রাজকুমারী আয়েশা বিনতে হোসেন

প্রিন্সেস আয়েশা বিনতে হোসেন ( আরবি: الأميرة عائشة بنت الحسين‎‎) (জন্মঃ ২৩এপ্রিল, ১৯৬৮) জর্ডানের বাদশাহ দ্বিতীয় আবদুল্লাহর বোন এবং প্রিন্সেস জেইনের যমজ বোন। তার বাবা-মা হলেন প্রিন্সেস মুনা এবং বাদশা হোসেন

প্রিন্সেস আয়েশা বিনতে হোসেন
Princess Aisha.jpg
জন্ম (1968-04-23) ২৩ এপ্রিল ১৯৬৮ (বয়স ৫৪)
আম্মান, জর্ডান
দাম্পত্য সঙ্গীজাইদ সা'দাদিন জুমা
(বিবাহ ১৯৯০; তালাক্ব?)
আশরাফ বানাইয়োটি (বি. ২০১৬; বিচ্ছেদ. ২০১৬)
বংশধরআওন জুমা
মুনা জুমা
রাজবংশহাশেমি
পিতাহোসেন
মাতাপ্রিন্সেস মুনা আল হোসেন

শিক্ষাসম্পাদনা

আয়েশার জন্ম জর্ডানের আম্মানে । তিনি জর্দানের আট বছর বয়স পর্যন্ত আমেরিকান কমিউনিটি স্কুলে (তার বোন জেইনের মতো একই ক্লাসে) পড়াশোনা করেছিলেন। এরপর দশ বছর ধরে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করেন। তিনি এমডি, বেথেসডায় হোল্টন-আর্মস স্কুলে পড়াশোনা করেছেন। ১৯৮৬ সালে ম্যাসাচুসেটস এর ওয়েলেসলির ডানা হল স্কুল থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। তারপরে ১৯৮৭ সালে তিনি যুক্তরাজ্যের রয়্যাল মিলিটারি একাডেমি স্যান্ডহর্স্টে যোগ দিয়ে অফিসার প্রশিক্ষণ কোর্সটি সম্পন্ন করেন।[১] তিনি অক্সফোর্ডের পেমব্রোক কলেজ থেকে আধুনিক মধ্য প্রাচ্যের ইতিহাস ও রাজনীতি বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০১০ সালের জুনে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ডিফেন্স ইউনিভার্সিটি, ওয়াশিংটন ডিসি -র স্ট্র্যাটেজিক সিকিউরিটি স্টাডিজ-এর স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

পেশাগত জীবনসম্পাদনা

হোসেন জর্দানের সামরিক বাহিনীর একজন মেজর জেনারেল। তার জীবনী অনুসারে, তিনি পাঁচটি সামরিক প্যারাশুট জাম্প শেষ করে প্যারাসুটিস্ট উইংস গ্রহণ করেন, যা মধ্য প্রাচ্যের প্রথম মহিলা হিসেবে লাভ করেন।

তিনি রয়্যাল মিলিটারি একাডেমি স্যান্ডহার্স্টতে অংশ নেওয়া প্রথম মধ্য প্রাচ্যের মহিলা। এখান থেকে স্নাতক হওয়ার পরে, তিনি জর্ডানের বিশেষ বাহিনীতে কাজ করেছিলেন। এছাড়া তিনি বেশ কয়েকটি অতিরিক্ত প্যারাশুটিং কোর্স সম্পন্ন করেছিলেন।

১৯৯৬ সাল থেকে প্রিন্সেস আয়েশা মহিলাদের প্রতিরক্ষা বিভাগের উপদেষ্টা কমিটির একাধিক সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন। তিনি ন্যাটোর ভূমধ্যসাগরীয় কথোপকথনের সদস্য এবং আন্তর্জাতিকভাবে কর্মরত ন্যাটো হিউম্যান ফ্যাক্টরস এবং মেডিসিন রিসার্চ টাস্ক গ্রুপ ১৪০-এ জর্দানীয় বিশেষজ্ঞ হিসাবে সন্ত্রাসবাদের মানসিকতা, সাংগঠনিক এবং সাংস্কৃতিক দিকগুলি সম্পর্কে সামরিক এবং বেসামরিক নাগরিক হিসাবে কাজ করছেন।

