ইউফ্রেটিস নদীর উপর প্রায় ১২টি বাঁধ রয়েছে, তার মধ্যে বাথ বাঁধ (আরবি: سد البعث) অন্যতম। বাঁধটি ইউফ্রেটিস নদীর উপর তৈরী একটি বাঁধ, যা সিরিয়ার অন্যতম শহর রাক্কা (আইএসের কথিত রাজধানী) থেকে ২২ কিলোমিটার (প্রায় ১৪ মাইল) উজানে অবস্থিত। বাঁধটি এর বিদ্যুৎ উৎপাদন ও ঐতিহাসিক গুরুত্বের জন্য সমগ্র সিরিয়ায় মানুষের কাছে পরিচিত। বাঁধটির নির্মাণ কাজ শুরু হয় ১৯৮৩ সালে এবং চার বছর পর ১৯৮৬ সালে এটির কাজ শেষ হয়। বাঁধটি জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করার জন্যই প্রধানত ব্যবহৃত হয়, একই সাথে তাবকা বাঁধ থেকে অনিয়মিত জলের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করার উদ্দেশ্যেও ব্যবহার করা হয়ে থাকে। তাবকা বাঁধটি এই বাঁধ থেকে ১৮ কিলোমিটার (প্রায় ১১ মাইল) উত্তরে অবস্থিত। তাবকা বাঁধ থেকে এই অনিয়মিত প্রবাহ বিদ্যুৎ চাহিদা পরিবর্তনের কারণ বলে গণ্য করা হয়। বাথ বাঁধ ১৪ মিটার (প্রায় ৪৬ ফুট) উচ্চতা সম্পন্ন এবং এই বাঁধে স্থাপিত টারবাইন থেকে ৮১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপন্ন করা যায়। বাথ বাঁধ জলাধার সঞ্চয়ের ক্ষমতা ০.০৯ ঘন কিলোমিটার (প্রায় ০.০২২ কিউবিক মাইল) এবং এটি ইউফ্রেটিস নদীর উপর তৈরী অন্যতম বৃহৎ বাঁধ। বাথ বাঁধ সিরিয়ার ইউফ্রেটিস নদীর উপর নির্মাণ করা যে তিনটি বাঁধ রয়েছে তার অন্যতম একটি। অন্য দুটি হচ্ছে তাবকা বাঁধ (সিরিয়ার বৃহত্তম বাঁধ) এবং তিশরিন বাঁধ (সম্প্রতি আইএসের দখলমুক্ত হয়েছে)। সিরিয়া-তুরস্ক সীমান্তের ৮০ কিলোমিটার (প্রায় ৫০ মাইল) দক্ষিণে তিশরিন বাঁধ অবস্থিত। বাথ বাঁধের মতো তিশরিন বাঁধও কার্যত তাবকা বাঁধের সাথে সম্পর্কিত। তাবকা বাঁধের হতাশাজনক কর্মক্ষমতার জন্য তিশরিন বাঁধ নির্মাণে আংশিকভাবে কর্মকর্তাদের অনুপ্রাণিত করেছিল। গৃহযুদ্ধের আগে সিরিয়ায় একটি চতুর্থ বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল, যার নাম হালাবিয়ে বাঁধ যা দেইর ইজ-জোর প্রদেশের মধ্যে পড়েছে। এটি ইউফ্রেটিস নদীর উপর নির্মাণ করার কথা ছিল এবং এটি বাথ বাঁধ থেকে প্রতিকুলের দিকে।

সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধসম্পাদনা

৪ঠা ফেব্রুয়ারি ২০১৩ তারিখে, বিরোধী দলগুলো বাঁধটি দখল করে, এক সপ্তাহ আগে তারা তাবকা বাঁধটিও দখল করেছিল। ৪ঠা জুন ২০১৭ তারিখে, সিরিয়ার গণতান্ত্রিক বাহিনী দ্বারা আইএসআইএলের কাছ থেকে বাথ বাঁধটি দখল করা হয়। দখলের পর তারা এটিকে "ফ্রিডম বাঁধ" নাম দেয়া হয়।

আরও দেখুনসম্পাদনা

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  • Collelo, Thomas (১৯৮৭), Syria: A Country Study, Washington: GPO for the Library of Congress, ওসিএলসি 44250830 
  • Jamous, Bassam (২০০৯), "Nouveaux aménagements hydrauliques sur le Moyen Euphrate syrienne. Appel à projets archéologiques d'urgence" (PDF), studiaorontica.org/ (French ভাষায়), DGAM, সংগ্রহের তারিখ ১৪ ডিসেম্বর ২০০৯ 
  • Kliot, Nurit (১৯৯৪), Water Resources and Conflict in the Middle East, Milton Park: Routledge, আইএসবিএন 0-415-09752-5 
  • Shapland, Greg (১৯৯৭), Rivers of discord: international water disputes in the Middle East, New York: Palgrave Macmillan, আইএসবিএন 978-0-312-16522-2