নাগরিকত্ব: সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য

বিষয়বস্তু বিয়োগ হয়েছে বিষয়বস্তু যোগ হয়েছে
Ahmmedrejowan (আলোচনা | অবদান)
সম্পাদনা সারাংশ নেই
Ahmmedrejowan (আলোচনা | অবদান)
সম্পাদনা সারাংশ নেই
৯ নং লাইন:
* '''জন্মসুত্রে''' (''jus sanguinis'')- যদি কোনো ব্যক্তির পিতা-মাতার যে কোনো একজন বা উভয়ই যদি কোনো একটি দেশের নাগরিক হন, তবে সেই ব্যক্তির সেই দেশের নাগরিক হওয়ার অধিকার থাকতে পারে। পূর্বে এটি শুধুমাত্র পিতার দিক থেকে বিবেচনা করা হত, কিন্তু বিংশ শতকের লিঙ্গ সমতার ফলে এটি এখন সবার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। নাগরিকত্ব দেয়া হয় কোনো ব্যক্তির পূর্বপুরুষ বা তার জাতিগত পরিচয়ের উপর ভিত্তি করে। এই বিষয়টি ইউরোপের জাতি-রাষ্টের ধারণার সাথে সম্পর্কিত। রক্তের সম্পর্ক থাকলে যদি কোনো ব্যক্তির পিতা-মাতার একটি দেশের নাগরিকত্ব থাকে এবং সে যদি সেই দেশের বাইরে জন্মগ্রহণ করে তবে সেও নাগরিক বলে গন্য হবে। কিছু দেশ ([[মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র|মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র,]] [[কানাডা]], যুক্তরাজ্য) এই নাগরিকত্বের অধিকারকে কয়েকটি প্রজন্মের মাঝেই সিমাবদ্ধ করে দিয়েছে। আবার কিছু দেশ (জার্মানি, আয়ারল্যান্ড) শুধু মাত্র তাদেরকেই নাগরিকত্ব দেয় যারা প্রত্যেক প্রজন্মকে তার পররাষ্ট্র বিষয়ক দপ্তরে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিবন্ধ করে রাখে। অন্য দিকে কয়েকটি দেশ (ফ্রান্স, ইতালি, সুইজারল্যান্ড) প্রজন্মের কোনো ধরণের সিমাবদ্ধতা রাখে না, পূর্বপুরুষ নাগরিক হলে যে কেউ নাগরিকত্বের দাবি করতে পারে। বেশিরভাগ দেশের দেওয়ানি আইনেই এই ধরণের নাগরিকত্বের অস্তিত্ব বিদ্যমান।
*'''একটি দেশে জন্মগ্রহণের মাধ্যমে''' (''jus soli'')- কিছু ব্যক্তি যে দেশে জন্মগ্রহণ করেন, স্বয়ংক্রিয়ভাবেই সেই দেশের নাগরিক হয়ে যান। [[ইংল্যান্ড]] থেকে এই ধরণের নাগরিকত্বের উৎপত্তি হয়েছিল। যারাই এ রাজ্যে জন্মগ্রহণ করতো তারা রাজ্যের নাগরিক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হত এবং বেশির ভাগ দেশেই এটি একটি সাধারণ আইন। [[আমেরিকা অঞ্চল|আমেরিকার]] বেশিরভাগ দেশ নিঃশর্তভাবে তাদের দেশে জন্মানোর কারণে নাগরিকত্ব দিয়ে থাকে, যদিও অন্যান্য সকল দেশে এটি প্রায় বিলুপ্তই হয়ে গেছে।
**অনেক ক্ষেত্রে, ভুখন্ড অথবা পিতামাতার সম্পর্ক কিংবা উভয়টির মাধ্যমেই '''দেশে জন্মানোর মাধ্যমে প্রাপ্ত''' (''jus soli'') এবং '''জন্মসূত্রে প্রাপ্ত'''(''jus solisanguinis'') নাগরিকত্ব দেওয়া হয়ে থাকে।
*'''বিবাহসূত্রে''' (''jus matrimonii'')- অনেক দেশ একজন ব্যক্তিকে সে দেশের নাগরিককে বিয়ে করার কারণে দ্রুত নাগরিকত্ব দিয়ে থাকে। এই ধরণের নাগরিকত্ব দেওয়া দেশ গুলোতে [[ভুয়া বিবাহ|ভুয়া বিবাহ]] সনাক্তের চেষ্টা করার নিয়ম আছে। এক্ষেত্রে একসাথে বসবাস করার ইচ্ছা না থাকা সত্ত্বেও একজন নাগরিক টাকার বিনিময়ে নাগরিক নন এমন ব্যক্তি বিয়ে করে। কিছু দেশ (যুক্তরাজ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, কানাডা) বিবাহের মাধ্যমে নাগরিকত্ব দিয়ে থাকে যদি বিদেশী পতি কিংবা পত্নী যে দেশের নাগরিকত্ব চায় সেই দেশের স্থায়ী বাসিন্দা হয়। অন্যান্য দেশ (সুইজারল্যান্ড, লুক্সেমবার্গ) একটি নির্দিষ্ট সময়ের পরে বিদেশী পতি বা পত্নীর নাগরিকত্ব দিয়ে থাকে। এক্ষেত্রে কিছু কিছু সময় তাদের ভাষাগত দক্ষতা ও সে দেশের সংস্কৃতির সাথে খাপ খাইয়ে নেয়ার বিষয়টিও যাচাই করা হয় (যেমন- পতি/পত্নী যে দেশের নাগরিক সেখানে নিয়মিত যাওয়া আসা)।
*'''রাষ্ট্র প্রদত্ত নাগরিকত্ব'''- একটি দেশে আইনানুযায়ী প্রবেশকৃত এবং সে দেশে বসবাসের অনুমতি প্রাপ্ত অথবা রাজনৈতিক আশ্রয় প্রাপ্ত ব্যক্তিকে রাষ্ট্র সাধারণত নাগরিকত্ব দিয়ে থাকে। তারা সাধারণত সেখানে একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বসবয়াস করে। অনেক রাষ্ট্র এধরণের নাগরিকত্ব দেওয়ার জন্য কিছু শর্তারোপ করে। যেমন, তার ভাষাজ্ঞান যাচাই, পূর্বের দেশের জীবনযাপন, ভাল আচারণ (কোনো গুরুতর অপরাধের দলিল না থাকা), নৈতিক চরিত্র (যেমন, মাতাল না হওয়া বা জুয়া না খেলা), নতুন রাষ্ট্র ও তার শাসকের প্রতি আনুগত্যের শপথ গ্রহণ এবং পুর্বের দেশের নাগরিকত্ব ত্যাগ করা।