লাল ম্যাপেল (বৈজ্ঞানিক নামঃ acer rubrum), যা কিনা নরম ম্যাপেল নামেও পরিচিত, পূর্ব ও কেন্দ্রীয় উত্তর আমেরিকার সবচেয়ে বেশি পরিচিত পর্ণমোচী গাছের মধ্যে অন্যতম। ইউ এস ফরেস্ট সারভিস 'রেড ম্যাপল' গাছ কে পূরব-উত্তর আমেরিকার সবথেকে পরিচিত এবং স্থানীয় উৎসের গাছ হিসাবে মান্যতা দেয় [৪]। 'রেড ম্যাপল' গাছের বিস্তার দক্ষিণপূর্বে অন্টারিও এবং মিনেসোটার সীমানায় 'লেক অফ দ্য উডস' এর কাছে মনিটোবা থেকে পূর্ব দিকে নিউফাউন্ডল্যান্ড, দক্ষিণে ফ্লোরিডা, এবং দক্ষিণ-পশ্চিমে পূর্ব টেক্সাস অবধি। যদিও অত্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চলে গাছটি দেখতে পাওয়া যায়, গাছের অনেক বৈশিষ্ট্যই, বিশেষত পাতার রূপ একেক ভৌগোলিক অবস্থানে এক এক রকমের হয়। একটি পূর্ণবয়স্ক গাছের উচ্চতা প্রায়শই প্রায় ১৫ মিটার (৫০ ফুট)-এর কাছাকাছি হয়। এই গাছের ফুল, পাতার ডাঁটি, কুঁড়ি এবং বীজ সবই বিভিন্ন ধরনের লাল রঙের হয় যা শরত্কালে(fall) তার উজ্জ্বল গভীর লাল রঙের জন্য পরিচিত হয়। রেড ম্যাপলের অভিযোজন ক্ষমতা অনেক বেশি, সম্ভবত পূর্ব উত্তর আমেরিকার যে কোন ভূমিপুত্র গাছেদের থেকেই অনেক বেশি অভিযোজ্য এই গাছ। জলাভূমিতেও জন্ম নেয় এই গাছ, আবার শুকনো মাটিতেও দেখা মেলে এর। সমুদ্রপৃষ্ঠের সমোচ্চ ভূমিতেও জন্মায় আবার সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৯০০ মিটার (৩০০০ ফুট ) উঁচুতেও জন্মায়। আকর্ষণীয় শারদীয় রং এবং মনোরম আকারের কারণে প্রায়ই দিগন্তরেখা সাজানোর কাজে ব্যবহৃত হয়। উপাদেয় ম্যাপল সিরাপ উতপাদনের জন্যে ব্যবহৃত হয় এই গাছ এবং ম্যাপল গাছ থেকে প্রাপ্ত মাঝারি থেকে উচ্চ মানের কাঠ অন্যান্য বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করা হয়। রোড আইল্যান্ড রাজ্যের জাতীয় গাছ এটি। উচ্চ অভিযোজন ক্ষমতার প্রভাবে ধীরে ধীরে রেড ম্যাপল পূর্ব আমেরিকার বনভূমিতে ওক, পাইন, হিকরিস ইত্যাদি গাছগুলিকে প্রতিস্থাপন করছে রেড ম্যাপল[৫]

লাল ম্যাপেল
2014-10-30 11 09 40 Red Maple during autumn on Lower Ferry Road in Ewing, New Jersey.JPG
বৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ: Plantae
বিভাগ: Tracheophyta
শ্রেণী: Magnoliopsida
বর্গ: Sapindales
পরিবার: Sapindaceae
গণ: Acer
প্রজাতি: Acer rubrum
দ্বিপদী নাম
Acer rubrum
L.
প্রতিশব্দ[৩]

