সিয়োন (হিব্রু ভাষায়: צִיּוֹן / 𐤑𐤉𐤅𐤍Ṣîyōn, LXX Σιών; আরবি: صهيون‎, প্রতিবর্ণী. ṣahyūn‎)[২][৩] হল হিব্রু বাইবেলে উল্লিখিত একটি স্থানের নাম যা যিরূশালেম [৪][৫] ও সমগ্র ইস্রায়েল দেশের সমার্থক হিসাবে ব্যবহৃত হয়।

সিয়োন (১৯০৩), ইফ্রয়িম মোশি লিলিয়েন
ইফ্রয়িম মোশি লিলিয়েন, ইহুদি জাতীয় তহবিলের জন্য তৈরি সীলমোহর, ভিয়েনা, ১৯০১–১৯০২। এই প্রতীকী নকশাটি হিব্রু বর্ণমালায় লিখিত সিয়োন শব্দ সম্বলিত একটি দায়ূদের তারকাকে উপস্থাপন করে।
নহূম মেলৎসারের আঁকা দেয়ালচিত্র, ২০০৬–২০১০।
মে আওয়ার আইজ বিহোল্ড ইউর রিটার্ন ইন মার্সি টু সিয়োন। পঞ্চম সিয়োনবাদী সংসদে ইফ্রয়িম মোশি লিলিয়েনের নকশা, বাসেল, ডিসেম্বর ১৯০১।[১]

এই নামটি হিব্রু বাইবেলের ২ শমূয়েল (৫:৭) পুস্তকে পাওয়া যায়, এই পুস্তকটি খ্রীষ্টপূর্ব মধ্য ৬ষ্ঠ শতাব্দীর পূর্বে বা কাছাকাছি সময়ে রচিত হয়েছিল। এটি প্রকৃতপক্ষে যিরূশালেমের একটি নির্দিষ্ট পাহাড়কে (সিয়োন পর্বত) নির্দেশ করে যা মোরিয়া পর্বতের (মন্দির পর্বত) দক্ষিণদিকে অবস্থিত।

ব্যুৎপত্তিসম্পাদনা

সিয়োন (ṣiyôn) শব্দের ব্যুৎপত্তি অনিশ্চিত।[৪][৫][৬]

পুরাতন নিয়মের শমূয়েলের পুস্তকে (২ শমূয়েল ৫:৭) দায়ূদ কর্তৃক জয় করা একটি যিবূষীয় দুর্গের নাম হিসাবে উল্লেখিত এই শব্দটির উৎস ইস্রায়েলীয়দের পূর্ববর্তী বলে মনে হয়।[৪][৫] সেমেটিক হলে এটি ইব্রীয় শব্দমূল সিয়্যন ṣiyyôn (“প্রাসাদ”) বা ইব্রীয় সিয়্যা צִיָּה ṣiyya (“শুষ্ক ভূমি” বা “মরুভূমি”, যিরমিয় ৫১:৪৩) থেকে উদ্ভূত হতে পারে। হুরীয় শব্দ সেয়া šeya (“নদী” বা “স্রোত”)-এর সাথে একটি অসেমিটিক সম্পর্কের এবং একটি হিত্তীয় উৎসেরও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।[৬][৭]

শব্দটির ৎসিয়োন ציון (Tzion, তিবিরীয় উচ্চারণরীতি: Ṣiyyôn) রূপটি তানাখে ১০৮ বার এবং পদাশ্রিত নির্দেশক-সহ হাৎসিয়োন (HaTzion) রূপে একবার আবির্ভূত হয়।[৮][৯]

ৎসাদ সাধারণত ইংরেজি বাইবেল অনুবাদে z হিসাবে লিপ্যন্তরিত হয়, তাই বানান Tzion-এর পরিবর্তে Zion হয়। এই প্রচলটি স্পষ্টতই জার্মান লিখনবিধি থেকে উদ্ভূত,[১০] যেখানে z সবসময় t͡s রূপে উচ্চারিত হয়।

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. Image published in Ost und West, Berlin, January 1902, 17-18.
  2. Sion is the spelling in the Vulgate, also adopted in modern French.
  3. Hebrew Academy 2006 convention for the romanization of Hebrew, Announcements of the Academy of the Hebrew Language ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২০১৩-১০-১৫ তারিখে
  4. Longman, Tremper; Enns, Peter (২০০৮)। Dictionary of the Old Testament: Wisdom, Poetry & Writings: A Compendium of Contemporary Biblical Scholarship। InterVarsity Press। পৃষ্ঠা 936। আইএসবিএন 978-0-8308-1783-2  উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; আলাদা বিষয়বস্তুর সঙ্গে "Longmanp936" নামটি একাধিক বার সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে
  5. Anderson, Arnold Albert (১৯৮১)। The book of PsalmsWm. B. Eerdmans Publishingআইএসবিএন 978-0-551-00846-5  উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; আলাদা বিষয়বস্তুর সঙ্গে "Brileyp49" নামটি একাধিক বার সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে
  6. Bromiley, Geoffrey W. (১৯৯৫)। The International Standard Bible EncyclopediaWm. B. Eerdmans Publishing। পৃষ্ঠা 1006। আইএসবিএন 978-0-8028-3782-0 
  7. Mendenhall, George (১৯৭৩)। The Tenth Generation: The Origins of the Biblical Tradition The Johns Hopkins University Pressআইএসবিএন 0-8018-1654-8 
  8. The Responsa Project: Version 13, Bar Ilan University, 2005
  9. Kline, D.E., A Comprehensive Etymological Dictionary of the Hebrew Language for readers of English, Carta Jerusalem, University of Haifa, 1987, pp.XII-XIII
  10. Joseph Dixon, A general introduction to the Sacred Scriptures: in a series of dissertations, critical hermeneutical and historical, J. Murphy, 1853, p.132