যৎসামান্য প্রতিসজ্ঞা প্রভাব

যৎসামান্য প্রতিসজ্ঞা প্রভাব বা দ্য মিনিমাল কাউন্টারইনটুইটিভ এফেক্ট ধারণাটি দেন চেতনাগত নৃতত্ত্ববিদ (Cognitive anthropologist) প্যাসকেল বয়ার। তার কথা অনুসারে মিনিমালি কাউন্টারইন্টুইটিভ কনসেপ্ট বা যৎসামান্য প্রতিসজ্ঞা ধারণা (MCI) বলতে সেই সব ধারণাকে বোঝায় যেগুলো আমাদের মাঝে থাকা খুব কম পরিমাণ সত্তাতাত্ত্বিক প্রত্যাশাকে (ontological expectation) লঙ্ঘণ করে। এখানে সত্তাতাত্ত্বিক প্রত্যাশা বলতে বোঝানো হচ্ছে আমাদের বাস্তবতা, বিভিন্ন বিষয়ের অস্তিত্ব, জগতের অস্তিত্ব ইত্যাদি নিয়ে আমাদের সজ্ঞা (intuition), সাধারণ অনুভূতি (common sense) অনুসারে যেসব ধারণা জন্মে। কোন ধারণা বা প্রস্তাবে যদি আমাদের সাধারণ অনুভূতি বা সজ্ঞা থেকে প্রাপ্ত বাস্তব জগত ও বিষয়ের সত্তা ও অস্তিত্ব সম্পর্কে ধারণার যৎসামান্য পরিমাণে লঙ্ঘণ ঘটে তবে তা হচ্ছে যৎসামান্য প্রতিসজ্ঞা ধারণা। এখানে প্রতিসজ্ঞা ধারণা (counterintuitive concept) দ্বারা এমন ধারণাকে বোঝায় যেগুলোকে আমাদের সজ্ঞা (intuition), সাধারণ অনুভূতি (common sense) দ্বারা ভুল বলে মনে হয়। প্যাসকেল বয়ার বলেন, বিভিন্ন সত্তাতাত্ত্বিক (ontological) প্রশ্নের বেলায়, যেমন আমাদের এই জগৎ কিভাবে গঠিত হল, জগৎ ও বাস্তবের অস্তিত্বের কারণ কী - এই সব প্রশ্নে মানুষের সাধারণ সজ্ঞা, সাধারণ অনুভূতির বাইরে যদি যৎসামান্য প্রতিসজ্ঞা ধারণা কাজ করে তাহলে তা মানুষের বেশি মনে থাকে। অর্থাৎ জগৎ সম্পর্কিত সত্তাতাত্ত্বিক প্রশ্নগুলোর ক্ষেত্রে যদি খুব কম পরিমাণের জন্য মানুষের সেটাকে নিজের সজ্ঞা ও সাধারণ অনুভূতি অনুসারে ভুল বলে মনে হয়, তাহলে তা তার অন্যান্য বিষয়গুলোর চেয়ে বেশি মনে থাকে। যেসব প্রাত্যহিক ধারণা সবসময় মানুষের সজ্ঞা বা বোধগম্যের মধ্যে পড়ে, অথবা যেসব ধারণা একেবারেই মানুষের অন্তর্নিহিত প্রত্যাশাকে লঙ্ঘণ করে বা সজ্ঞা ও সাধারণ অনুভূতির বিরুদ্ধে চলে যায়, মানুষ সেগুলোর থেকে এই যৎসামান্য প্রতিসজ্ঞা ধারণা আলাদা। প্যাসকেল বয়ারের মতে, সেই সব ধারণাগুলো মানুষের ক্ষেত্রে বেশি স্মরণীয় হয় না, বা মনে দাগ কাটে না, যেমনটা যৎসামান্য প্রতিসজ্ঞা ধারণার ক্ষেত্রে ঘটে। আর প্যাসকেল এরই নাম দেন "যৎসামান্য প্রতিসজ্ঞা প্রভাব" (the minimal counteriintuitive effect)। প্যাসকেল বয়ার বলেন, যৎসামান্য প্রতিসজ্ঞা ধারণা (MCI) অন্যান্য বোধগম্য (intuitive) এবং সর্বোচ্চ প্রতিসজ্ঞা ধারণা (MXCI) এর চেয়ে বেশি স্মরণীয় হয়।[১] বয়ারের এই অনুকল্পটি অনেকগুলো মনোবিজ্ঞানগত গবেষণার দ্বারা সমর্থিত হয়। উপল[২] এর নাম দেন, "মিনিমাল কাউন্টারইনটুইটিভনেস এফেক্ট" বা এমসিআই এফেক্ট।

