প্রধান মেনু খুলুন
সিগমুন্ড ফ্রয়েড:তার অতি প্রিয় চুরুট হাতে

সিগমুন্ড ফ্রয়েড (জার্মান Sigmund Freud যীক্‌মুন্ট্‌ ফ্রয়ট্‌ আ-ধ্ব-ব [ˈziːkmʊnt ˈfrɔʏt]) (মে ৬, ১৮৬৫- সেপ্টেম্বর ২৩, ১৯৩৯) ছিলেন একজন অস্ট্রিয় মানসিক রোগ চিকিৎসক এবং মনস্তাত্ত্বিক। তিনি "মনোসমীক্ষণ" (Psychoanalysis) নামক মনোচিকিৎসা পদ্ধতির উদ্ভাবক। ফ্রয়েড "মনোবীক্ষণের জনক" হিসেবে পরিগণিত। তাঁর বিভিন্ন কাজ জনমানসে বিরাট প্রভাব ফেলেছে। মানব সত্বার 'অবচেতন', 'ফ্রয়েডিয় স্খলন', 'আত্মরক্ষণ প্রক্রিয়া' এবং 'স্বপ্নের প্রতিকী ব্যাখ্যা' প্রভৃতি ধারণা জনপ্রিয়তা পায়। একই সাথে ফ্রয়েডের বিভিন্ন তত্ত্ব সাহিত্য, চলচ্চিত্র, মার্ক্সবাদী আর নারীবাদী তত্ত্বের ক্ষেত্রেও গভীর প্রভাব বিস্তার করে। তিনি ইডিপাস কম্পলেক্সইলেক্ট্রা কম্পলেক্স নামক মতবাদ সমূহের জন্য অধিক আলোচিত।

পরিচ্ছেদসমূহ

ধূমপানসম্পাদনা

ফ্রয়েড ২৪ বছর বয়স থেকে তামাকজাত ধূমপান সেবন শুরু করেন; শুরুতে তিনি সিগারেট খেতেন, এরপর তিনি সিগার (চুরুট বা বিড়ি) সেবনকারী হয়ে ওঠেন। তিনি বিশ্বা‌স করতেন যে, ধূমপান তার কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করতো এবং পরিমিত ধূমপানের মাধ্যমে তিনি আত্ম-নিয়ন্ত্রণের চর্চা‌ চালিয়ে যেতে সক্ষম হন। সহকর্মী উইলহেম ফ্লিয়েস-এর কাছ থেকে স্বাস্থ্যগত সতর্ক‌বার্তা‌ পাওয়ার পরেও তিনি ধূমপান অব্যহত রাখেন, এবং অবশেষে মুখগহ্বরের ক্যান্সারে আক্রান্ত হন।[১] ফ্রয়েড ১৮৯৭ সালে ফ্লিয়েসকে পরামর্শ দেন যে, তামাকসহ অন্যান্য আসক্তিমূলক কর্ম‌কান্ডগুলো হল স্ব‌মেহন নামক "অনন্য চমৎকার অভ্যাস"-এর বিকল্প[২]

