স্যামুয়েল মোর্স


স্যামুয়েল এফবি মোর্স (২৭ এপ্রিল ১৭৯১-২ এপ্রিল ১৮৭২) একজন আমেরিকান উদ্ভাবক ও চিত্রশিল্পী ছিলেন। প্রথম জীবনে চিত্রশিল্পী হিসেবে সুনাম লাভের পর তিনি ইউরোপীয় টেলিগ্রাফব্যবস্থার উপর ভিত্তি করে এক-তার বিশিষ্ট টেলিগ্রাফ ব্যবস্থা উদ্ভাবন করেন। মোর্স কোডের উন্নয়নে তিনি ভূমিকা রাখেন। তার হাত ধরেই টেলিগ্রাফ ব্যবহারের প্রসার ঘটে।

স্যামুয়েল মোর্স
Samuel Morse 1840.jpg
স্যামুয়েল ফিনলে ব্রিজ মোর্স,১৮৪০
জন্ম
স্যামুয়েল ফিনলে ব্রিজ মোর্স

(১৭৯১-০৪-২৭)২৭ এপ্রিল ১৭৯১
মৃত্যুএপ্রিল ২, ১৮৭২(1872-04-02) (বয়স ৮০)
নিউ ইয়র্ক সিটি, যুক্তরাষ্ট্র
শিক্ষাইয়েল কলেজ
পেশাচিত্রশিল্পী , আবিষ্কারক
পরিচিতির কারণমোর্স কোডের আবিষ্কারক
দাম্পত্য সঙ্গী
  • লুক্রেশিয়া পিকেরিং ওয়াল্টার
  • সারাহ এলিজাবেথ গ্রিসওয়াল্ড
সন্তান
পিতা-মাতা
  • জেডিডায়ে মোর্স (পিতা)
আত্মীয়সিডনি এডওয়ার্ড মোর্স (ভাই)
স্বাক্ষর
Samuel Morse signature.svg

ব্যক্তিগত জীবনসম্পাদনা

স্যামুয়েল এফবি মোর্স মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের চার্লসটাউন শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ধর্মযাজক ও ভূগোলবিদ জেডিডায়ে মোর্স (১৭৬১-১৮২৬) এবং এলিজাবেথ অ্যান ফিনলি ব্রিজের (১৭৬৬-১৮২৬) প্রথম সন্তান। তার পিতা ক্যালভিনিস্ট সম্প্রদায়ের অনুসারী ও আমেরিকান ফেডার‍্যালিস্ট পার্টির সমর্থক ছিলেন। জেডাইডা বিশ্বাস করতেন, ক্যালভিনিস্ট সম্প্রদায়ের পক্ষে সংস্কারপন্থী ঐতিহ্য বজায় রাখা সম্ভব হবে। এছাড়াও তিনি যুক্তরাজ্যের সঙ্গে ফেডার‍্যালিস্ট পার্টির মিত্রতাপূর্ণ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন। জেডাইডা শক্তিশালী এককেন্দ্রিক সরকারব্যবস্থায় বিশ্বাসী ছিলেন। তিনি তার সন্তান স্যামুয়েলের অন্তঃকরণে ফেডার‍্যালিস্ট ভাবধারা ও ক্যালভিনিস্ট মূল্যবোধের শিকড় প্রোথিত করেছিলেন। মোর্সদের প্রথম আমেরিকান পূর্বসূরির নাম-ও "স্যামুয়েল মোর্স", যিনি ১৬৩৫ সালে ম্যাসাচুসেটসের ডেডহ্যাম শহরে বসবাস করেন। [১]

ম্যাসাচুসেটসের অ্যান্ডওভার শহরের ফিলিপস একাডেমিতে প্রাথমিক শিক্ষালাভের পর ইয়েল কলেজে মোর্স লেখাপড়ার উদ্দেশ্যে গমন করেন। সেখানে তিনি ধর্মীয় দর্শন, গণিত ও অশ্ববিজ্ঞানের উপর পড়াশোনা করেন। ইয়েলে পড়াকালীন মোর্স বেঞ্জামিন সিলিম্যান ও জেরেমিয়াহ ডে প্রদত্ত বিদ্যুতের উপর ভাষণগুলো নিয়মিত শ্রবণ করতেন। এছাড়াও তিনি "ব্রাদার্স ইন ইউনিটি" নামে গুপ্তসংগঠনের সদস্য ছিলেন। ১৮১০ সালে তিনি ইয়েল থেকে সম্মানসহ স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।