বয়ার নিজে নির্দিষ্টভাবে প্রত্যাশা ও লঙ্ঘনের সংখ্যা ঠিক করে দেন নি যা সর্বোচ্চ প্রতিসজ্ঞার একটি ধারণা দান করবে। এক্ষেত্রে বয়ার[৩] সহ অন্যদের[৪] যারা এগুলো নিয়ে প্রাথমিক এমপিরিকাল গবেষণাগুলো করেছিলেন তারা সর্বোচ্চ প্রতিসজ্ঞার ধারণা নিয়ে গবেষণা করেন নি। এই গবেষণাগুলোতে একটি মাত্র প্রত্যাশার লঙ্ঘনের ধারণাকেই ব্যবহার করেছিল (যেগুলোকে MCI ধারণা (যৎসামান্য প্রতিসজ্ঞা ধারণা) নাম দেয়া হয়)। আট্রান[৫] প্রথম MXCI ধারণার (সর্বোচ্চ প্রতিসজ্ঞা ধারণা) সম্পর্কিত স্মৃতি নিয়ে গবেষণা করেন এবং এখানে ২টি প্রত্যাশা লঙ্ঘনকে সর্বোচ্চ প্রতিসজ্ঞা ধরা হয়। আই-৭৫ কগনিশন (I-75 Cognition) এবং কালচার গ্রুপ (Culture Group)[৬][৭][৮][৯] এর গবেষণাতেও দুটো প্রত্যাশা লঙ্ঘনকে ম্যাক্সিমালি কাউন্টারইনটুইটিভ বা সর্বোচ্চ প্রতিসজ্ঞা ধরা হয়। ব্যারেট[১০] দেখান একটি বা দুটি সত্তাতাত্ত্বিক প্রত্যাশার লঙ্ঘনকে MCI বা যৎসামান্য প্রতিসজ্ঞা বলা উচিত আর তিন বা ততোধিক প্রত্যাশার লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে তাকে MXCI বা সর্বোচ্চ প্রতিসজ্ঞা বলা উচিত। MCI নিয়ে হওয়া পরবর্তী গবেষণাগুলোতে[১১] এই পুনর্বিবেচিত নিয়মই অনুসরণ করা হয়।

উপল[২] চেতনাগতভাবে যৎসামান্য প্রতিসজ্ঞাকে দুটো ভাগে ভাগ করেছেন। একটি হল যৎসামান্য প্রতিসজ্ঞার কনটেক্সট বেজড বা প্রসঙ্গ ভিত্তিক মডেল, আর একটি হল যৎসামান্য প্রতিসজ্ঞার কনটেন্ট বেজড ভিউ বা বিষয়বস্তু ভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি। প্রসঙ্গভিত্তিক মডেলে কোন ধারণার প্রতিসজ্ঞা বা কাউন্টারইনটুইটিভ হবার ক্ষেত্রে প্রসঙ্গ দ্বারা পালিত ভূমিকার প্রতি জোড় দেয়া হয়, অন্যদিকে বিষয়বস্তু-ভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গিতে প্রসঙ্গের ভূমিকাকে অগ্রাহ্য করা হয়।

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. Boyer, Pascal. The Naturalness of Religious Ideas University of California Press, 1994.
  2. Upal, M. A. (2010). "An Alternative View of the Minimal Counterintuitiveness Effect", Journal of Cognitive Systems Research, 11(2), 194-203.
  3. Boyer, P., & Ramble, C. (2001). "Cognitive templates for religious concepts". Cognitive Science, 25, 535–564.
  4. Barrett, J. L., & Nyhof, M. (2001). "Spreading non-natural concepts: the role of intuitive conceptual structures in memory and transmission of cultural materials". Journal of Cognition and Culture, 1, 69–100.
  5. Atran, S. (2002). "In gods we trust: The evolutionary landscape of religion", Oxford, NY: Oxford University Press.
  6. Upal, M. A. (2005). "Role of context in memorability of intuitive and counterintuitive concepts". In B. Bara, L. Barsalou, & M. Bucciarelli (Eds.), Proceedings of the 27th annual conference of the cognitive science society, (pp. 2224–2229). Mahwah, NJ: Lawrence Earlbaum.
  7. Gonce, L., Upal, M., Slone, J., & Tweney, R. (2006). "The role of context in the recall of counterintuitive concepts". Journal of Cognition and Culture, 6(3–4), 521–547.
  8. Tweney, R. D., Upal, M. A., Gonce, L., Slone, D. J., & Edwards, K. (2006). "The creative structuring of counterintuitive worlds". Journal of Cognition and Culture, 6, 483–498.
  9. Upal, M. A., Gonce, L., Tweney, R., et al. (2007). Contextualizing counterintuitiveness: How context affects comprehension and memorability of counterintuitive concepts. Cognitive Science, 31(3), 415–439.
  10. Barrett, J. L. (2008). "Coding and quantifying counterintuitiveness in religious concepts: Theoretical and methodological reflections". Method and Theory in the Study of Religion, 20, 308–338.
  11. Harmon-Vukic, M., Upal, M. A., & Trainor, C. "Understanding the role of context in memory for maximally counterintuitive concepts", in Proceedings of the 35th Annual Meeting of the Cognitive Science Society.

বহিঃসংযোগসম্পাদনা