হেডহান্টারস (চলচ্চিত্র)

হেডহান্টারস ( নরওয়েজীয়: Hodejegerne ) জো নেসবো ২০০৮ সালের একই নামের উপন্যাস অবলম্বনে ২০১১ সালের নরওয়েজিয়ান অ্যাকশন থ্রিলার চলচ্চিত্র জো নেসবো ছবিটি পরিচালনা করেছিলেন মর্টেন টিলডাম এবং এই চলচিত্রে অভিনয় করেছেন আকসেল হেনি, নিকোলাজ কস্টার-ওয়াল্ডাউ এবং সিন্নেভ ম্যাকোডি লুন্ড । হেনি একজন সফল অথচ অনিরাপদ কর্পোরেট নিয়োগকারী রজার ব্রাউনকে চিত্রিত করেছেন যিনি তাঁর দৃষ্টিনন্দন জীবনযাপনের জন্য অর্থ ব্যয় করতে শিল্পকর্ম চুরি করে থাকেন।

Headhunters
হেডহান্টারের পোস্টার.jpg
প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পোস্টার
হেডহান্টারস
পরিচালকমর্টেন টাইল্ডাম
প্রযোজকমেরিয়েন গ্রে
আলে ভ্যাটান
চিত্রনাট্যকারলার্স গুডমেস্টাড
উলফ রাইবার্গ
উৎসজো নেসবো কর্তৃক 
হেডহান্টারস
সুরকারট্রন্ড বিজার্কনেস
জেপ্প কাস
সম্পাদকবিদার ফ্লাতাউকান
প্রযোজনা
কোম্পানি
মুক্তি২৬ আগস্ট ২০১১
দৈর্ঘ্য১০০ মিনিট
দেশনরওয়ে
ভাষানরওয়েজীয়
ড্যানিস
নির্মাণব্যয়৩,৬৩৬,৮৮৭ মার্কিন ডলার
আয়১৫,৩৯১,২৯৬ মার্কিন ডলার

প্লটসম্পাদনা

রজার ব্রাউন, নরওয়ের একজন সফল হেডহান্টার, যে তার বিলাশবহূল জীবনের জন্য নিজের ক্লায়েন্টদের মূল্যবান পেইন্টিংগুলো চুরি করে। এই কাজে তার পার্টনার হলো ওভ জিকেরুদ, যে কিনা ট্রিপোলিস নামে একটি সার্ফিল্যান্স কোম্পানীতে চাকরি করে এবং রজারের শিকার‌‌‌দের বাড়ির সিকিউরিটি অকার্যকর করে দেয় যেনো রজার নির্ভিঘ্নে চুরি করতে পারে। মিস লোটি, রজারের প্রেমিকা যার সাথে রজার সম্পর্ক শেষ করে দিয়েছে। ডায়না, রজারের স্ত্রী, রজারকে পরিচয় করিয়ে দিলো হোটে নামক এক জিপিএস টেকনোলজি কোম্পানীর প্রাক্তন কর্মকর্তা ক্লাস গ্রিভের সাথে যে পাথাফাইন্ডারে কাজ করতে আগ্রহী, রজারও তাকে রিক্রুট করতে চায়। ডায়না জানতে পারে যে ক্লাসের কাছে রুবিনসের একটি দূর্লভ পেইন্টিং আছে যার দাম কম করে হলেও কয়েক মিলিয়ন হবে।

রজার পাথফাইন্ডারের চাকরি নিয়ে আলোচনা করার ক্লাসকে একটি লাঞ্চের অফার দেয় এবং সেখানে খুব শিঘ্রই রজার জানতে পারে ক্লাস একটি বিশেষভাবে ট্রেনিংপ্রাপ্ত ট্র্যাকিং দলের প্রাক্তন সদস্য ছিলো। ক্লাসের থেকে পাওয়া চিত্রকর্ম সম্পর্কে কিছু ভুল তথ্যের ওপর ভিত্তি করে রজার ওভের সাথে দেখা করে এবং ক্লাসের পেইন্টিং চুরি করার জন্য বিস্তারিত আলাপ করে। ক্লাসের বাড়ি থেকে পেইন্টিং চুরি করার পরে রজার ক্লাসের বিছানার পাশে ডায়নার সেলফোন আবিস্কার করে।পরে, পাথফাইন্ডারের সাথে একটি মিটিংয়ে আপসেট রজার কোম্পানীটিকে জানায় যে তাদের উচিৎ সিইও পদের জন্য তাদের অন্য একজনকে খুঁজে নেওয়া।

