বাংলাদেশের ভূতত্ত্ব

(বাংলাদেশের ভূতত্ব থেকে পুনর্নির্দেশিত)
বাংলাদেশের ভূগোল
গঙ্গা নদী বিধৌত বদ্বীপ

বাংলাদেশের ভূতত্ত্ব দেশটির অবস্থান দ্বারা প্রভাবিত। বাংলাদেশ মূলত একটি নদীমাতৃক দেশ। বঙ্গোপসাগরের উত্তরে গঙ্গা এবং ব্রহ্মপুত্র নদী দ্বারা গঠিত বদ্বীপের দুই-তৃতীয়াংশ নিয়ে এই অঞ্চল গঠিত। এই অঞ্চলের উত্তর-পশ্চিমে প্রাচীন পলল দ্বারা গঠিত ছোট কিন্তু কিছুটা উঁচু দুটি এলাকা রয়েছে যা বরেন্দ্র ভূমি এবং মধুপুর ট্র্যাক্ট নামে পরিচিত। অপরদিকে পূর্বাঞ্চলের সীমান্ত এলাকায় টারশিয়ারি যুগে সৃষ্ট ভাঁজ পর্বত শ্রেণী পরিলক্ষিত হয়।[১]

ভূতাত্ত্বিক গঠনসম্পাদনা

ভূতাত্তিক কাঠামোসম্পাদনা

ভূতাত্ত্বিক গঠনের দিক থেকে বাংলাদেশকে মূলত দুইটি প্রধান ভাগে ভাগ করা হয়। এই দুইটি ভাগকে বিভক্তকারী মধ্যবর্তী সরু অঞ্চলকে হিঞ্জ জোন বলা হয়।

প্রাক-ক্যামব্রিয়ান ভারতীয় প্লাটফর্মসম্পাদনা

প্রাক ক্যামব্রিয়ান ভারতীয় প্লাটফর্মটি বাংলাদেশের রংপুর, দিনাজপুর, বগুড়া, রাজশাহী এবং পাবনা অঞ্চল বরাবর বিস্তৃত। ভূগঠনের দিক থেকে অঞ্চলটি অপেক্ষাকৃত স্থিতিশীল। ফলে এর উপরে সৃষ্ট পাললিক শিলা স্তরের পুরুত্ব তুলনামূলক ভাবে অনেক কম। এই ভিত শিলার উপরে পলল মৃত্তিকার পুরুত্ব সর্বনিম্ন প্রায় ১৩০ মিটার এবং এই পললের পুরুত্ব ক্রমাগতভাবে দক্ষিণ পূর্ব দিকে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই অঞ্চলটি দক্ষিণে হিঞ্জ জোন এবং উত্তরে সাব হিমালয়ান ফোরডীপ দিয়ে সীমাবদ্ধ। প্রাক-ক্যামব্রিয়ান ভারতীয় প্লাটফর্ম অঞ্চলটি রংপুর স্যাডল বা দিনাজপুর শিল্ড এবং বগুড়া সেলফ এই দুই ভাগে বিভক্ত।

বেসিন বা জিওসিনক্লাইন অঞ্চলসম্পাদনা

বাংলাদেশে হিঞ্জ জোনের দক্ষিণ ও পূর্বাংশে জিওসিনক্লাইন লক্ষ্য করা যায়। সাধারন ভাবে ধারণা করা হয় অতীতে কোন ভূতাত্ত্বিক সময়কালে ভূ-আলোড়নের মাধ্যমে ভাঁজ পর্বত সৃষ্টির সময় বেসিন বা জিওসিনক্লাইন সৃষ্টি হয়েছে। এই অঞ্চলের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এখানে পাললিক শিলা স্তরের পুরুত্ব তুলনামূলক ভাবে অনেক বেশি, যা সাধারণত ১২ থেকে ২০ কিলোমিটারেরও বেশি পুরু। এই অঞ্ছলের আর একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো, এই বেসিন অঞ্চলে পাললিক শিলাস্তরের নিচে মহাদেশীয় ভিত শিলার পরিবর্তে মহাসাগরীয় ভিত শিলা উপস্থিত। ধারণা করা হয় এ অঞ্চলে পাললিক শিলাস্তরের নিচে কিছু ক্রিটেশাস যুগের শিলাস্ত্র রয়েছে। বেসিন বা জিওসিনক্লাইন অঞ্চলকে ফোরডিপ অঞ্চল এবং ফোল্ড বেল্ট অঞ্চল নামের আরো দুটি উপভাগে ভাগ করা হয়। বাংলাদেশের ভূ-তাত্ত্বিক৷ গঠনের একটি বিশেষত্ব হলো এই এলাকার ভূ-তাত্ত্বিক কাঠামো যেমন-উর্ধভাঁজসমূহ, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তীব্র ভূআন্দোলনের আওতায় পড়েনি এবং তাই তার রিপ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মৃদু।এই এলাকার ভূ-তাত্ত্বিক কাঠামো থেকে তথা তেলের ফাঁদসমূহ মূলত অপেক্ষককৃত নবীন প্লায়োসিন যুগের ভূ-আন্দোলনের ফলে সৃস্টি এবং এর ভেতরে তেলের আগমন ভূ-তাত্ত্বিক অতীতের প্রেক্ষিতে অল্প যুগ আগে ঘটেছে বলে মনে করা হয়।

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. "Bangladesh"। Encyclopædia Britannica। সংগ্রহের তারিখ ২০০৭-০৮-১৮ 

বহিঃসংযোগসম্পাদনা

  বাংলাদেশের ভূগোল বিষয়ক এ নিবন্ধটি অসম্পূর্ণ। আপনি চাইলে এটি সমৃদ্ধ করতে পারেন।