ক্যান্সারসম্পাদনা

১৯২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে, ফ্রয়েড তার মুখগহ্ব‌রে অতিরিক্ত ধূমপানের ফলে সৃষ্ট লিউকোপ্লাকিয়া নামক একটি মৃদু জমাট মাংসপিন্ড দেখতে পান। ফ্রয়েড শুরুতে তা গোপন রাখেন, কিন্তু ১৯২৩ সালের এপ্রিলে তিনি আরনেস্ট জোনসকে জানান যে, জমাট মাংসপিন্ডটি কেটে বাদ দেওয়া হয়েছে। ফ্রয়েড চর্মরোগ-বিশেষজ্ঞ ম্যাক্সিমিলিয়ান স্টেইনারের শরণাপন্ন হন, যিনি তাকে ধূমপান করতে নিষেধ করেন কিন্তু মাংসপিন্ডের ঝুঁকে গুরুত্ব কম দিয়ে তা সম্পর্কে‌ মিথ্যা বলেন। ফ্রয়েড এরপর ফেলিক্স ডাচের শরণাপন্ন হন, যিনি মাংসপিন্ডটিকে ক্যান্সার হিসেবে সনাক্ত করেন; তিনি মাংসপিন্ডটিকে অপেক্ষাকৃত শ্রুতিমধুর শব্দ এপিথেলিওমা হিসেবে সম্বোধন করার মাধ্যমে ফ্রয়েডকে বিষয়টি অবহিত করেন। ডাচ তাকে ধূমপান বন্ধ করার এবং মাংসপিন্ডটি কেতে ফেলার নির্দে‌শ দেন। এরপর ফ্রয়েড রাইনোলজিস্ট বা নাক-বিশেষজ্ঞ মারকাস হ্যাজেকের কাছে চিকিৎসা নেন, ইতোঃপূর্বে‌ যার যোগ্যতা সম্পর্কে ফ্রয়েড নিজেই প্রশ্ন তুলেছিলেন। হ্যাজেক তার ক্লিনিকের বহিরাগত ডিপার্ট‌মেন্টে ফ্রয়েডের একটি নিরর্থক-নিষ্প্রয়োজন কসমেটিক সার্জা‌রি করেন। অস্ত্রপচারের সময় ও পরবর্তী‌তে ফ্রয়েডের উল্লেখযোগ্য হারে রক্তক্ষরণ হয়, এবং তিনি অল্পের জন্য মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে যান। ফ্রয়েড এরপর আবার ডাচকে দেখান। ডাচ লক্ষ্য করেন যে, ফ্রয়েডের আবারো অস্ত্রপচার প্রয়োজন হবে, কিন্তু তিনি ফ্রয়েডকে জানাননি যে, ফ্রয়েড ক্যান্সারে আক্রান্ত, কারন তার ভয় ছিল, এটি জানালে ফ্রয়েড হয়তো আত্মহত্যা করতে চাইবেন।[৩]

মৃত্যুসম্পাদনা

 
গোল্ডেন গ্রিন ক্রিমাটোরিয়ামনামক অন্ত্যষ্টিক্রিয়া সংগ্রহশালায় ফ্রয়েডের দেহভস্ম।

১৯৩৯ সালের সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝির দিকে, ফ্রয়েড তার চোয়ালের ক্যান্সারের কারণে ব্যাপক যন্ত্রণা অনুভব করতে থাকেন এবং চিকিৎসক তার এই যন্ত্রণাকে অনিয়ন্ত্রণযোগ্য বলে ঘোষণা করেন। ফ্রয়েড তার সর্বশেষ পঠিত বই বালজাক-এর লা পিউ দ্য চ্যাগরিন-এ তার নিজস্ব ক্রমবর্ধ‌নশীল ভগ্নদশাকে আরও দ্রুতগতিতে বাড়িয়ে তোলে এবং এর পরপরই তিনি তার বন্ধু চিকিৎসক ও প্রাক্তন সহ-শরণার্থী‌ ম্যাক্স স্কার-এর সঙ্গে স্বেচ্ছামৃত্যুর ব্যাপারে যোগাযোগ করেন, যার সঙ্গে পূর্বে‌ তিনি তার শেষ পর্যা‌য়ের অসুস্থাবস্থা নিয়ে কথা বলেছিলেন। ম্যাক্স স্কার ও কন্যা আনা ফ্রয়েডের সঙ্গে যৌথ পরামর্শ‌ করে অবশেষে ১৯৩৯ সালের ২৩শে ডিসেম্বর অধিক মরফিন গ্রহণের মাধ্যমে স্বে‌চ্ছামৃত্যু হিসেবে আত্মহত্যা করে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর চিকিৎসক জানিয়েছিলেন যে, আত্মহত্যার প্ররোচনায় ধূমপানজনিত কারণে মুখের ক্যান্সারই এর জন্যে দায়ী।[৪]

চিত্রমালাসম্পাদনা

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. Gay 2006, pp. 77, 169
  2. Freud and Bonaparte 2009, pp. 238–39
  3. Gay 2006, pp. 419–20
  4. Gay, Peter (1988). Freud: A Life for Our Time. New York: W. W. Norton & Company. pp. 650–651. আইএসবিএন ০-৩৯৩-৩২৮৬১-৯.