ভূতাপীয় ক্ষমতা

ভূতাপীয় ক্ষমতা হল ভূতাপীয় শক্তি দ্বারা উৎপন্ন ক্ষমতা। বর্তমানে বিভিন্ন প্রযুক্তির মাধ্যমে এই ক্ষমতা অর্জন করা সম্ভব হচ্ছে। এর মধ্যে শুষ্ক বাষ্প শক্তিকেন্দ্র, আলোক বাষ্প শক্তিকেন্দ্র এবং বাইনারি চক্র শক্তিকেন্দ্র অন্যতম। বর্তমানে ভূতাপীয় শক্তির সাহায্যে ২৬ টি দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে।[১] অন্যদিকে ভূতাপীয় তাপমাত্রা ব্যবহৃত হচ্ছে ৭০টি দেশে।

ক্রাফলা ভূতাপীয় শক্তিকেন্দ্র, আইসল্যান্ড
যেসকল দেশে ভূতাপীয় শক্তি কেন্দ্র রয়েছে/তৈরি হচ্ছে

২০১৫ সাল পর্যন্ত সারা বিশ্বে প্রায় ১২.৮ মেগাওয়াটের শক্তিকেন্দ্র রয়েছে। যার ২৮% অর্থাৎ, ৩.৫৫ গিগাওয়াটের শক্তিকেন্দ্র যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত। ২০২০ সালের মধ্যে সারাবিশ্বে ১৪.৫-১৭.৬ গিগাওয়াটের শক্তিকেন্দ্র তৈরি হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।[২] ভূতাপীয় শক্তি সংস্থার তথ্যমতে বিশ্বে মোট সঞ্চিত ভূতাপীয় শক্তির ৬.৯ শতাংশ আমরা ব্যবহার করেছি। বিশ্বে মোট ভূতাপীয় শক্তি ৩৫ গিগাওয়াট থেকে ২ টেরাওয়াট হতে পারে। যেসকল দেশগুলো এই ভূতাপীয় শক্তি ব্যবহার করে নিজেদের ১৫ শতাংশ বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাচ্ছে তার মধ্যে এল সালভাদর, কেনিয়া, ফিলিপাইনস, আইসল্যান্ড এবং নিউজিল্যান্ড এবং কোস্টারিকা অন্যতম।[৩]

ভূতাপীয় ক্ষমতাকে নবায়নযোগ্য শক্তির মধ্যে ফেলা যায়। কারণ এই ক্ষেত্রে যে পরিমাণ তাপ পাওয়া যায় তা পৃথিবীর মোট তাপের তুলনায় নগন্য। ভূতাপীয় শক্তিকেন্দ্রগুলো থেকে যে পরিমাণ গ্রীনহাউজ গ্যাস নিঃসরিত হয় তা কয়লা-বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে অনেক কম। প্রতি কিলোও্যাট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ-এর জন্য ভূতাপীয় শক্তিকেন্দ্রে ৪৫ গ্রাম কার্বন নিঃসরণ হয়। যা কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের তুলনায় ৫ শতাংশেরও কম।[৪]

২০৫০ সালের মধ্যে এই ভূতাপীয় শক্তি মানুষের চাহিদার ৩-৫ শতাংশ পূরণ করবে। ২১০০ সালের মধ্যে তা ১০ শতাংশ পূরণ করবে।

ইতিহাসসম্পাদনা

২০শ শতাব্দীর শুরুর দিকে বিদ্যুৎ-এর চাহিদা মেটানোর জন্য নতুন কিছু চিন্তা করা শুরু হলো। ১৯০৪ সালের ৪ জুলাই ইতালির পিয়েরে গিনোরি কন্টি প্রথম ভূতাপীয় শক্তি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের চেষ্টা করেন। তিনি ৪ টি বৈদ্যুতিক বাতি জ্বালাতে সক্ষম হন।[৫] পরবর্তীতে, ১৯১১ সালে সেখানে বিশ্বের প্রথম বাণিজ্যিক ভূতাপীয় শক্তিকেন্দ্র স্থাপিত হয়। জাপান, বেপ্পু এবং গেসারেও পরীক্ষামূলকভাবে শক্তিকেন্দ্র নির্মাণ করা হয়। ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত ইতালিই একমাত্র রাষ্ট্র ছিল যারা ভূতাপীয় শক্তিকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতো।

