অল ইন্ডিয়া সুন্নি কনফারেন্স

অল ইন্ডিয়া সুন্নি কনফারেন্স (হিন্দি: आल इन्डिया सुन्नी कांफ्रेंस, উর্দু: آل انڈیا سنی کانفرنس ) ব্রিটিশ ভারতের আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের একটি রাজনৈতিক সংগঠন যার অধীনে অনেকগুলো সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছিলো। ১৯২৫ সালে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ধর্মনিরপেক্ষ ভারতীয় জাতীয়তাবাদের প্রেক্ষাপটে সম্মেলনটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। পীর জামাত আলী শাহ, মাওলানা নঈম উদ্দিন মুরাদাবাদী, মোস্তফা রেজা খান কাদেরী, আমজাদ আলী আজমী, মাওলানা আবদুল হামিদ খান কাদেরীমোহাম্মদ আবদুল গফুর হাযারাভী সহ বেরেলীর ব্যক্তিত্বের নেতৃত্বে ভারতের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি পরিবর্তন করে। [১][২] ১৯২৫ সালের ১৭, ১৮ ও ১৯ মার্চ মুরাদাবাদে দলটির প্রথম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর দলটির পুনঃ নামকরণ করে রাখা হয় জমিয়তে উলামায়ে পাকিস্তান

প্রতিষ্ঠা সম্পাদনা

জামিয়া নাঈমিয়ায় সভায় বেশ কয়েকজন সুন্নি ওলামা উপস্থিত ছিলেন, ১৯২৫ সালের মার্চের ১৭-১৯ তারিখ মুরাদাবাদে জামিয়াত-এ-আলিয়া-আল মার্কাজিয়া নামে একটি সংগঠন গঠন করেন যা সাধারণত অল ইন্ডিয়া সুন্নি সম্মেলন (এআইএসসি) নামে পরিচিত।[৩] উদ্বোধনী অধিবেশনে পীর জামাত আলী শাহ সভাপতি ও সভা আহ্বায়ক, নায়েবে আমীর হিসেবে সহ-সভাপতি মোহাম্মদ আবদুল গফুর হাজারভী ও মাওলানা নঈম উদ্দীন মুরাদাবাদীকে নাজিম-ই-আলা (সাধারণ সম্পাদক) হিসাবে নির্বাচিত করা হয়।

উদ্দেশ্য সম্পাদনা

এআইএসসি (AISC) এর মূল লক্ষ্য ছিল ভারতে এক প্ল্যাটফর্মে সুন্নি সংখ্যাগরিষ্ঠতা এবং অন্যদের মধ্যে তাদের সামাজিক, শিক্ষাগত ও রাজনৈতিক উন্নয়নের জন্য কাজ করা।[৪][৫]

অল ইন্ডিয়া সেশন সম্পাদনা

  • ১৯২৫ সালে "প্রথম অল ইন্ডিয়া সুন্নি সম্মেলন"-এ ভারতবর্ষ থেকে তিনশত ওলামা-মাশায়েখ উপস্থিত ছিলেন। এআইএসসি মুসলিম সমাজে ইসলামবিরোধী রীতিনীতি কীভাবে সামনে উপনীত হয়েছিল এবং কীভাবে এসব দূর করা যাবে, মুসলমানদের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের এবং ইসলাম প্রচারে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের নেতাদের ভূমিকা ও কাজের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কাজ করেছিল। এছাড়াও, এটি মুসলমানদের জন্য আধুনিক শিক্ষা অর্জনের প্রয়োজনীয়তার উপরও জোর দিয়েছিল। [৬][৭]
  • জামাত আলী শাহের সভাপতিত্বে ১৯৩৫ সালের অক্টোবরে বদায়ুনে দ্বিতীয় অল ইন্ডিয়া সুন্নি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। তিনি পুনরায় সংগঠনটির সভাপতি নির্বাচিত হন। ওলামা ও সাধারণ মুসলমানদের মধ্যে ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা এবং শহীদ গঞ্জ মসজিদ আন্দোলনে ওলামাদের ভূমিকা তুলে ধরেন। আরবে ইবনে সৌদ এর নীতির সমালোচনা করার সময়, সম্মেলনে মুসলমানদের পবিত্র ও পূণ্যবান স্থানগুলির প্রতি সম্মান জানানোর দাবি করেছিল। [৬][৭]
  • তৃতীয় অল ইন্ডিয়া সুন্নি সম্মেলন ১৯৪৬ সালের ২৭-৩০ এপ্রিল বেনারসে সৈয়দ জামাত আলী শাহের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যাতে বিপুল সংখ্যক লোকের উপস্থিতি ছিল। ১৯৪৬ সালের ৩০ এপ্রিল বেনারস অধিবেশনে নিম্নোক্ত প্রস্তাবটি পাস হয়েছিল। অল ইন্ডিয়া সুন্নি সম্মেলনের অধিবেশনে পাকিস্তানের দাবিকে পুরোপুরি সমর্থন দেওয়া হয় এবং ঘোষণা করেছিল যে বেরলভী আন্দোলনের অন্তর্ভুক্ত ওলামা ও মাশাইখরা ইসলামী সরকার প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করবে।[৬][৭][৮]

তথ্যসূত্র সম্পাদনা

  1. "Muslim Organisations in the Twentieth Century"google.co.in 
  2. "Pakistan"google.co.in 
  3. "Sufis and Salafis in the Contemporary Age"google.co.in 
  4. "Pakistan"google.co.in 
  5. "Sufi Heirs of the Prophet"google.co.in 
  6. David 1988
  7. "Muslim Organisations in the Twentieth Century"google.co.in 
  8. Arthur F. Buehler (জানুয়ারি ১৯৯৮)। Sufi Heirs of the Prophet: The Indian Naqshbandiyya and the Rise of the Mediating Sufi Shaykh। Univ of South Carolina Press। পৃষ্ঠা 213–। আইএসবিএন 978-1-57003-201-1 

বহিঃসংযোগ সম্পাদনা