুঘরগুলির মধ্যে একটি।

আচেহ জাদুঘর
Museum Aceh
Museum Aceh.JPG
আচেহ জাদুঘর, ঐতিহ্যবাহী পুরাতন বিল্ডিং (নির্মান ১৯১৪) এবং নতুন বিল্ডিং (নির্মান ১৯৭৪)
স্থাপিত৩১ আগস্ট, ১৯১৫
অবস্থানসুলতান আলাউদ্দীন মেহমুদসাই রোড, বান্দা আচেহ ২৩২৪১
স্থানাঙ্ক৫°৩২′৫৫″ উত্তর ৯৫°১৯′১৪″ পূর্ব / ৫.৫৪৮৫৮১° উত্তর ৯৫.৩২০৬৪২° পূর্ব / 5.548581; 95.320642স্থানাঙ্ক: ৫°৩২′৫৫″ উত্তর ৯৫°১৯′১৪″ পূর্ব / ৫.৫৪৮৫৮১° উত্তর ৯৫.৩২০৬৪২° পূর্ব / 5.548581; 95.320642
ধরনEthnographic museum
ওয়েবসাইটmuseum.acehprov.go.id

ইতিহাসসম্পাদনা

ঔপনিবেশিক সময়কালসম্পাদনা

 
ঔপনিবেশিক কোয়েতারাডজা সিটির বিশ শতকের গোড়ার দিকে আচেহ জাদুঘর।

আচেহ জাদুঘরের মূল বিল্ডিংটি ছিল ঐতিহ্যবাহী আচেহনিজ স্টেজ হাউস(আচেহনিজ রুমোহ আচেহ)এর আকারে।

এই ভবন মূলত ইন্দোনেশিয়ার জাভা দ্বীপের সেমারাংয়ে অবস্থিত ঔপনিবেশিক এক্সিবিশন আচেহ পটমণ্ডপ হিসাবে ব্যবহৃত হয় ১৩ আগস্ট থেকে ১৫ নভেম্বর ১৯১৪ সাল পর্যন্ত।[১] তবে আসল উদ্দেশ্য ছিল ঘরটি ভেঙে নেদারল্যান্ডসে স্থানান্তরিত করা।

প্রথম প্রদর্শনী ছিল আচেহনিজ শিল্পকর্ম নিয়ে। তার বেশিরভাগই ছিল ফ্রেডরিখ স্টেমেসাসের ব্যক্তিগত সংগ্রহ। যে ১৯১৫ সালে আচেহ জাদুঘরের প্রথম তত্ত্বাবধায়কে পরিণত হয়। এই প্রদর্শনীর সময় আচেহ প্যাভিলিয়ন সেরা প্যাভিলিয়নে পরিণত হয়েছিল। এই সাফল্যের কারণেই স্টেমেসাস আচেহের নাগরিক এবং সামরিক গভর্নরকে প্রস্তাব করেছিল আচেহ প্যাভিলিয়নটিকে যেন ফিরিয়েে এনে আচেহ জাদুঘর হিসাবে ব্যবহার করা হয়।

 
পাচলিমা পোলেমের সাথে এখানে দেখা হয়েছে আচেহ জাদুঘরের প্রথম কিউরেটর ফ্রেডরিখ স্টেমেসাস।

ভবনটি আচেহ কোয়েতারাজায় (বর্তমান বান্দা আচেহ) ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ১৯১৫ সালের ৩১ আগস্ট থেকে কোয়োতারাজায় আনুষ্ঠানিকভাবে এই জাদুঘর খোলা হয় যার প্রথম কিউরেটার হিসাবে ছিলেন ফ্রেডরিখ স্টেমেসাস। ১৯৩৩ সাল পর্যন্ত যাদুঘরের কিউরেটর ছিলেন ফ্রেডরিখ স্টেমেসাস। [২][৩]

অবসর গ্রহণের পরে স্টেমেসাস তার ব্যক্তিগত সংগ্রহের ১,৩০০ নৃতাত্ত্বিক বস্তুগুলি আমস্টারডামের উপনিবেশ ইনস্টিটিউটে বিক্রি করেছিলেন, যা এখন ট্রপেন মিউজিয়াম। এই সংগ্রহে স্বর্ণের গহনা, আচেনিজ অস্ত্র, তাবিজ, ফটোগ্রাফ এবং প্রতিদিনের বাসন-কোসনসহ আচেহ নিদর্শনগুলির অনেক কিছু ছিল। ট্রপেন মিউজিয়ামের কাছে সর্বাধিক বিক্রি হওয়া জিনিস হলো টিউকু উমরের ব্যক্তিগত কোট। [২][৪]