বর্ণনাসম্পাদনা

 
লাল ম্যাপেল এর শারদীয় অগ্নিশিখার মত রূপ গ্রামের রাস্তার ধারে

যদিও 'রেড ম্যাপল' সহজেই চেনা যায়, এর অঙ্গসংস্থান সংক্রান্ত বৈশিষ্ট্যসমূহ অত্যন্ত পরিবর্তনশীল। সাধারণত এটি ১৮ থেকে ২৭ মিটার (৬০ থেকে ৯০ ফুট) উচ্চতা পর্যন্ত হয় এবং ব্যতিক্রমী ক্ষেত্রে ৩৫ মিটার (১১৫ ফুট) পর্যন্ত আকারেও পৌঁছতে পারে।একটি পূর্ণ বয়স্ক বৃক্ষের পাতা সাধারণত ৯ থেকে ১১ সেন্টিমিটার (৩.৫ থেকে ৪.২৫ ইঞ্চি) হয়। গুঁড়ির ব্যাস প্রায় ৪৬ থেকে ৭৬ সেন্টিমিটার (১৮ থেকে ৩০ ইঞ্চি) পর্যন্ত হতে পারে অবস্থান ভেদে। গাছের বিস্তার প্রায় ১২ মিটার (৪০ ফুট) এর কাছাকাছি হয়। একটি ১০ ​​বছর বয়েসী গাছ লম্বায় ৬ মিটার (২০ ফুট) হয়। বনের মধ্যে অবস্থিত গাছগুলির ক্ষেত্রে, গুঁড়ির বেশ উপর থেকে শাখা-প্রশাখা বেরনো শুরু হয়, কিন্তু আলাদা আলাদা অবস্থান করা গাছগুলির ক্ষেত্রে, গাছের উচ্চতা কম হয়, এবং শাখা-প্রশাখা গুলি মিলিয়ে কিছুটা গুল্ম আকৃতির দেখতে লাগে[৬] । অল্পবয়সী গাছের ক্ষেত্রে বাকল হাল্কা ধূসরাভ রঙের মসৃণ প্রকৃতির হয় কিন্তু বয়স বাড়ার সাথে সাথে বাকল তার মসৃণতা হারায় এবং গাড় রঙের হতে থাকে। সর্ব বৃহৎ জীবিত 'রেড ম্যাপল' গাছটি ৩৮.১ মিটার উচ্চতা (১২৫ ফুট) বিশিষ্ট এবং আর্মডা, মিশিগানের কাছাকাছি অবস্থিত। ম্যাপল গাছের পাতাগুলির সজ্জা, অন্যান্য সমগোত্রীয় গাছ গুলির থেকে একে আলাদা করে চিনিয়ে দেয়। প্রায় সব উত্তর আমেরিকান ম্যাপেল গাছেই পাতাগুলি ডালের উপরে বিপরীত ভাবে সজ্জিত থাকে এবং বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়ে সমস্ত পাতা ঝরে যায় গাছ থেকে। পাতাগুলি সাধারণত ৫-১০ সেন্টিমিটার (২-৪ ইঞ্চি) লম্বা এবং ৩ থেকে ৫টি ভাগ থাকে এক একটি করতলাকার পাতাতে।

 
লাল ম্যাপেলের অপরিপক্ক রূপ

লাল ম্যাপেল কান্ডের রং লালচে আর কিছুটা চকচকে হয় এবং ছোট lenticels থাকে কান্ডের উপরে। অনেক শাখায় আবার ছোট ছোট কিছু উপশাখা থাকে। ফুল সাধারণত একলিঙ্গবিশিষ্ট, পুরুষ অথবা নারী ফুল পৃথক অবৃন্তক ক্লাস্টারে অবস্থান করে; কখনো কখনো ফুলগুলি উভলিঙ্গও হয়ে থাকে। লাল ম্যাপেল সাধারণভাবে ফুলে ফুলে ভরে উঠতে থাকে প্রায় ৮ বছর বয়সে , তবে কিছু কিছু গাছের ক্ষেত্রে ৪ বছরেও ফুল ফুটে উঠতে পারে। ফুলগুলি লাল রঙের ৫ টি ছোটো পাপড়ি বিশিষ্ট হয় এবং 5-লতি ক্যালিয়েক্সের সাথে সাধারণত ঝুলন্ত ক্লাস্টারগুলির মধ্যে থাকে শাখার প্রান্ত ভাগে। ফলগুলি ১৫ থেকে ২৫ মিলিমিটার (৫/৮ থেকে ১ ইঞ্চি) দীর্ঘ হয়; সাধারণত যমজ দুটি ফুল একে অন্যের সাথে ৫০ থেকে ৬০ ডিগ্রী কোণে জন্ম নেয়। পরিপক্ক হওয়ার পর, বীজ ১ থেকে ২ সপ্তাহের জন্য এপ্রিল থেকে জুলাই পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে।

