মাশা এবং বিয়ার

মাশা এবং বিয়ার (রুশ: Маша и Медведь, Masha i Medved') একটি জনপ্রিয় রাশিয়ার কার্টুন। কার্টুনটি রচনা করেছেন ওলেগ কুজোকোভ আর প্রযোজনা করেছে অ্যানিমাকর্ড অ্যানিমেশন স্টুডিও (মস্কো, রাশিয়া)। কার্টুনটি প্রচলিত শিশুতোষ লোক-কাহিনীর ছায়া অবলম্বনে নির্মাণ করা হয়েছে। কার্টুনটিতে মাশা নামের ছোট্ট একটি মেয়ের নানা দুষ্টুমি এবং পিতৃতুল্য ভালুক, যে তাকে সকল বিপদ থেকে রক্ষা করে সেই কাহিনী বর্ণনা করা হয়েছে। কার্টুনটির প্রথম পর্ব "হাও দে মেট" বা "কিভাবে তারা পরিচিত হল" ২০০৯ সালের ৭ই জানুয়ারি মুক্তি পায়।[১]

মাশা এবং বিয়ার
Masha and The Bear logo
ধরণঅ্যাডভেঞ্চার, প্রহসন
নির্মাতাওলেগ কুজোকোভ
প্রস্তুতকারক দেশরাশিয়া
মূল ভাষারাশিয়ান
মৌসুম সংখ্যা
পর্বসংখ্যা৬১
নির্মাণ
ব্যাপ্তিকাল৭ মিনিট
প্রোডাকশন কোম্পানিঅ্যানিমাকর্ড অ্যানিমেশন স্টুডিও
পরিবেশকঅ্যানিমাকর্ড অ্যানিমেশন স্টুডিও
সম্প্রচার
মূল চ্যানেলরাশিয়া ১, ক্যারোসেল, টেলেটুন (কানাডা)
কার্টুনিতো, বুমেরাং এবং টাইনি পপ (যুক্তরাজ্য)
সুলা ৪ (আয়ারল্যান্ড)
মূল প্রদর্শনী৭ জানুয়ারি ২০০৯ (2009-01-07) – বর্তমান
বহিঃসংযোগ
Official English Website

কার্টুনটি এখন পর্যন্ত প্রায় ২৫টি ভাষায় অনূদিত হয়েছে[২] এবং ১২০টিরও বেশি দেশে সম্প্রচারিত হয়েছে।[৩]

কার্টুনটির অনেকগুলো পর্ব ইউটিউব এ জনপ্রিয়তা পেয়েছে; যার মাঝে "রেসিপি ফর ডিজাস্টার" অন্যতম। পর্বটি ইউটিউবে ১.৮৮ বিলিয়ন বার দেখা হয়েছে। যা একে সাইটটির ষষ্ঠ সর্বাধিক প্রদর্শিত ভিডিও হিসেবে স্থান দিয়েছে।[৪][৫] অন্যান্য পর্বগুলোর মধ্যে ৩০০ মিলিয়ন এর অধিক দেখা পর্বগুলোর মধ্যে "বোন অ্যাপেতিত" (৬৮০ মিলিয়নের বেশি), "লন্ড্রি ডে" (৬৭০ মিলিয়নের বেশি), "লা ডলচে ভিতা" (৫৪০ মিলিয়ন), "দি ফাউন্ডিং" (৪৯০ মিলিয়ন), "হোকাস-পোকাস" (৪০০ মিলিয়ন), "টু মাচ" (৩৯০ মিলিয়ন), "লিটল কাজিন" (৩৬০ মিলিয়ন) এবং "ওয়ান, টু, থ্রি! লাইট দি খ্রিস্টমাস ট্রি" (৩৫০ মিলিয়ন) এর বেশিবার দেখা হয়েছে।[৬][৭]

কার্টুনটি দুই সিজনে বিভক্ত, প্রতি সিজনে পর্ব রয়েছে ২৬টি। সম্প্রতি তৃতীয় সিজনের প্রথম তিনটি পর্ব মুক্তি পেয়েছে এবং আরও ২৩ পর্বের কাজ চলছে যা আগামী তিন বছর জুড়ে প্রচার হবে।[৮]