১৮১৮ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর নিউ হ্যাম্পশায়ার অঙ্গরাজ্যের কংকর্ড শহরে লুক্রেশিয়া পিকেরিং ওয়াল্টারের সঙ্গে মোর্স বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের প্রথম সন্তান সুসান ১৮১৯ সালে, দ্বিতীয় সন্তান চার্লস ১৮২৩ সালে ও তৃতীয় সন্তান জেমস ১৮২৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন। ১৮৪৮ সালের ১০ আগস্ট মোর্স সারা এলিজাবেথ গ্রিসওয়াল্ড-কে নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের ইউটিকা শহরে দ্বিতীয়বার বিবাহ করেন। তাদের চার সন্তান ছিল- স্যামুয়েল (জন্ম:১৮৪৯), কর্নেলিয়া (জন্ম:১৮৫১), উইলিয়াম (জন্ম:১৮৫৩) এবং এডওয়ার্ড (জন্ম:১৮৫৭)।

টেলিগ্রাফসম্পাদনা

১৮৩২ সালে জাহাজে করে ইউরোপ থেকে আমেরিকা ফেরার পথে মোর্সের সাথে বস্টন অধিবাসী চার্লস টমাস জ্যাকসনের দেখা গয়। জ্যাকসন তড়িচ্চুম্বকত্ব বিষয়ে অত্যন্ত পারদর্শী ছিলেন। তড়িচ্চুম্বকের উপর কৃত জ্যাকসনের পরীক্ষাগুলো পর্যবেক্ষণ করে মোর্স "এক তারবিশিষ্ট টেলিগ্রাফ উদ্ভাবন করেন।" মোর্স পেটেন্ট অধিকার দাবি করার জন্য যে টেলিগ্রাফ যন্ত্র প্রেরণ করেন, সেটি স্মিথসোনিয়ান ইনস্টিটিউটের আমেরিকান ইতিহাস জাদুঘরে সংরক্ষিত রয়েছে। [২] এসময় তিনি মোর্স কোড আবিষ্কার করেন, যেটি টেলিগ্রাফের প্রাথমিক ভাষা। তথ্যের ছন্দীয় সঞ্চালনে আজও মোর্স কোড ব্যবহৃত হয়।

রিলেসম্পাদনা

মোর্স ১০০ গজের অধিক দূরত্বে টেলিগ্রাফিক সংকেত প্রেরণে সমস্যার সম্মুখীন হন। নিউ ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের শিক্ষক লিওনার্দ গ্যালের সাহায্যে তিনি অতিরিক্ত বর্তনী বা রিলে যুক্ত করে ১০ মাইল বা ১৬ কিলোমিটার দূরত্বেও বার্তা প্রেরণ করতে সক্ষম হন।

মোর্স টেলিগ্রাফ তারের জন্য গবেষণার অর্থায়নের জন্য ওয়াশিংটন ডিসি গমন করলেও প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহে ব্যর্থ হন। তিনি ইউরোপ গমন করার পর জানতে পারেন, বিজ্ঞানী কুক ও হুইটস্টোন ইতোমধ্যেই নিজেদের গবেষণার জন্য অর্থ সংগ্রহে সক্ষম হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে মেইন অঙ্গরাজ্যের সাংসদ ফ্রান্সিস ওরমান্ড জোনাথন স্মিথের সহায়তায় মোর্স ফেডারেল সরকারের অর্থায়ন লাভ করেন।

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. Crane, Ellery Bicknell (১২ অক্টোবর ২০২০)। "Historic homes and institutions and genealogical and personal memoirs of Worcester county, Massachusetts, with a history of Worcester society of antiquity"। New York, Chicago: The Lewis Publishing Company – Internet Archive-এর মাধ্যমে। 
  2. "HistoryWired: A Few of Our Favorite Things"National Museum of American History। ১৬ মার্চ ২০১২।