বন্টন এবং বাসস্থানসম্পাদনা

লাল ম্যাপেল পূর্ব উত্তর আমেরিকার সবচেয়ে বেশি পরিমানে জন্ম নেয় এমন গাছগুলির মধ্যে একটি। এটি পাওয়া যেতে পারে নিউফাউন্ডল্যান্ড, নোভা স্কুইয়া এবং দক্ষিণ ক্যুবেক-ের দক্ষিণ থেকে ওন্টারিওের দক্ষিণ পশ্চিমে, দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলের ম্যানিটোবা এবং উত্তর মিনেসোটা তে; দক্ষিণে উইসকনসিন, ইলিনয়, মিসৌরি, পূর্ব ওকলাহোমা, এবং পূর্ব টেক্সাসের পশ্চিম সীমায়; এবং পূর্ব দিকে ফ্লোরিডা অবধি। ফ্লোরিডাতে যে কোন গাছের তুলনায় লাল ম্যাপেল ছড়িয়ে আছে উত্তর আমেরিকার আটলান্টিক উপকূল বরাবর বৃহত্তম পরিসীমা জুড়ে। উত্তর থেকে দক্ষিণে এর বিস্তার প্রায় ২৬০০ কিলোমিটার লাল ম্যাপেলের প্রজাতিগুলি যুক্তরাষ্ট্রের সমস্ত অঞ্চলের অধিবাসী।[৭] লাল ম্যাপেলের উপস্থিতি কমতে শুরু করে যেখানে -40 ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড (-40 ডিগ্রী ফারেনহাইট) মানে সর্বনিম্ন আইসোথাম শুরু হয়, যেমন দক্ষিণপূর্ব কানাডায়। একে দেখা যায় না উত্তর মধ্যপপশ্চিমে প্রেইরি উপদ্বীপ, দক্ষিণ লুইসিয়ানা এবং দক্ষিণপূর্ব টেক্সাস উপকূলবর্তী এলাকা এবং ফ্লোরিডা Everglades এর প্রেইরি অঞ্চলে[৮]। প্রেইরি উপদ্বীপে লাল ম্যাপেলের অনুপস্থিতি সম্ভবত প্রজাতির আগুনের অসহিষ্ণুতার কারণে। [৯] বেশ কয়েকটি স্থানে, বৃক্ষটি বৃহত এলাকাসমূহ থেকে অনুপস্থিত কিন্তু এখনও কিছু নির্দিষ্ট আবাসস্থলে উপস্থিত। উদাহরণ হল কেনটাকির ব্লুগ্রাস অঞ্চল, যেখানে উন্মুক্ত সমভূমিতে লাল ম্যাপেল পাওয়া যায় না, তবে নদীগুলির কাছাকাছি বর্তমান [১০]শস্য বেল্টএর নিচের বনভূমিতে লাল ম্যাপেল উপস্থিত নেই, তথাপি এই এলাকার উত্তরে ও দক্ষিণে অনুরূপ আবাসস্থল এবং প্রজাতি সমিতিগুলির মধ্যে এটি সাধারণ। [৮]। উত্তর আমেরিকার অন্য কোনও বনভূমির তুলনায় সম্ভবত লাল ম্যাপেল মাটির প্রকারভেদে বিভিন্ন ধরনের অঙ্গবিন্যাস, বিভিন্ন আর্দ্রতা, পিএইচ এবং বিভিন্ন উচ্চতায় খুব ভালোভাবেই মানিয়ে নিতে পারে। রেড ম্যাপেল এর উচ্চ পিএইচ সহনশীলতার মানে হল যে এটি বিভিন্ন জায়গায় বৃদ্ধি পেতে পারে এবং পূর্ব আমেরিকা তে ব্যাপকভাবে জন্মগ্রহণ করে [১১]। এটি নিম্নোক্ত শিলা যেমন গ্রানাইট, গেয়েস, শিফট, বালি পাথর, শেল, স্লেট , কোয়ার্টজাইট, এবং চুনাপাথর ইত্যাদি পাথর থেকে প্রাপ্ত মাটি থেকে উদ্ভূত হয় এমনকি যদি মাটি হিমবাহিত হয়, তাহলেও কোন অসুবিধা হয় না। । যদিও এমনিতে এর পিএইচ সহনশীলতা বেশ উচ্চ, খুব ক্ষারীয় মৃত্তিকাতে ক্লোরোসিস ঘটতে পারে। বীজ অঙ্কুরিত করার জন্য আর্দ্র খনিজ মৃত্তিকা সর্বোত্তম[৯]। শুকনো ঢালু এলাকা এবং সূর্যালোকিত দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ঢাল , পিট বগ এবং জলাভূমি তেও বিভিন্ন ধরনের আর্দ্র ও শুষ্ক বায়োমার মধ্যে লাল ম্যাপেল জন্হম নিতে পারে। যদিও অনেক ধরনের গাছ দক্ষিণ বা উত্তর দিকে মুখ করে থাকতে পছন্দ করে, লাল ম্যাপেলের এরকম কোন পছন্দ থাকে বলে মনে হয় না [৮] । বর্তমানে লাল ম্যাপেল অনেক বেশি বিস্তৃত বনভূমি দখল করে তখনকার তুলনায় যখন ইউরোপীয়রা প্রথমে উত্তর আমেরিকায় এসে পৌঁছায়; তখন রেড ম্যাপেল এবং সিলভার ম্যাপেল মিলিয়ে 5% বনভূমিতে অবস্থান করত এবং বেশিরভাগই রিপরিয়ান অঞ্চল গুলি পর্যন্ত সীমিত ছিল [৮]। এই অঞ্চলে গাছের ঘনত্বে ৬ থেকে ৭ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এই প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে বলে মনে হয়, যা মানুষের কারণে, বিশেষত দাবানল দমন করার কারণে যা লাল ম্যাপেলের মত অগভীর জীবাণুপ্রিয় প্রজাতির প্রাণনাশ করে, কিন্তু ওক এবং হিকিরগুলির মত বনজ গাছগুলির কোন ক্ষতিসাধন করতে পারে না। উপরন্তু, লাল ম্যাপেলের সংরক্ষণের প্রচেষ্টায় বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি থেকে সাদা-লেজের হরিণ জনসংখ্যার বৃদ্ধি ঘটেছে।