স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়কালসম্পাদনা

 
আচেনিস ঐতিহ্যবাহী বাড়ি

ইন্দোনেশিয়ার স্বাধীনতার পরে যাদুঘরটি আচেহ আঞ্চলিক সরকারের সম্পত্তি হয়ে ওঠে। ১৯৬৯ সালে, টেকু হামজাহ বেন্দাহারার উদ্যোগে আচেহ জাদুঘরটি পুরানো স্থান (ব্ল্যাং প্যাডাং) থেকে সুলতান আলাউদ্দীন মেহমুদসাই রোডে বর্তমান স্থানে স্থানান্তরিত করা হয়। [৩]

১৯৭৪ সালে জাদুঘরটি পুনর্বাসনের জন্য একটি তহবিল গঠন করা হয়। তহবিলটি মূলত প্যাভিলিয়ন ভবনটির সংস্কার এবং জাদুঘর কমপ্লেক্সের জন্য একটি নতুন বিল্ডিং নির্মাণ করতে ব্যবহৃত হয়েছিল। এই নতুন ভবনে স্থায়ী প্রদর্শনী, একটি কনফারেন্স হল, একটি পরীক্ষাগার, একটি গ্রন্থাগার এবং একটি অফিস রয়েছে। ফান্ডটি নতুন উপদান সংগ্রহ এবং এই সম্পর্কিত গবেষণার জন্য ব্যবহৃত হয়েছিল। [৩]

১ সেপ্টেম্বর ১৯৮০সালে আচেহ জাদুঘরটি আনুষ্ঠানিকভাবে আচেহ রাজ্য জাদুঘর (ইন্দোনেশিয়ান জাদুঘর নেজেরি আচেহ) নামে একটি প্রাদেশিক জাদুঘর হিসেবে তৈরি করা হয়েছিল। আনুষ্ঠানিকভাবে এর উদ্বোধন করেছিলেন তৎকালীন শিক্ষাসংস্কৃতি মন্ত্রী ডা. দাউদ ইউসুফ। [৩]

২০০৪ সালেে ঐতিহাসিক রুমোহ আচেহ ২০০৪ সালের ভূমিকম্প ও সুনামির ধ্বংস থেকে বেঁচে গিয়ে ছিল।

রুমোহ আচেহসম্পাদনা

রুমোহ আচেহ একটি সাধারণ আচেহনিজ চিরাচরিত স্টেজ হাউজ। যার নির্মানের প্রধান উপাদান হলো কাঠ। ঘরটিতে তিনটি কক্ষ রয়েছে, সামনের কক্ষ (রোয়াং দেপান), মাঝখানের কক্ষ (তাঙ্গাই) এবং পিছনের কক্ষ (সেরেমু লিকুত)। মাঝখানের কক্ষটি প্রায় ৫০-৭৫ সেমি পিছনের এবং সামনের কক্ষের চেয়ে উচ্চতর। [৫]

সংগ্রহসম্পাদনা

আমেস্টার্ডামের ট্রপেন মিউজিয়ামে আচেহ জাদুঘরের অনেক মূল সংগ্রহ রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়েছে। এর মধ্যে সর্বাধিক বিখ্যাত হলো টেকু উমরের ব্যক্তিগত কোট।

এছাড়া আচেহ জাদুঘরে আচেহনিজ সম্পর্কিত প্রত্নতাত্ত্বিক আইটেম, আচেহের উদ্ভিদ এবং প্রাণি, এথনোগ্রাফিক আইটেমস, পুরাতন পাণ্ডুলিপি, বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পাথর এবং খনিজদ্রব্য, আচেহনিজ সিরামিক, আচের রাজ্যের মুদ্রা, সিল এবং ঐতিহাসিক চিত্রগুলি সংগ্রহ করা হয়েছে।

আরো দেখুনসম্পাদনা

  • জাকার্তায় ঐপনিবেশিক ভবন এবং কাঠামোর তালিকা।[৬]
  • ইন্দোনেশিয়ার জাদুঘর এবং সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের তালিকা। [৭]

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. Heel, M.G. van (১৯১৪)। Gedenkboek van de Koloniale Tentoonstelling in Semarang 20 Augustus-22 November 1914। Drukkerij Mercurius (twee delen)। 
  2. A.A.J.T. Stammeshaus (১৯৭৭)। Eens en voor altijd Atjeh. Uit de nagelaten memoires van F.W. Stammeshaus। Uitgeverij Centraal Venster। 
  3. "Museum Aceh"2010। Museum Aceh। ফেব্রুয়ারি ২, ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০১৩ 
  4. Kempees, J.C.J (১৯০৫)। De Tocht van overste van Daalen door de Gajo-, Alas- en Bataklanden van 8 Februari tot 23 Juli 1904। J.C. Dalmeijer। 
  5. "lestariheritage.net - This website is for sale! - lestariheritage Resources and Information."lestariheritage.net। ৩০ ডিসেম্বর ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৭ মে ২০২০ 
  6. "List of museums and cultural institutions in Indonesia - Wikiwand"www.wikiwand.com। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৫-০৭ 
  7. https://en.wikipedia.org/wiki/List_of_museums_and_cultural_institutions_in_Indonesia