ইতালির পর বাণিজ্যিকভাবে নিউজিল্যান্ড ছিল দ্বিতীয় রাষ্ট্র যারা ভূতাপীয় শক্তিকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করে। ১৯৫৮ সালে নিউজিল্যান্ডে ওয়াইরেকেই কেন্দ্র স্থাপিত হয়। এবং এই শক্তিকেন্দ্রেই সর্বপ্রথম আলোক বাষ্প প্রযুক্তি শুরু হয়।[৬]

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়াতে প্যাসিফিক গ্যাস এবং ইলেক্ট্রিক কোম্পানি সর্বপ্রথম গেসারে ভূতাপীয় শক্তিকেন্দ্র স্থাপন করে। এসময় যে টার্বাইনটি দিয়ে কাজ শুরু করা হয়েছিল তা প্রায় ৩০ বছর টিকেছিল এবং ১১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছিল।[৭]

শক্তিকেন্দ্রের ধরণসম্পাদনা

শুষ্ক বাষ্প (বামে), আলোক বাষ্প (মাঝখানে), এবং বাইনারি চক্র শক্তি কেন্দ্র (ডানে)

অন্যান্য তাপীয় বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো ভূতাপীয় শক্তি কেন্দ্রও একই ভাবে কাজ করে। তবে এক্ষেত্রে কোনরকম জ্বলানি ব্যবহার করা হয় না। এখানে ব্যবহার করা হয় পৃথিবীর মধ্যখানের তাপ। এই তাপকে কাজে লাগিয়ে কোন তরলজাতীয় পদার্থ বা জলকে গরম করা হয়। এই গরম করা জল টার্বাইনকে ঘোরায়। ফলে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়। পরবর্তীতে ঠান্ডা হওয়া জলকে পুনরায় তাপ দেওয়া হয়।

খরচসম্পাদনা

ভূতাপীয় শক্তিকেন্দ্রে কোনরকম জ্বালানীর প্রয়োজন পড়ে না। এর ফলে জ্বালানীর জন্য কোন খরচ হয় না। কিন্তু মোট খরচ অনেক হয়ে যায়। মাটি খুড়তেই মোট খরচের অর্ধেক খরচ হয়ে যায়। এবং অনেক বেশি খনন করলেও তা ঝুকিপূর্ণ হয়ে যায়। Geothermal Economics 101, Economics of a 35 MW Binary Cycle Geothermal Plant (PDF), New York: Glacier Partners, অক্টোবর ২০০৯, ২১ মে ২০১৩ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা, সংগ্রহের তারিখ ১৭ অক্টোবর ২০০৯ </ref>

আরও দেখুনসম্পাদনা

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. Bassam, Nasir El; Maegaard, Preben; Schlichting, Marcia (২০১৩)। Distributed Renewable Energies for Off-Grid Communities: Strategies and Technologies Toward Achieving Sustainability in Energy Generation and Supply (ইংরেজি ভাষায়)। Newnes। পৃষ্ঠা 187। আইএসবিএন 978-0-12-397178-4 
  2. "The International Geothermal Market At a Glance – May 2015" (PDF)। GEA—Geothermal Energy Association। মে ২০১৫। 
  3. Craig, William; Gavin, Kenneth (২০১৮)। Geothermal Energy, Heat Exchange Systems and Energy Piles। London: ICE Publishing। পৃষ্ঠা 41–42। আইএসবিএন 9780727763983 
  4. Moomaw, W., P. Burgherr, G. Heath, M. Lenzen, J. Nyboer, A. Verbruggen, 2011: Annex II: Methodology. In IPCC: Special Report on Renewable Energy Sources and Climate Change Mitigation (ref. page 10)
  5. Tiwari, G. N.; Ghosal, M. K. Renewable Energy Resources: Basic Principles and Applications. Alpha Science Int'l Ltd., 2005 আইএসবিএন ১-৮৪২৬৫-১২৫-০
  6. IPENZ Engineering Heritage ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২২ জুন ২০১৩ তারিখে. Ipenz.org.nz. Retrieved 13 December 2013.
  7. McLarty, Lynn; Reed, Marshall J. (অক্টোবর ১৯৯২), "The U.S. Geothermal Industry: Three Decades of Growth" (PDF), Energy Sources, Part A: Recovery, Utilization, and Environmental Effects, London: Taylor & Francis, 14 (4): 443–455, ডিওআই:10.1080/00908319208908739, ১৬ মে ২০১৬ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা, সংগ্রহের তারিখ ২৯ জুলাই ২০১৩ 

বহিঃসংযোগসম্পাদনা