বাস্তুতন্ত্রসম্পাদনা

রেড ম্যাপেল সাধারণত ১৫০ বছরের তুলনায় বেশি বাঁচে না [৮]। এটা ৭০ থেকে ৮০ বছর পরিপক্বতায় পৌঁছয়। বিপুলসংখ্যক আবাসস্থল গড়ে তুলতে তার দক্ষতা মূলত ছোট অবস্থা থেকেই তার শিকড় গুলি কে মাটির ধরন অনুসারে তৈরি করার ক্ষমতার উপর নির্ভরশীল। আর্দ্র ভূমিতে, লাল ম্যাপেলের মূল দীর্ঘ এবং উন্নত পার্শ্বীয় শিকড়ের সাথে সংক্ষিপ্ত প্রধান মূল নিয়ে তৈরি হয়; অন্যদিকে শুস্ক ভূমিতে প্রধানমূল হয় দীর্ঘ প্রকৃতির, সাথে ছোট ছোট পার্শ্বমূল থাকে। শিকড় মূলত অনুভূমিক হয়, মাটির উপরে ২৫ সেমি পর্যন্ত। পরিপক্ক গাছের শিকড় লম্বায় প্রায় ২৫ মি (৮২ ফু) পর্যন্ত হয়। এরা বন্যার প্রতিও খুব সহনশীল হয়; এক গবেষণায় দেখানো হয়েছে যে ৬০ দিনের বন্যার কারণেও লাল ম্যাপেল গাছের পাতার কোন ক্ষতি হয়নি। একই ভাবে তারা খরা সহ্যকারীও হয়; খুব শুষ্ক অবস্থার অধীনে তারা বৃদ্ধি বন্ধ করার ক্ষমতা রাখে; পরে অবস্থার উন্নতি হলে, তাদের দ্বিতীয়বার বৃদ্ধি শুরু হয় আবার, এমনকি দুই সপ্তাহ বৃদ্ধি বন্ধ হওয়ার পরেও নতুন করে বৃদ্ধি শুরু হতে দেখা গেছে [৮]

