ভেলা একটি সরল কাঠামোর জলযান। সচরাচর ছোট নদী বা খাল পারাপারের জন্য ভেলা ব্যবহৃত হয়। ৫-৬টি কলাগাছের কাণ্ডকে পাশাপাশি সাজিয়ে কোনোক্রমে সংযুক্ত করে বাংলাদেশের গ্রামীণ এলাকায় ভেলা বানানো হয়ে থাকে।[১] সাপে কাটা মৃত মানুষকে ভেলায় ভাসিয়ে দেয়া ভারতের একটি প্রচীন সংস্কার।[২] সমুদ্রে আপৎকালীন সময়ে ভেসে থাকার জন্য বায়ুপূর্ণ রাবার বা প্লাস্টিকের ভেলা ব্যবহৃত হয়।

"অ্যাডভেঞ্চারস অফ হাকলবেরি ফিন" বইয়ের অলংকরণে প্রদর্শিত সনাতনী মার্কিনী ভেলা

স্থান বিশেষে এর নাম ভোরা। যেকোন সমতল ভাসমান কাঠামোকে ভেলা বলা হয়। পানি আটকে থাকে না বিধায় ভেলা কখনই পানিতে ডুবে যায় না। নৌকার সবচেয়ে সরল রূপ হল ভেলা, একে ভাসিয়ে রাখার জন্য এতে নৌকার মত গলুই থাকে না ।

গঠনসম্পাদনা

ভেলা তৈরির সহজ উপায় হল চার-পাঁচটি চার-পাঁচটি বা তারও বেশি সংখ্যক কলাগাছ, বাঁশ বা অন্য কোনগাছের গুঁড়ি একত্রে বেঁধে একাট পাটাতন তৈরী করা। সাধারণত চার-পাঁচটি কলাগাছ একসঙ্গে বেঁধে কলাগাছগুলোতে আড়াআড়ি মোটা শক্ত কাঠি বা বাঁশ দিয়ে গেঁথে নেয়া হয় যাতে গাছগুলো পরস্পর বিচ্ছিন্ন হতে না পারে। অতঃপর দড়ি দিয়ে সেগুলোকে সুদৃঢ় করা হয়। এর উপরে বাঁশের চাটাই বিছিয়ে ভেলা তৈরি করা হয়। ভেলা চালানো হয় লম্বা লগি দিয়ে। অগভীর পানিতে ভেলা এইভাবে চললেও গভীর পানিতে চলাচলের জন্য বইঠার বা চওড়া কাঠের তক্তা জাতীয় জিনিস উপকরণ ব্যবহৃত হয়।[৩]

কলাগাছ ছাড়াও ভেলা তৈরি করা হয় কাঠ, বাঁশ, গাছের গুঁড়ি ইত্যাদি দিয়ে। শক্ত করে আটকান বায়ুপূর্ণ পাত্র যেমন ব্যারেল প্রভৃতি ভেসে থাকতে সক্ষম বস্তু ব্যবহার করা হয়। প্রাচীন কালে বিভিন্ন অঞ্চলে নলখাগড়া ব্যবহার করেও ভেলা তৈরি করা হত।[৪]

আধুনিক কালে ভেলা তৈরীতে রাবারের বা প্লাস্টিকের বায়ু ভর্তি থলে, প্লাস্টিকের তৈরি বায়ুরোধী ড্রাম বা ব্যারেল প্রভৃতি ব্যবহার করা হয় । কিছু ভেলাতে দিক নিয়ন্ত্রণের জন্য হাল, হাল্কা ধাতব কাঠামো ইত্যাদি থাকতে পারে।

ভেলার উপকারীতাসম্পাদনা

সামান্য খরচে ভেলা তৈরী করে ছোট নদী, খাল, গাঙ পাড়ি দেয়া যায়। হঠাৎ বন্যার সময় ঘরবাড়ী প্লাবিত হয়ে গেলে ভেলা বানিয়ে মানুষ বেঁঁচে থাকে।[৫][৬]

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. বাংলা অভিধান
  2. কলাগাছের ভেলা ও গেইট
  3. ভেলা এক ধরনের সমতল নৌকা
  4. কলাগাছের ভেলা ও গেইট
  5. ভরসা এখন কলা গাছের ভেলা
  6. ভেলার যুগে ফেরা [ছবি]