বিধান সরণি

কলকাতার একটি রাস্তা

বিধান সরণি (আগেকার নাম কর্নওয়ালিস স্ট্রিট) হল ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের রাজধানী কলকাতা শহরের উত্তরাঞ্চলের একটি অন্যতম প্রধান রাস্তা। এই রাস্তাটি উত্তর থেকে দক্ষিণ দিক বরাবর প্রসারিত। পশ্চিমবঙ্গের দ্বিতীয় মুখ্যমন্ত্রী ড. বিধানচন্দ্র রায়ের নামে এই রাস্তাটির নামকরণ করা হয়েছে।[১] রাস্তাটি শ্যামবাজার পাঁচমাথার মোড় থেকে শুরু হয়ে মহাত্মা গান্ধী রোড ক্রসিং পর্যন্ত প্রসারিত। এর পর থেকে রাস্তাটির নাম কলেজ স্ট্রিট। উত্তর কলকাতার শ্যামবাজার, হাতিবাগান, হেদুয়া, শিমলা, ঠনঠনিয়া ও কলেজ স্ট্রিট এলাকা দিয়ে রাস্তাটি প্রসারিত।

বিধান সরণি

১৭৪২ সালে বাংলার গ্রামাঞ্চলে মারাঠা সৈন্যদের হানাদারি বৃদ্ধি পেলে, তাদের হাত থেকে কলকাতাকে রক্ষা করার জন্য তিন-মাইল দীর্ঘ মারাঠা খাত খনন করা হয়। কিন্তু মারাঠারা কখনই কলকাতা আক্রমণ করেনি।[২] ১৭৯৯ সালে এই খাত বুজিয়ে দিয়ে সার্কুলার রোড নির্মাণ করা হয়।[৩] এই রাস্তাটি শ্যামবাজার থেকে শুরু হয়ে তৎকালীন কলকাতা শহরকে বৃত্তাকারে বেষ্টন করে ময়দান অঞ্চলে এসে শেষ হয়। উনিশ শতকের গোড়ার দিকে এই রাস্তাটিকে পাকা রাস্তা করা হয়। সেই সময় কলকাতায় দক্ষিণ থেকে উত্তর দিকে প্রসারিত প্রধান রাস্তাগুলি ছিল — উড স্ট্রিট (এই রাস্তার কিয়দংশ বর্তমানে ড. মার্টিন লুথার কিং সরণি নামে পরিচিত), ওয়েলেসলি স্ট্রিট (বর্তমান নাম রফি আহমেদ কিদোয়াই স্ট্রিট), ওয়েলিংটন স্ট্রিট (বর্তমান নাম নির্মল চন্দ্র স্ট্রিট), কলেজ স্ট্রিট ও কর্নওয়ালিস স্ট্রিট (অধুনা বিধান সরণি)।[৩]

হাতিবাগান বাজার বিধান সরণির ধারে অবস্থিত। অরবিন্দ সরণি অবধি রাস্তার ধার বরাবর প্রসারিত এই রাস্তাটি এলাকার যানজটের কারণ।[৪]

বিধান সরণির ধারে স্টার থিয়েটার অবস্থিত। একশো বছরের সময়কালে এই থিয়েটারে ৮০ জন নাট্যকারের লেখা ২৫০টি বাংলা নাটক বিভিন্ন প্রযোজকের প্রযোজনায় মঞ্চস্থ হয়। ১২টিরও বেশি হিন্দি নাটকও এই থিয়েটারে মঞ্চস্থ হয়েছিল। ১৯৯১ সালের ১৬ অক্টোবর একটি অগ্নিকাণ্ডে এই থিয়েটার ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়।[৫] আবার গড়ে তোলা হলেও এই থিয়েটার তার হৃতগৌরব পুনরুদ্ধার করতে ব্যর্থ হয়েছে। বিধান সরণির ধারে পাঁচটি সিনেমা হল রয়েছে — রাধা, রূপবাণী, মিনার, মিত্রা ও দর্পণা। এই কারণে এই অঞ্চলটিকে কলকাতার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিনোদন কেন্দ্রও মনে করা হয়।

হেদুয়ার কাছে বিধান সরণির ধারেই বেথুন কলেজ অবস্থিত। বিখ্যাত মিষ্টান্ন ভাণ্ডার গিরিশচন্দ্র দে ও নকুরচন্দ্র নন্দী এই রাস্তার ধারে অবস্থিত।

বিদ্যাসাগর কলেজ, বিধান সরণি, জুলাই ২০২২।

বিখ্যাত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিদ্যাসাগর কলেজ বিধান সরণির উপরেই ঠনঠনিয়া কালীবাড়ির কাছে অবস্থিত।

চিত্রকক্ষসম্পাদনা

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. Dutta, Krishna (২০০৩)। Calcutta: A Cultural and Literary History। Signal Book। পৃষ্ঠা 45। 
  2. Lahiri Choudhury, Dhriti Kanta, p 157
  3. Nair, P. Thankappan in The Growth and Development of Old Calcutta, in Calcutta, the Living City, Vol. I, edited by Sukanta Chaudhuri, pp. 13-17, Oxford University Press, আইএসবিএন ৯৭৮-০-১৯-৫৬৩৬৯৬-৩.
  4. "Bengali new year"Notebook। The Statesman 10 April 2006। ২০০৭-০৯-২৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০০৭-০৮-১৬ 
  5. Mukhopadhyay, Ganesh। "Theatre Stage"Banglapedia। Asiatic Society of Bangladesh। সংগ্রহের তারিখ ২০০৭-০৮-১৬