 
Samaras from a specimen in Milford, New Hampshire

আল্যারজেনিক সম্ভাবনাসম্পাদনা

লাল ম্যাপেলের এলার্জিনিক সম্ভাব্যতা প্রজনন প্রজাতির উপর ভিত্তি করে ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হয়। নিম্নলিখিত cultivars গুলি পুরোপুরি পুরুষ এবং এদের অ্যালার্জি স্কেল রেটিং ৮ বা তার বেশি OPALS (ওগেন উদ্ভিদ এলার্জি স্কেল) OPALS অ্যালার্জি স্কেল অনুযায়ী [১২]

  • শরত শিখা (অটাম ফ্লেম)
  • অটাম স্পায়ার
  • কলুমেয়ার
  • ফায়ারড্যান্স
  • কারপিক
  • নর্থ উড
  • অক্টোবর ব্রিলিয়ান্স
  • সান ভ্যালী
  • টিলি ফোরড

নিম্নলিখিত cultivars গূলি সম্পূর্ণ রূপে নারী এবং এদের অ্যালার্জি স্কেল রেটিং OPALS অ্যালার্জি স্কেল অনুযায়ী 3 বা তার কম;

  • অটাম গ্লোরি
  • বো হল
  • ডেভি রেড
  • ডোরিক
  • এম্বারস
  • ফেস্টিভাল
  • অক্টোবার গ্লোরি
  • রেড স্কিন
  • রেড সানসেট

বিষাক্তকরণী ক্ষমতাসম্পাদনা

লাল ম্যাপেলের পাতা, বিশেষত যখন মৃত বা শুকনো, অত্যন্ত বিষাক্ত ঘোড়াদের জন্য। যদিও টক্সিন-এর প্রকৃতি অজানা, কিন্তু এটি একটি অক্সিডেন্ট বলে বিশ্বাস করা হয় কারণ এটি লোহিত রক্ত কণিকার ক্ষতি করে তীব্র অক্সিডেটিভ hemolysis সৃষ্টি করে যার ফলে দেহে অক্সিজেন পরিবহনে বাধা সৃষ্টি হয়। এটা যে শুধুমাত্র সমস্ত টিস্যুতে অক্সিজেন পরিবহন কমিয়ে দেয়, তাই নয় ,উপরন্তু methemoglobin উত্পাদন বাড়ায়, যা কিডনিরও ক্ষতি করতে পারে। ৭০০ গ্রাম (১.৫ পাউন্ড) এর পাতার আহার বিষাক্ত বিবেচনা করা হয় এবং ১।৪ কিলোগ্রাম (৩ পাউন্ড) পাতার আহার প্রাণঘাতী হতে পারে। আহার করার এক বা দুই দিনের মধ্যে লক্ষণগুলি দেখা দেয় এবং বিষণ্নতা, অস্থিরতা, শ্বাসের বর্ধিত গতি, বর্ধিত হার্টের হার, জন্ডিস, গাঢ় বাদামী প্রস্রাব, শ্বাসকষ্ট, ল্যামিনাইটিস, কোমা এবং মৃত্যু অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। চিকিৎসা পদ্ধতি সীমিত হয় বিষক্রিয়াগত শোষণ বন্ধ করার জন্য methylene নীল বা খনিজ তেল এবং সক্রিয় কার্বন ব্যবহার অন্তর্ভুক্ত হতে পারে অথবা ব্লাড ট্রান্সফিউশন,ফ্লুইড সাপোর্ট, diuretics, এবং অ্যান্টি অক্সিডেন্ট যেমন ভিটামিন সি ইত্যাদির সাহায্যে হতে পারে।এর ফলে প্রায় 50% থেকে 75% ক্ষতিগ্রস্ত ঘোড়া মারা যায় বা ফলাফল হিসাবে euthanized হয় [১৩]