কার্টুনটির ইংরেজি সংস্করণের মাশা চরিত্রে কণ্ঠ দিয়েছেন এলসি ফিসার।[৯]

কাহিনীসম্পাদনা

রাশিয়ার এক গহীন বনে বসবাস করে মাশা। তার বাড়িতে সে ছাড়াও রয়েছে একটি শুকুর, ছাগল এবং কুকুর। মাশা, পুরো বনের অন্যান্য প্রাণীদেরকে তার সাথে খেলতে বাধ্য করে বলে সবাই তাকে বেশ ভয় পায়। এক সুন্দর সকালে মাশা হঠাৎ তার বাড়ির সামনে একটি সুন্দর প্রজাপতি দেখে, এবং তাকে ধরতে চেষ্টা করে এবং প্রজাপতির পেছন পেছন ভালুকের বাসার ভেতর ঢুকে পরে। এই সময় ভালুক মাছ ধরতে বাইরে ছিল। যাই হোক খোলা বাসায় খেলতে খেলতে মাশা তা প্রায় উল্টা-পাল্টা করে ফেলে। ভালুক বাসায় ফিরলে অবস্থা দেখে মাশাকে তার বাসা থেকে বের করে দেয়ার চেষ্টা চালালে ব্যার্থ হয় এবং দুইজনের মধ্যে বন্ধুত্ব হয়ে যায়।

প্রতিটি পর্বে মাশাকে বুদ্ধিমান, দয়ালু কিন্তু দুষ্টু প্রকৃতির মিষ্টি মেয়ে হিসেবে দেখানো হয়েছে। সে নানা মজাদার ঘটনার মধ্যে দিয়ে তার পৃথিবীকে চিনে নিতে শুরু করেছে। প্রতি পর্বে মাশাকে দেখানো হয়েছে জেদী এবং অস্থীর চরিত্রের, এদিকে বিরাট হৃদয়ের ভালুক সবসময় মাশাকে বিপদ থেকে রক্ষা করতে গিয়ে নিজেই মাশার দুষ্টুমির খপ্পরে পরে যায়। মাশা আর ভালুক ছাড়াও কার্টুনটিতে সহচরিত্র হিসেবে রয়েছে, পেঙ্গুইন - ডাশা, একটা ছোট পান্ডা, দুইটা নেকড়ে, একটা বাঘ, একটা মেয়ে ভালুক, একটা খড়গোশ, কাঠবিড়ালি, হেজহগ, রোজি নামের একটা শুকর, ছাগল এবং একটি কুকুর।

সূত্রসম্পাদনা

মাশা এবং ভালুক কার্টুনটির পরিচালক ডেনিস শেরভায়াস্টভ বলেন,

এক বাস্তব চরিত্রের উপর ভিত্তি করে মাশাকে তৈরি করা হয়েছে ... ১৯৯০ সালে কল্পকাহিনীটির পরিচালক ওলেগ কুজোভকভ ছুটিতে ছিলেন, তিনি সমুদ্র তীরে একটি ছোট্র মেয়েকে দেখতে পান। শিশুটি এতটাই চটপটে এবং মুখরা ছিল যে সে যেকোন অচেনা মানুষের সাথে কথা বলতে পারতে এবং তাদের সাথে দাবা খেলতে বা স্নান করতে যেত। কিন্তু কিছুদিন পরে দেখ গেল মেয়েটার কাছ থেকে সবাই লুকিয়ে থাকতে চাইত...[১০]

প্রোডাকশনসম্পাদনা

কার্টুনটির নির্মাণ ভার ২০০৮ সাল থেকে অ্যানিমাকর্ড অ্যানিমেশন স্টুডিওর উপরে রয়েচ্ছে। [১০] প্রতিটি পর্বের দৃশ্য রচনার ভার রয়েছে এর শ্রষ্ঠা ওলেগ কুজোভকভের উপর। গল্পের উপর ভিত্তি করে বাকি অংশ তৈরি করা হয় এবং সাধারণত প্রতিটি পর্বের জন্য কমপক্ষে ২০০০টি স্লাইড তৈরি করা হয়। গল্প নির্বাচিত হওয়ার পর টুডি অ্যানিমেশনের কাজ শুরু হয়, এই সময় প্রতিটি পর্বের প্রতিটি দৃশ্যে কতখানি সময় ব্যয় হবে এবং চরিত্রগুলো কিভাবে একে অপরের সাথে যোগাযোগ করবে তা নির্ধারণ করা হয়। সবকিছু ঠিক থাকলে কার্টুনটির ডাবিংয়ের কাজ শুরু হয়।[১১]