পরের দিন সকালে রজার তার (রজারের) গাড়িতে ওভকে খুঁজে পায়, তার গাড়ির সিটে মানুষকে ওপারে পাঠিয়ে দিতে পারে এমন একটি বিষাক্ত একটি বিষের সিরিঞ্জ লাগানো ছিলো; তাই রজার ওভকে লেকে ফেলে দেয়, কিন্তু বিষের ডোজ যথেষ্ট না হওয়ার কারণে পানিতে পরে ওভ ফিরে আসে। রজার ওভকে নিজের (ওভের) বাড়িতে নিয়ে আসে এবং তাকে হাসপাতালে নেওয়ার কথা অগ্রাহ্য করে কারণ সে এতে পুলিশের সংশ্লিষ্টতা চাইছিলো না। কিন্তু ওভ চাইছিলো হাসপাতালে যেতে এবং রজারকে বন্দুক দেখিয়ে ভয় দেখাচ্ছিলো। কিন্তু দূর্ঘটনাক্রমে রজার ওভকে গুলি করে বসে এবং ওভ সাথে সাথে মারা যায়। এরপর রজার তার আর ওভের ভাড়া করা কেবিনে বিশ্রামের জন্য যায় কিন্তু ক্লাস তাকে অনুসরণ করে কেবিন পর্যন্ত চলে যায়। রজার কোনো মতো ক্লাসের চোখকে ফাঁকি দেয় রজার ক্লাসের ট্র্যাকিং ডিভাইস খসানোর জন্য কেবিনে পাওয়া ওভের কাপড় পরে নেয়।ক্লাস তার কুকুর নিয়ে তখনও কেবিনের আশেপাশে ছিলো, তাই রজার যখন একজন কৃষকের ট্রাক্টর প‌‌‌ালাতে যাচ্ছিলো তখন ক্লাসের কুকুর তাকে (রজারকে) আক্রমন করে এবং রজার কুকুরের হাত থেকে বাঁচার জন্য কুকুরটিকে ট্রাক্টরের পেছনের ফলায় ফেলে দেয় এবং কুকুরটি মারা যায়। কুকুরের কামড়ে ট্রাক্টর চালানোর একসময় রজার জ্ঞান হারায় এবং একজন পথচারী তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে দেয়।

হাসপাতালে জেগে ওঠার পরে ক্লাস একজন ডাক্তারের ছদ্মবেশে রজারকে হত্যা করতে যায় কিন্তু এর মধ্যেই পুলিশ চলে আসে এবং সিনড্রে আ (ওভের পাশের কেবিনের কৃষক অর্থাৎ রজার যার ট্রাক্টর চুরি করেছিলো) কে হত্যার অভিযোগে রজার ব্রাউনকে গ্রেফতার করে। পুলিশের সাথে গাড়িতে থাকা অবস্থায় রজার বুঝতে পারে তার জামাকাপড়ের থেকে পাওয়া জিকুরেদের ক্রেডিট কার্ডের কারণে পুলিশেরা তাকে ওভ জিকুরেদ হিসেবে ধরে নিয়েছে। তাকে পুলিশ স্টেশনে নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশ জানতে পারে যে একটি বড়সর ট্রাক চুরি হয়েছে। এর মধ্যেই রজারের মনে পড়ে ক্লাস নিজে একটি ন্যানোটেকনোলজি জেল আবিস্কার করেছে যা চুল থেকে সরিয়ে ফেলা খুবই দুষ্কর এবং তার স্ত্রী ডায়ানা তার চুলে এই জেল লাগিয়ে দিয়েছে। রজার এও বুঝতে পারে যে ক্লাসই সেই ট্রাকটি চুরি করেছে এবং এই ট্রাকটি দিয়েই সে তাকে হত্যা করবে। রজার অফিসারদের সতর্ক করলেও তারা রজারের কথা হেসে উড়িয়ে দেয় এবং ট্রাকটি তাদের সেলুন কারকে ধাক্কা দিলে রজার বাদে সবাই মারা যায়। রজার নিজেকে মৃত প্রমাণ করার জন্য তার পোশাক একজন ডিটেক্টিভকে পরিয়ে দিয়ে যায়। এবং নিজের মাথার চুল কামিয়ে ফেলে যেনো গ্রিভ তাকে ট্র্যাক করতে না পারে এবং চুলগুলো একটি ডেডবডির মধ্যে রেখে আসলো।