চাষাবাদসম্পাদনা

 
হেমিংওয়ে, সাউথ ক্যারোলিনাতে পথের ধারে পরিপক্ক বাকল

রেড ম্যাপেলের দ্রুত বৃদ্ধি ক্ষমতা, চারা রোপণের সহজ পদ্ধতি, আকর্ষণীয় গঠন এবং বন্যপ্রাণীদের জন্যে(পূর্ব মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে) এর ভূমিকা একে সর্বাপেক্ষা ব্যাপকভাবে রোপিত গাছগুলির মধ্যে অন্যতম করে তুলেছে। প্রশান্ত মহাসাগরীয় উত্তরপশ্চিমে এর কিছু অংশে, এটি একটি বহুল প্রচলিত বৃক্ষের মধ্যে একটি। গাছ হিসেবে এর জনপ্রিয়তা নিহিত রয়েছে এর আকর্ষণীয় এবং শরতের প্রথম দিকেই লাল ফুল ধারণের ক্ষমতা, এবং সবচেয়ে বেশি অগ্নিশিখার মত লাল পর্ণরাজির মধ্যে। ১৬৫৬ খ্রিষ্টাব্দে ব্রিটিশ যুক্তরাষ্ট্রে গাছটি প্রথম রোপণ করা হয় এবং এর পরেই তার প্রবেশ ঘটে ব্যাপক বিস্তৃত ভাবে চারা রোপণের মধ্যে। সেখানে বেশিরভাগ উদ্যান এবং বাগানগুলিতে এটি দেখা যায় এবং মাঝে মাঝে চার্চইয়ার্ডগুলিতেও [১৪]। নগরাঞ্চলের জন্য রেড ম্যাপেল একটি ভাল পছন্দের গাছ যদি তার মূল প্রোথিত করার জন্য যথেষ্ট জায়গা থাকে মাটির নিচে। আর্কাসকুলার মাইকোরিজাল ফানগির সাথে একটি সংগঠন গড়ে তুলতে পারলে শহরের রাস্তায় ব্যাপক ভাবে জন্ম নিতে পারে লাল ম্যাপেল গাছ[১৫]। এটি সুগার ম্যাপেলের তুলনায় দূষণ এবং রাস্তা লবণের প্রতি অধিক সহনশীল, যদিও এই পরিবেশে গাছের অগ্নিশিখার মত রূপ তেমন খোলতাই হয় না। বেশ কয়েকটি ম্যাপেলের মতো, গাছের শিকড় আক্রমণকারী হতে পারে এবং এটি পাকা রাস্তার পাশে রোপণ করার জন্যে ভালো পছন্দ নয়। এটি কাঠবিড়ালীদের আকর্ষণ করে, যারা বসন্তকালে তার কুঁড়িগুলি খেয় ফেলে, যদিও তাদের প্রথম পছন্দ রূপালী ম্যাপেল এর বড় কুঁড়ি গুলি। [১৬]। লাল ম্যাপেলের খুব উজ্জ্বল এবং রঙিন বোনসাই তৈরি করা যায়, এবং আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্যগুলি বছরভর সাজিয়ে রাখার জন্য অত্যন্ত উপযুক্ত [১৭]

 
বিভিন্ন ধরণের রূপ

অন্যান্য ব্যবহারসম্পাদনা

কাঠ চেরাই শিল্পের নিরিখে লাল ম্যাপেল কে "নরম ম্যাপেল" বলে মনে করা হয়, সিলভার ম্যাপেলের সাথে সমতুল্য। একটি নরম ম্যাপেল হিসাবে, কাঠ শুকানোর প্রক্রিয়া চলাকালীন লাল ম্যাপেল অন্যান্য শক্ত মাপেল-এর তুলনায় বেশি সঙ্কুচিত হয়। ম্যাপেল সিরাপের উৎপাদনের জন্য লাল ম্যাপেল ব্যবহার করা হয়, যদিও হার্ড ম্যাপেল, যেমন Acer saccharum (সুগার ম্যাপেল) এবং Acer nigrum (কালো ম্যাপেল) -ইত্যাদির ব্যবহার আরো ব্যাপক। এক গবেষণায় লাল ম্যাপেলের (Acer Rubrum) সিরাপের সাথে চিনি ম্যাপেল (Acer saccharum), সিলভার ম্যাপেল (Acer saccharinum), বক্সলেন্ডার (acer negundo) এবং নরওয়ে ম্যাপেল (Acer platonoid) এর সিরাপদের সাথে তুলনা করা হয়েছে এবং দেখা গেছে যে মিষ্টি, স্বাদ, এবং মানের হিসাবে প্রত্যেকেই সমতুল্য। যাইহোক, লাল ম্যাপেল এবং অন্যান্য নরম ম্যাপেলএর কুঁড়ি,সুপার ম্যাপেলের তুলনায় বসন্তকালে বেশ আগের দিকে প্রকাশিত হয় এবং অঙ্কুরোদগমের পরে গাছের রসের রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটার ফলে নিঃসৃত সিরাপে একটি অবাঞ্ছিত গন্ধের আবির্ভাব হয়। সেই জন্যে, খুব কমই সময় পাওয়া যায় লাল ম্যাপেল গাছ গুলি থেকে রস নিঃসরণের জন্যে[৮]। লাল ম্যাপেল একটি মধ্যম মানের জ্বালানী কাঠ হিসেবে বিবেচিত হয়, কম তাপ শক্তি ধারক (5.4 মেগাজুল/ ঘন মিটার) অন্যান্য জ্বালানী কাঠ যেমন ওক, অ্যাশ, বারচ ইত্যাদি গাছের তুলনায় [১৮]

