কালা-ই-জঙ্গি

আফগানিস্তানের দূর্গ

কালা-ই-জাঙ্গি (দারি/ পশতু: قلعهِ جنگی) আফগানিস্তানের উত্তরাঞ্চলের শহর মাজার-ই-শরীফের নিকটে অবস্থিত, উনিশ শতকে নির্মিত দুর্গ। দুর্গটি ২০০১ সালে তালিবান বিদ্রোহের সূচনাকারী, রক্তাক্ত কালা-ই-জঙ্গির যুদ্ধের জন্য বেশি পরিচিত। এ যুদ্ধে সিআইএ এজেন্ট জনি "মাইক" স্প্যান সহ কমপক্ষে ৪৭০ জন নিহত হয়েছিল। এটি আফগানিস্তানে ২০০১ সালে শুরু হওয়া যুদ্ধের প্রারম্ভিক সময়ে উত্তরাঞ্চলীয় জোটের জেনারেল আবদুল রশিদ দোস্তমের সামরিক সদর ও সেনা গ্যারিসন হিসাবে ব্যবহার করা হয়েছিল।

কালা-ই-জঙ্গি
قلعهِ جنگی
মাজার-ই-শরিফআফগানিস্তান
সাইটের ইতিহাস
নির্মিত১৮৮৯
উপকরণকাদামাটি, খড়, কাঠের গুড়ি
যুদ্ধকালা-ই-জঙ্গির যুদ্ধ, ২০০১

ইতিহাস সম্পাদনা

 
কালা-ই-জঙ্গিতে টহলরত মার্কিন সেনা, ২০১৩

দ্বিতীয় ইঙ্গ-আফগান যুদ্ধের পর আফগানরা ব্রিটিশদের সম্ভাব্য আক্রমণের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষার জন্য ১৮৮৯ সালে দুর্গটি তৈরি করেছিল। ১২ বছর ধরে ১৮,০০০ শ্রমিক এটি নির্মাণ করেছিল।[১] ১৯৯৪ থেকে ২০০১ পর্যন্ত বেশিরভাগ সময় দুর্গটি তালিবানদের দখলে ছিল। ১৯৯৭ সালে উত্তরাঞ্চলীয় জোটের আবদুল রশীদ দোস্তুম ২০,০০০ মিলিশিয়া নিয়ে দুর্গটি সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য দখলে রেখেছিলেন।[১]

বর্ণনা সম্পাদনা

কালা-ই-জঙ্গি কাঠের গুড়ি, কাদামাটি এবং খড় দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছিল। ২০০১ সালের পরিমাপ অনুযায়ী দুর্গটির দৈর্ঘ্য ৫৫০ মিটার(৬০০ গজ) এবং প্রস্থ ছিল ২৭০ মিটার (৩০০ গজ)। দুর্গের প্রতি কোণে ৮০ফুট(২৪ মিটার) উচ্চ এবং ১৫০ ফুট (৪৬ মি)* বিস্তৃত বুরুজ আছে। বার্ষিক ৪ ইঞ্চি (১০০ মিমি) বৃষ্টিপাতের কারণে মাটির তৈরী দুর্গটি ক্ষয় হতে রক্ষা পেয়েছে।[১] দুর্গটি মূলত একটি প্রাচীরযুক্ত শহর ছিল, এটির উত্তর এবং দক্ষিণ অংশ সমানভাবে ৮০ ফুট (২৪ মি) প্রাচীর দিয়ে বিভক্ত।[১] দুর্গসীমার ভিতরে সোনার গম্বুজযুক্ত মসজিদ এবং ১৯৮০ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের দখলে থাকার সময় তৈরি করা ('পিঙ্ক হাউজ' নামে পরিচিত) চিকিৎসাকেন্দ্র আছে।[১]

আরো দেখুন সম্পাদনা

তথ্যসূত্র সম্পাদনা

  1. Stanton, Doug (২০১৮)। 12 Strong (previously published as "Horse Soldiers"Pocket Booksআইএসবিএন 978-1-5011-7995-2