হানা ক্যাথেরিন মুলেন্স

হানা ক্যাথেরিন মুলেন্স (ইংরেজি: Hana Catherine Mullens) (১৮২৬-১৮৬৩) একজন সুইস নারী ছিলেন যিনি বাংলা ভাষায় প্রথম উপন্যাস রচনা করেন বলে দাবী করা হয়ে থাকে।

হানা ক্যাথেরিন মুলেন্স রচিত ফুলমণি ও করুণার বিবরণ অনেকের মতে প্রথম বাংলা উপন্যাস

সংক্ষিপ্ত জীবনীসম্পাদনা

হানা ক্যাথেরিন মুলেন্সের পিতা ফ্রাঁসোয়া ল্যাক্রোইক্স একজন সুইস পাদ্রী ছিলেন, যিনি ১৮২১ খ্রিষ্টাব্দে লন্ডন মিশনারি সোসাইটির তরফে খ্রিস্টধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে ভারতের চুঁচুড়া যাত্রা করেন। বাড়ীর কর্মচারীদের নিকট হতে হানা বাংলা ভাষা শেখেন এবং মাত্র বারো বছর বয়সে কলকাতা শহরের একটি সদ্যপ্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়ে তিনি এই ভাষা সম্বন্ধে শিক্ষা প্রদান করেন। ১৮৪৫ খ্রিষ্টাব্দে জে. মুলেন্স নামক এক ব্যক্তির সাথে তার বিবাহ হয়।[১]

রচনাসম্পাদনা

১৮৫২ খ্রিষ্টাব্দে তিনি বাঙ্গালী খ্রিস্টান মহিলাদের জীবন নিয়ে ফুলমণি ও করুণার বিবরণ নামক একটি বাংলা গ্রন্থ রচনা করেন।[১]:৪২৩ বাংলা ভাষার প্রথম উপন্যাস হিসেবে পরিচিত প্যারীচাঁদ মিত্র রচিত আলালের ঘরে দুলাল গ্রন্থ প্রকাশের ছয় বছর পূর্বে এই গ্রন্থ রচিত হয়।[১] অনেকের নিকট ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৮২৫ খ্রিষ্টাব্দে রচিত নববাবুবিলাস গ্রন্থটি প্রথম বাংলা উপন্যাস হিসেবে গণ্য হলেও, অন্যেরা এটিকে গল্প বলে গণ্য করেন।[১]:৩৭৪-৩৭৫ ফুলমণি ও করুণার বিবরণ সম্বন্ধেও একই মত প্রচলিত রয়েছে। [২]

এছাড়া হানা দ্য মিশনারি অন দ্য গ্যাঞ্জেস অর হোয়াট ইজ ক্রিশ্চানিটি (ইংরেজি: The Missionary on the Ganges or What is Christianity) এবং লাইফ বাই দ্য গ্যাঞ্জেস, অর, ফেইথ অ্যাণ্ড ভিক্টরি (ইংরেজি: Life by the Ganges, or, Faith and victory) নামে দুইটি ইংরেজি গ্রন্থ রচনা করেন।[১]

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. সুবোধচন্দ্র সেনগুপ্ত ও অঞ্জলি বসু (সম্পাদক), (১৯৭৬/১৯৯৮), সংসদ বাঙালি চরিতাভিধান, প্রথম খণ্ড, আইএসবিএন ৮১-৮৫৬২৬-৬৫-০.
  2. ব্রজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, সাহিত্যে বঙ্গ মহিলা, সম্পাদনা কালিদাস নাগ, বেথুন কলেজ ও স্কুল শতবার্ষিকী খণ্ড ১৯৪৯, পৃ ১৯৬