থ্রিডি-অ্যানিমেশন

ডাবিং এর পরে শুরু হয় থ্রিডি-অ্যানিমেশনের কাজ।

কণ্ঠস্বরসম্পাদনা

কার্টুনটিতে মাশা, তার কাজিন এবং ফাদার ফ্রস্ট মাত্র এই তিনটি চরিত্র কথা বলে। অন্যান্য চরিত্রগুলো মূক অভিনয় বা শব্দ এর মাধ্যমে যোগাযোগ করে। মাশা চরিত্রে কণ্ঠস্বর দিয়েছে অ্যালিনা কুকুশকিনা (রাশিয়া)। অ্যালিনা যখন মাশার জন্য কাজ শুরু করে তখন তার বয়স ছিল মাত্র ৬ বছর। সাত বছর পর ২০১৫ সালে অ্যানিমাকর্ড স্টুডিও জানিয়েছে নতুন পর্বগুলোতে মাশা চরিত্রে কণ্ঠস্বর দিবেন ভার্ভারা সারান্তেসেভা নামের আরেক ছয় বছরের বাচ্চা।

ইংরেজি সংস্করণে মাশা চরিত্রে কণ্ঠ দিয়েছেন এলসি ফিশার (পর্ব ১-২৬), রেবেকা ব্লুম (পর্ব ২৭-৩৯) এবং অ্যাঞ্জেলিকা কিমি (পর্ব ৪০-৫২)।

সংগীতসম্পাদনা

প্রতি পর্বে আবহাওয়া সংগীত রচনা করেছেন রাশিয়ার সুরকার ভাসিলি বোগাতিরেভ।

পুরস্কার ও স্বীকৃতিসম্পাদনা

  • জানুয়ারি, ২০১৫ সালে কার্টুনটি "ক্লাসিক টিভি শো" তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়।[১]
  • ফেব্রুয়ারিতে ২০১৫ সালে মাশা এবং বেয়ার ক্রিয়েটিভ ট্যালেন্ট পর্বে সেরা অ্যানিমেশন হিসেবে ২০১৫ কিডসস্ক্রিন পুরস্কার লাভ করে।[১২]
  • ২০১৫ সালে কিডসস্ক্রিন ম্যাগাজিন অ্যানিমার্কড অ্যানিমেশন স্টুডিওকে বিশ্ব সেরা ৫০ অ্যানিমেশন কোম্পানির একটি হিসেবে উল্লেখ করেছে।
  • ডিসেম্বর ২০১৬ পর্যন্ত কার্টুনটির "রেসিপি ফর ডিজাস্টার" পর্বটি ইউটিউবে ১.৮৭ বিলিয়ন বার দেখা হয়েছে। যা একে সাইটটির ষষ্ঠ সর্বাধিক দেখা ভিডিও হিসেবে স্থান দিয়েছে।

এছাড়াও - কার্টুনটির ইউটিউব চ্যানেল - মাশামেডভেডটিভী - সবসময় বিশ্বের পঞ্চম জনপ্রিয় ইউটিউব চ্যানেল হিসেবে পরিচিত।[১৩]

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস এর মতে, "মাথায় কাপড়সহ লোকজ পোষাকের কারণে মাশা ইন্দোনেশিয়া সহ বিশ্বের অনেক মুসলিম দেশের ঘরে ঘরে পরিচিত একটি চরিত্রে পরিণত হয়েছে।"[১৪] দিমিত্রি লাভিকো, অ্যানিমাকর্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, "এটি একটি মুসলিম দেশ, আমরা ভাগ্যবান যে সে মাথায় স্কার্ফ এবং পা ঢেকে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম!"[১৪]

