সালাহ সাবাতি (হিব্রু ভাষায়: סאלח שבתי‎) হল ১৯৬৪ সালে ইসরায়েলি অভিবাসন ও পুনর্বাসন নিয়ে ইসরায়েলে নির্মিত একটি হাস্যরসাত্মক চলচ্চিত্র। এই চলচ্চিত্রটির মাধ্যমে পরিচালক ইফ্রয়িম কিশন ও প্রযোজক মিনাহেম গোলান প্রথম আন্তর্জাতিক খ্যাতিপ্রাপ্ত ইসরায়েলীয় চলচ্চিত্র নির্মাতা হোন। এছাড়াও এই চলচ্চিত্রটি খাইম টপলকে বিশ্বব্যাপী পরিচয় করিয়ে দেয়।

সালাহ সাবাতি
সালাহ সাবাতি.jpeg
পরিচালকইফ্রয়িম কিশন
প্রযোজকমিনাহেম গোলান
শ্রেষ্ঠাংশেখাইম টপল
আরিক আইনস্টাইন
গিলা আলমাগোর
শ্রাগা ফ্রেইডম্যান
চিত্রগ্রাহকফ্লয়েড ক্রসবি
মুক্তি
  • জুন ১৯৬৪ (1964-06)
দৈর্ঘ্য১১০ মিনিট
দেশইসরায়েল
ভাষাহিব্রু

এর মূল চরিত্রের নাম সালাহ সাবাতি, যা খুব সম্ভবত হিব্রু বুলি סליחה שבאתי, শ্লিহা শে'বাদি, "আসার জন্য ক্ষমা করবেন" থেকে এসেছে। চলচ্চিত্রটির পূর্ববর্তী তৈরিকৃত কিশনের ছোটগল্প অনুসারে চরিত্রটির নাম ছিলো সাদিয়া সাবতাই।

কাহিনীসম্পাদনা

চলচ্চিত্র শুরু হয় সালাহ সাবাতি নামক অভিবাসী মিজরাহী ইহুদির উড়োজাহাজে করে পরিবারসহ ইসরায়েলে আগমনের মধ্য দিয়ে: একজন গর্ভবতী স্ত্রী, বৃদ্ধা আত্মীয় এবং সাতটি সন্তান। ইসরায়েলে আসার পর তাদেরকে মাআবারা নামক বিরাম-শিবিরে নেওয়া হয় যেখানে তাদেরকে একটি ভাঙ্গাচোরা, এক কক্ষ বিশিষ্ট খুপরি দেওয়া হয় বসবাসের জন্য।

চলচ্চিত্রের পরবর্তী অংশে দেখানো হয় সালাহের পার্শ্ববর্তী আবাসন প্রকল্প থেকে অ্যাপার্টমেন্ট কেনার জন্য অর্থ উপার্জনের প্রচেষ্টা। তার অর্থ উপার্জনের পদ্ধতিগুলো ছিল হাস্যকর এবং সেগুলো বারংবার তৎকালীন ইসরায়েলের রাজনৈতিক ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিকে ব্যঙ্গ করে।

অবশেষে সালাহ বুঝতে পারে যে মানুষ সেটাই পায় যেটা তারা চায় না। সে আবাসন প্রকল্পগুলোর বিরুদ্ধে একটি মিছিল বের করে যার স্লোগান হয় "আমরা উন্নয়ন চাই না: আমরা মা'আবারা চাই!" চলচ্চিত্রের শেষে মা'আবারায় বসবাসরতদের পুলিশ উচ্ছেদ করে তাদেরকে নতুন আবাসন প্রকল্পে স্থানান্তর করে।

কুশীলবসম্পাদনা

উপজীব্যসম্পাদনা

সালাহ সাবাতি'র কিব্বুটজদের মতন জায়নীয় কর্তৃপক্ষদের অশ্রদ্ধা ও ব্যঙ্গ অনেক চলচ্চিত্র দর্শক এবং সমালোচকদের মাঝে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। "চলচ্চিত্রে কিব্বুটজদের আমলা হিসেবে দেখানো হয়েছে যারা স্পষ্ট একাধিক কর্ম ভিত্তিক অভিজ্ঞ কর্মকর্তা ও সাধারণ শ্রমিকে ভাগ হয়ে যেত, এমন একটি বিভাজন যা সমাজতান্ত্রিক সংহতি ও সমষ্টিবাদী আদর্শবাদের গালগল্পের সাথে সাংঘর্ষিক। কিব্বুটজনীয়রা তাদের পাশে মা'আবারায় বসবাসরত দরিদ্র ব্যক্তিদের গুরুতর অবস্থাকে সম্পূর্ণ উদাসীনতার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।"[১]

সমালোচনামূলক অভ্যর্থনাসম্পাদনা

সালাহ সাবাতি মিশ্র প্রতিক্রিয়া পেলেও ইসরায়েলে অকল্পনীয়ভাবে বক্স অফিস সাফল্য লাভ করে যা সেখানে ১৩ লক্ষ দর্শক দেখেন।[২]

নিউ ইয়র্ক টাইমস সমালোচক এ. এইচ. ওয়েইলার এই চলচ্চিত্রকে "হাস্যরসাত্মকের চেয়ে বেশি শিক্ষনীয়" বলেন এবং লেখেন "সালাহ সাবাতি এবং এর অভিনয়গোষ্ঠী বলতে গেলে অস্বাভাবিক, অপূর্ব, অনেক রঙিন, কিন্তু তাদের হাস্যরসবোধটাই মূলত আসল।"[৩]

এটি হলিউড ফরেন প্রেস এসোসিয়েশনের সেরা বিদেশী চলচ্চিত্র বিভাগে গোল্ডেন গ্লোব অ্যাওয়ার্ড জিতে, এবং বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসব এর দ্বারা সূচনা ও উপসংহার করে।[৪] এটি ১৯৬৪ সালের একাডেমি অ্যাওয়ার্ডে প্রথম ইসরায়েলি চলচ্চিত্র হিসেবে সেরা বিদেশী ভাষার চলচ্চিত্র শাখায় অস্কারের জন্য মনোনায়ন পেয়েছিল তবে ইয়েস্টারডে, টুডে অ্যান্ড টুমোরো নামক ইতালীয় চলচ্চিত্রের কাছে হেরে যায়৷[৫]

চলচ্চিত্রটি সান ফ্রান্সিসকো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা অভিনেতা (টপল) ও সেরা চিত্রনাট্য (কিশন) বিভাগে পুরস্কার জিতে।[৬]

আরো দেখুনসম্পাদনা

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. Ella Shohat, Israeli Cinema: East/West and the Politics of Representation (London: I. B. Taurus, 2010), p. 127.
  2. Judd Ne'eman, "Israeli Cinema," in Oliver Leaman, ed., Companion Encyclopedia of Middle Eastern and North African Film (London: Routledge, 2001), p. 307.
  3. Weiler, A.H. (১৯৬৫-১০-১৩)। "'Sallah,' Comedy, Opens at Little Carnegie"The New York Times (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৫-১৬ 
  4. Shohat, Israeli Cinema, p. 126.
  5. "The 37th Academy Awards (1965) Nominees and Winners"oscars.org। সংগ্রহের তারিখ ২০১১-১১-০৫ 
  6. Sallah Shabati - IMDb, সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৮-০৬ 

বহিঃসংযোগসম্পাদনা