রজার লোটির কাছে সাহায্যের জন্য ফিরে যায়, কিন্তু এরপরই সে বুঝতে পারে যে লোটি প্রথম থেকেই ক্লাসের হয়ে কাজ করে। এবং ক্লাস আসলে এখনও হোটের সদস্য যে কিনা পাথফাইন্ডারের টেকনোলজি চুরি করতে চায়। লোটির কাজ ছিলো রজারের সাথে ক্লাস গ্রিভের পরিচয় করিয়ে দেওয়া। কিন্তু এর আগেই রজার তাদের সম্পর্ক ভেঙে ফেলে যার কারণে ক্লাস রুবিন্সের চিত্রকর্মটি দেখিয়ে ডায়ানার সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলে এবং রজারের সাথে পরিচিত হয়। রজার সব জানতে পেরেছে বুঝতে পেরে লোটি রজারকে চাকু দিয়ে আক্রমন করে এবং রজার আত্মরক্ষার্থে গুলি করে লোটিকে হত্যা করে। রজার বাড়ি ফিরে যায় এবং ডায়ানাকে সব খুলে বলে, যে কিনা ক্লাসের সাথে তার সম্পর্কের কারণে নিজেকে ক্ষমা করতে পারছিলো না। পরের দিন সকালে, রজার মর্গে গেলো এবং তার চুলগুলো নিয়ে আসতে গেলো এবং এই ফাঁকে ডায়ানা ক্লাসকে তার বাসায় দেখা করতে বললো।

রজার চুলগুলো নিয়ে সরাসরি ওভের বাসায় গিয়ে যখন তার উপস্থিতির সকল প্রমাণ লোপাট করছিলো তখন ক্লাস আবার চুলের সাথে লাগানো ট্র্যাকারটি নাড়াচাড়া করছে দেখে রজারকে ট্র্যাক করে ওভের বাড়িতে পৌছে গেলো এবং রজারকে হত্যা করার জন্য গুলি চালালো, কিন্তু ডায়ানা ক্লাসের পিস্তলটিতে ব্ল্যাঙ্ক বুলেট ঢুকিয়ে দেওয়ার কারণে শুধু ফাঁকা আওয়াজ হলো কিন্তু রজারের একটি গুলিও লাগলো না। এর মধ্যে রজার ওভের বন্দুক দিয়ে ক্লাসকে হত্যা করলো এবং পালিয়ে গেলো। রজার এবং ক্লাসের বন্দুকযুদ্ধ ওভের বাড়ির সিকিউরিটি ক্যামেরায় ধরা পড়লেও সেখানে রজারকে দেখা গেলো না কারণ রজার ক্যামেরার ব্লাইন্ড স্পটে ছিলো। ভিডিও দেখে পুলিশ কেসটিকে খুব বেশি জোর না দিয়েই ধরে নিলো যে বন্দুকযুদ্ধের কারণে ওভ আর ক্লাসের মৃত্যু হয়েছে।

উপন্যাসটির শেষ হয় রজার আর তার অন্তস্বত্তা স্ত্রী তাদের বাড়িটি বিক্রি করে দিচ্ছে, রজার তার কাজে ফিরে গেছে এবং পাথফাইন্ডারের চাকরিটি একজন ক্লায়েন্টকে দিচ্ছে যাকে উপন্যাসের শুরুতে রিজেক্টেড হতে দেখা যায়।

অভিনয়েসম্পাদনা