মোরাম

নিমফ্যালিডি পরিবারের প্রজাপতি

মোরাম[২](বৈজ্ঞানিক নাম: Euthalia nais (Forster) এক প্রজাতির মাঝারি আকৃতির প্রজাপতি, যাদের মুল শরীরটা এবং ডানা তামাটে হলুদ বর্ণের এবং ডানার উভয় প্রান্তে কালো দাগ দেখা যায়। এরা ‘নিমফ্যালিডি’ পরিবারের সদস্য।


Baronet
Close wing position of Symphaedra nais Forster, 1771 – Baronet.BANKURA.jpg
ডানা বন্ধ অবস্থায়
Open wing position of Symphaedra nais Forster, 1771 – Baronet.jpg
ডানা খোলা অবস্থায়
বৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ: Animalia
পর্ব: Arthropoda
শ্রেণী: Insecta
বর্গ: Lepidoptera
পরিবার: Nymphalidae
গণ: Euthalia
প্রজাতি: E. nais
দ্বিপদী নাম
Euthalia nais
(Forster, 1771)[১]

আকারসম্পাদনা

প্রসারিত অবস্থায় মোরামের ডানার আকার ৬০-৭০ মিলিমিটার দৈর্ঘের হয়।

বিস্তারসম্পাদনা

বর্ণনাসম্পাদনা

ডানার ওপর পিঠ হলুদ মেশানো তামাটে রঙ। ডানার শীর্ষবিন্দুর কাছে দু’তিনটে কালো ছোপ দেখা যায়। উভয় ডানার পার্শবপ্রান্তে কালচে খয়রি পাড় থাকে। পিছনের ডানায় এই খয়রি সীমারেখার উপর সারিবদ্ধ ভাবে সাদা চিহ্ন থাকে। তাছাড়াও পিছনের ডানার ভিতরে কালচে খয়েরি বিন্দুর সারি আছে। উভয় ডানাতেই দুটি সাদা পটি অথবা ব্যান্ড দেখা যায়। পুরুষ এবং স্ত্রী উভয়েরই ডানার উপরিতল তামাটে হলুদ অথবা কমলা বর্নের। সামনের ডানায় সেল এর শীর্ষভাগের নিচে একটি তেরচা কালো ছোপ এবং একটু দূরে একটি ছোট হলুদ ছোপকে ঘিরে থাকা একটি কালো ডিম্বাকৃতি ছোপ বিদ্যমান। ডিসকাল অঞ্চলে সাব-কোস্টাল অংশ থেকে উতপন্ন একটি চওড়া, ছোট এবং তীর্যক দাগ রয়েছে। পোষ্ট ডিসকাল প্রান্তরেখা থেকে উতপন্ন হয়ে টার্মেনের দিকে কিছুটা নেমে গিয়ে সমাপ্ত হয়েছে। কোস্টা খুব সরুভাবে এবং টার্মেন অপেক্ষাকৃত চওড়াভাবে কালো

পিছনের ডানায় কোস্টার মধ্যভাগের একটু নিচে তুলনামূলক ভাবে বড় একটি ত্রিভূজাকৃতি ছোপ অথবা পটি দেখা যায়। পোস্ট-ডিসকাল অংশে সমানভাবে বাঁকানো একসারি কালো বুটি চোখে পড়ে যেগুলি টার্মেন প্রান্তরেখার সাথে প্রায় সমান্তরাল। টার্মেন জুড়ে একটি চওড়া কালো বন্ধনী বিদ্যমান।

ডানার নিম্নতল ঘন কমলা হলুদ এবং লাল রঙের মিশ্রণ। সামনের ডানায় বেস অঞ্চল ঘন কালো রঙ্গে ছাওয়া। সেল এর গোড়ার দিকে দুটি কালো ছোপ এবং অনতিদূরে কালো কিনারাযুক্ত তীর্যক এবং গাঢ় লাল এবং গোলাপী মেশানো একটি রেখা দেখা যায়। একটি খুব চওড়া তেরচা ডিসকাল বন্ধনী চোখে পড়ে যেটি কৌনিক অবস্থানে ৪ নং শিরার নিচে নেমে গেছে। উক্ত ডিসকাল বন্ধনীট পশ্চাতভাগে ভিতরের দিকে একটি বড় কালো ছোপ দ্বারা এবং অগ্রভাগে বাইরের দিকে অপর একটি তীর্যক চওড়া কালো বন্ধনী দ্বারা সীমায়ীত। এই ডিসকাল বন্ধনীটির পাশেই ৪টি কমলা হলুদ-সাদা ছোপ বিদ্যমান যাদের অগ্রভাগ তেরচাভাবে অবস্থিত। একটু দূরে একটি অতি সংকীর্ণ অথবা সরু অর্ধচন্দ্রাকৃতি কালো বন্ধনী চোখে পড়ে যা ৬ নং শিরার নিচে,তলার দিকে বেঁকে গেছে।