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. NatureServe (২০০৬)। "Acer rubrum"NatureServe Explorer: An online encyclopedia of life, Version 6.1.। Arlington, Virginia। 
  2. "Acer rubrum"বিপদগ্রস্ত প্রজাতির আইইউসিএন লাল তালিকা (ইংরেজি ভাষায়)। আইইউসিএন2019। ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ১৬ জুন ২০১৯ 
  3. "Acer rubrum L."The Plant List-এর মাধ্যমে। 
  4. Nix, Steve. "Ten Most Common Trees in the United States". About.com Forestry. Retrieved 8 October 2016.
  5. "Eastern Forests Change Color As Red Maples Proliferate"। New York Times। সংগ্রহের তারিখ ৩০ মার্চ ২০১৫ 
  6. Seiler, John R.; Jensen, Edward C.; Peterson, John A.। "Acer rubrum Fact Sheet"Virginia Tech Dendrology Tree Fact Sheets। Virginia Tech। ২ জুন ২০০৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৯ মে ২০০৭ 
  7. টেমপ্লেট:Silvics
  8. উদ্ধৃতি ত্রুটি: অবৈধ <ref> ট্যাগ; USDF নামের সূত্রের জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  9. Walters, Russell S; Yawney, Harry W.। "Acer rubrum L." 
  10. Campbell, J (১৯৮৫)। "The Land of Cane and Clover"। University of Kentucky: 25। 
  11. 18(2), 177–184., Jared; McCarthy, Brian (২০১১)। "Diminished Soil Quality in an Old-Growth, Mixed Mesophytic Forest Following Chronic Acid Deposition Diminished Soil Quality in an Old-growth, Mixed Mesophytic Forest Following Chronic Acid Deposition"। Northeast Naturalist18 (2): 177–184। 
  12. Ogren, Thomas (২০১৫)। The Allergy-Fighting Garden। Berkeley, CA: Ten Speed Press। পৃষ্ঠা 54–55। আইএসবিএন 978-1-60774-491-7 
  13. Goetz, R. J.। "Red Maple Toxicity"Indiana Plants Poisonous to Livestock and Pets। Perdue University। মে ৫, ২০০৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৯ মে ২০০৭ 
  14. Mitchell, A. F. (১৯৭৪)। Trees of Britain & Northern Europe। London: Harper Collins Publishers। পৃষ্ঠা 347। আইএসবিএন 0-00-219213-6 
  15. Appleton, Bonnie; Koci, Joel (২০০৩)। "Mycorrhizal Fungal Inoculation of Established Street Trees"। Journal of Arboriculture29 (2): 107–110। 
  16. Reichard, Timothy A. (অক্টোবর ১৯৭৬)। "Spring Food Habits and Feeding Behavior of Fox Squirrels and Red Squirrels"। American Midland Naturalist। American Midland Naturalist, Vol. 96, No. 2। 96 (2): 443–450। doi:10.2307/2424082জেস্টোর 2424082 
  17. D'Cruz, Mark। "Acer Rubrum Bonsai Care Guide"। Ma-Ke Bonsai। ২০১০-০৬-১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১০-১০-২০ 
  18. Michael Kuhns and Tom Schmidt (n.d.)। "Heating With Wood: Species Characteristics and Volumes"। UtahState University Cooperative Extension।