মোবাইল অ্যাপসম্পাদনা

২০১১ সালের অগাস্ট মাসে অ্যাপ মিনিষ্ট্রি প্রথম "মাশা অ্যান্ড দি বিয়ার" নামে মোবাইল অ্যাপ বের করে। প্রতিষ্ঠানটি পরবর্তীতে ২০১৩ সালে প্রথম মোবাইল গেম "মাশা অ্যান্ড দি বেয়ারঃ সার্চ অ্যান্ড রেস্কিউ" বের করে। পরবর্তীতে মাশা এবং বিয়ার চরিত্রের উপর ভিত্তি করে নানা গেম এবং অ্যাপ্লিকেশন বের করেছে ইন্ডিগো কিডস, পিএসভি স্টুডিও, নোভি ডিস্ক।

পর্বসম্পাদনা

নেটফ্লিক্স প্রথম ২৯টি পর্বের মধ্যে ২৭টি সম্প্রচার করেছে। পর্ব ১-৩২ ইউটিউবের দুইটি ভিন্ন চ্যানেলে দুইবার আপলোড করা হয়েছে।

স্পিন-অফসম্পাদনা

মাশার গল্প নামে নেটফ্লিক্স এ আরেকটি স্পিন-অফ সিরিজ প্রচারিত হয়। এই অনুষ্ঠানে মাশা (বয়স্ক এক মহিলা) রাশিয়ার ক্লাসিক রূপকথার গল্প তার খেলনাগুলোর কাছে বলে। যদিও, গল্পগুলো মাশা নিজের মত পরিবর্তন করে। মাশার গল্প ছাড়াও মাশার স্পুকি স্টোরিজ নামে আরেকটি অনুষ্ঠান যুক্তরাজ্যের কার্টুনিতো ও নেটফ্লিক্সে প্রচারিত হয়।

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. Sputnik। "Masha and the Bear Destined for Cartoon Greatness"sputniknews.com। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-০৩-২৭ 
  2. http://www.independent.co.uk/arts-entertainment/tv/news/russian-cartoon-masha-and-the-bear-has-been-watched-more-than-a-billion-times-on-youtube-a6853461.html
  3. http://www.syracuse.com/tv/index.ssf/2016/04/masha_and_the_bear_russian_cartoon_popular_world.html
  4. "There's a Russian cartoon that's one of only 20 videos to have ever reached a billion YouTube views"The Independent (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-০৩-২৭ 
  5. "Most Viewed Videos of All Time (Over 200 million views)"। YouTube। সংগ্রহের তারিখ জুলাই ১৬, ২০১৫ 
  6. "Get Movies Uploaded Videos"। YouTube। সংগ্রহের তারিখ জুলাই ১৬, ২০১৫ 
  7. "Маша и Медведь Uploaded Videos"। YouTube। সংগ্রহের তারিখ জুলাই ১৬, ২০১৫ 
  8. "Russian Animated Series 'Masha and the Bear' to Get New Season"The Hollywood Reporter। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-০৩-২৭ 
  9. Reprints, Ilya Khrennikov। "This Russian Bear Is Hitting the Mall"Bloomberg.com। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-০৩-২৭ 
  10. Ustinova, Nadezhda। "How Russian animation 'Masha and the Bear' won the hearts of the world"rbth.com। সংগ্রহের তারিখ ২২ জুলাই ২০১৬ Date of publication not specified in online article.
  11. "Производственный процесс. Как делают мультфильм "Маша и Медведь""The Village। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-০৩-২৭ 
  12. "'Masha and The Bear' wins a 'children's Oscar'"rbth.com। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-০৩-২৭ 
  13. "MashaMedvedTV"YouTube। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-০৩-২৭ 
  14. Vasilyeva, Nataliya (১২ এপ্রিল ২০১৬)। "Russian cartoon bear takes the world by storm"The Big Story (ইংরেজি ভাষায়)। Associated Press। সংগ্রহের তারিখ ১২ এপ্রিল ২০১৬ 

বহিঃসংযোগসম্পাদনা