পিছনের ডানায়, একদম ডানার গোড়ায় একটি গাঢ় লাল ছোট রেখা এবং সেল এর মধ্যে ২টি কালো রঙ্গে ঘেরা গাঢ় লাল ছোপ দেখা যায়। ডিসকাল বন্ধনীটি অন্যান্য বন্ধনী অপেক্ষা তুলনামূলক চওড়া,তীর্যক এবং সাদা যা কোস্টার মধ্যভাগের নিচে প্রায়শই খন্ডিত হয়ে একটি আলাদা বড় ছোপ ও তার নিচে দু-তিনটি সারিবদ্ধ ছোট ছোপের সৃষ্টি করেছে। পোস্টডিসকাল অংশে একসারি ছোট কালো ছোপ লক্ষ্য করা যায়।

শুংগ অথবা শুঁড় দুটি কালো যাদের শীর্ষভাগ উজ্জ্বল কমলা-হলুদ। মাথা, বক্ষদেশ এবং উদর উপরিতলে তামাটে লাল অথবা কমলা এবং নিম্নতলে গাঢ় লাল এবং গোলাপি রঙ্গে ছাওয়া বাদামী বর্ণের।

আচরণসম্পাদনা

এরা শুষ্ক, হালকা জঙ্গল পছন্দ করে[৩]। সাধারনত দূর্বল গতিতে এবং মাটির আশেপাশে ওড়ে।[৪] মাটিতে বসার সময় ডানা পুরো মেলে বসে। প্রায়শই এদের রৌদ্র পোহাতে দেখা যায়। গাছের রস এবং পাকা ফলের প্রতি আসক্তি আছে।[৫]

বৈশিষ্ট্যসম্পাদনা

ডিমসম্পাদনা

মোরাম এর ডিম চকচকে সবুজ বর্নের এবং অর্ধগোলাকার, খানিকটা গম্বুজাকৃতি। এরা পাতার যা কোনো পিঠেই ডিম পাড়ে।

শূককীটসম্পাদনা

এদের শূককীট হালকা সবুজ বর্নের। এদের সারা দেহে লম্বা লম্বা রোঁয়া যুক্ত কাঁটা থাকে। শূককীটের ৩-১২ দেহখন্ডের প্রতিটি খন্ডের এই রোঁয়া যুক্ত কাঁটা দেখা যায়। ৪-১২ দেহখন্ডের প্রতিটিতে গাঢ় বেগুনি রঙের বৃত্ত থেকে এবং রংটি ক্রমশ হালকা হয়ে এসেছে। বৃত্তের কেন্দ্রে কালোর ঘের টানা লালচে আভাযুক্ত হলুদ বিন্দু দেখা যায়।

শূককীটরা পাতার ওপর পিঠে, মধ্যশিরা বরাবর বসে থাকে। যেখনটাই বসে থাকে সেখানটাই রেশমের একটা আসন তৈরী করে। এরা পাতার ধার বরাবর খেতে থাকে আর ঘন ঘন পাতা বদলায়।

আহার্য উদ্ভিদসম্পাদনা

মূককীটসম্পাদনা

পাতার নিচের পিঠে মূককীট তৈরী হয়। মূককীটের ওপর-নীচ উল্টোমুখী জোড়া পিরামিড এর মতো দেখতে এবং নীলাভ সবুজ বর্নের। সপ্তম দেহখন্ডে চওড়া সোনালি পটি অথবা ব্যান্ড দেখা যায়। পিরামিডের প্রতিটি শিরের কোনে কালোর ছোঁয়া থাকে।[৬]

জীবনচক্রের চিত্রশালাসম্পাদনা

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. Euthalia nais, funet.fi
  2. Dāśagupta, Yudhājit̲̲̲̲̲̲a (২০০৬)। Paścimabaṅgera prajāpati (1. saṃskaraṇa. সংস্করণ)। Kalakātā: Ānanda। পৃষ্ঠা ১০৪–১০৫। আইএসবিএন 81-7756-558-3 
  3. Pandharipande, T.N.। "Butterflies from Nagpur City,Central India (Lepidoptera:Rhopalocera)" (PDF)। Journal of Research on the Lepidoptera(1990)। পৃষ্ঠা 157-160। সংগ্রহের তারিখ ২৮ মার্চ ২০১৭ [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  4. Peter, Smetacek (২০১৮)। A Naturalist's Guide to the Butterflies of India Pakistan, Nepal, Bhutan, Bangladesh and Sri Lanka (ইংরেজি ভাষায়) (1st সংস্করণ)। New Delhi: Prakash Books India Pvt. Ltd.। পৃষ্ঠা 144। আইএসবিএন 978 81 7599 406 5 
  5. Kumar, Ashok.। "Butterfly abundance ans species diversity in some urban habitats" (PDF)। Journal of Advanced Research(2014)। পৃষ্ঠা 367-374। আইএসএসএন 2320-5407। সংগ্রহের তারিখ ২৮ মার্চ ২০১৭ 
  6. Bingham, C.T. (১৯০৫)। The Fauna of British India, Including Ceylon and Burma Butterflies1 (1st সংস্করণ)। London: Taylor and Francis, Ltd.।