তিনি সাফল্যের সাথে বিভিন্ন মিলিটারি কোর্স সম্পন্ন করেছেন। যেমনঃ জর্ডানের রয়্যাল গার্ডদের সাথে সুরক্ষা এবং প্রতিরক্ষা কোর্স, ক্যালিফোর্নিয়ার মন্টেরিতে প্রতিরক্ষা সংস্থান ইনস্টিটিউটের ইউএস নেভাল স্নাতকোত্তর স্কুল থেকে সিনিয়র আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা ম্যানেজমেন্ট কোর্স ইত্যাদি। তিনি নিউ জার্সির স্কুবা স্কুল ইন্টারন্যাশনাল থেকে একটি ওপেন ওয়াটার ডাইভিং কোর্সও সম্পন্ন করেছেন। তিনি প্রায়শই বিদেশে ভ্রমণ করেন তার সামরিক বৃদ্ধি, বিশেষ করে সেনাবাহিনীতে মহিলাদের ভূমিকা সম্পর্কে জ্ঞান বাড়ানোর জন্য।[২]

বর্তমানে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জর্দানের দূতাবাসের সাথে প্রতিরক্ষা সংযুক্তি হিসাবে দায়িত্ব পেয়েছেন। [২]

ব্যক্তিগত জীবনসম্পাদনা

১৯৯০ সালে প্রিন্সেস আয়েশা আম্মানে জেইদ সা'দাদীন জুমাকে বিয়ে করেছিলেন। পরে এই দম্পতি বিবাহবিচ্ছেদ করে। তিনি বর্তমানে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দা। তার একটি ছেলে আউন জুমা, ২মে, ১৯৯২ সালে জন্মগ্রহণ করেছে এবং একটি কন্যা মুনা জুমা ১৮ জুলাই, ১৯৯৬ সালে জন্মগ্রহণ করেছে। আউন জুমা স্যান্ডহর্স্টের রয়্যাল মিলিটারি একাডেমিতে পড়াশোনা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। [১]

২৭শে জানুয়ারী, ২০১৬তে প্রিন্সেস আয়েশা আশরাফ বানায়োটিকে বিয়ে করেছিলেন। এর আগে তিনি এডওয়ার্ড বানায়োটি নামে পরিচিত ছিলেন এবং তার আগে আর্নেস্ট অ্যান্ডারসন বলে পরিচিত ছিলেন।[৩] অ্যাডওয়ার্ড বানায়োটি ইসলাম গ্রহণের সময় মুসলিম নাম আশরাফ বানায়োতি গ্রহণ করেছিলেন। প্রিন্সেস আয়েশা এবং আশরাফ বানায়োটি ২০১৬ সালে বিবাহবিচ্ছেদ করেছিলেন।[৪]

উপাধী এবং সম্মানসম্পাদনা

জাতীয় সম্মানসম্পাদনা

  • জর্ডান: নাইট গ্র্যান্ড কর্ডন, বিশেষ শ্রেণী
  • জর্ডান: আল হোসেন পদক, ১ম শ্রেণী
  • জর্ডান: বাদশাহ হোসেন দ্বিতীয় রুবি জুবিলি পদক

বিদেশী সম্মানসম্পাদনা

  •   ব্রুনাই: কলার অফ দ্যা অর্ডার অফ মেরিট, নাইট গ্র্যান্ড ক্রস [৫]
  •   ইতালি: নাইট গ্র্যান্ড ক্রস, ইতালিয়ান প্রজাতন্ত্রের অর্ডার অফ মেরিট [৬]

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. http://www.purepeople.com/article/aisha-de-jordanie-a-47-ans-la-princesse-s-est-remariee_a171590/1
  2. "Muslims must fight extremists' ideology, Jordanian princess says"TBO.com। ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৫। ১৮ আগস্ট ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯ 
  3. "Princess Aisha marries Ashraf Banayotti"Jordan Times 
  4. "Princess Aisha, Edward Banayoti divorced"Jordan Times (English ভাষায়)। ১ জুলাই ২০১৬। সংগ্রহের তারিখ ২৭ মার্চ ২০১৭ 
  5. purepeople.com, Princess Aisha wearing the Star of the Order of the Renaissance and Order of Merit of Brunei
  6. imageupper.com, Princess Aisha wearing most of her Jordanian decorations and Italian Order ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ তারিখে

বহিঃসংযোগসম্পাদনা