বস্তুবাচকতা (বিজ্ঞান)

বিজ্ঞান-দর্শনশাস্ত্রের পরিভাষা

বিজ্ঞানে বস্তুবাচকতা (Objectivity) বলতে একটি মূল্যবোধকে বোঝায় যা বলে কিভাবে বিজ্ঞান চর্চা করা হয় এবং কিভাবে বৈজ্ঞানিক সত্যকে আবিষ্কার করা হয়। এটা একটি ধারণা যা প্রাকৃতিক জগৎ সম্পর্কিত সত্য উন্মোচন করার চেষ্টায় বিজ্ঞানীগণ গ্রহণ করে থাকেন, আর এটি করার জন্য বিজ্ঞানীকে অবশ্যই ব্যক্তিগত পক্ষপাত (bias), অবরোহী অঙ্গিকার (priori commitment), আবেগীয় সম্পৃক্ততা (emotional involvement) প্রভৃতি পরিত্যাগ করতে হয়।[১] বস্তুবাচকতাকে প্রায়শই বৈজ্ঞানিক পরিমাপের বৈশিষ্ট্য বলা হয়ে থাকে, কারণ একাধিক বিজ্ঞানীর দ্বারা পরীক্ষা করলেও পরিমাপের নির্ভুলতাকে একই পাওয়া যাবে, বিজ্ঞানীভেদে নির্ভুলতা বিভিন্ন হবে না। আর তাই এটি ঘনিষ্ঠভাবে পরীক্ষণযোগ্যতা (testability) ও উৎপাদনযোগ্যতার (reproducibility) সাথে সম্পর্কিত। সঠিকভাবে বস্তুবাচক হিসেবে বিবেচিত হবার জন্য, পরিমাপের ফলাফলকে অবশ্যই বিভিন্ন ব্যক্তির মদ্যে আদান-প্রদান করা হবে এবং তৃতীয়ব্যক্তিকে তা প্রদর্শন করতে হবে। এরকম প্রদর্শনক্ষম জ্ঞান সাধারণভাবে তার ভবিষ্যদ্বাণীর প্রদর্শনক্ষম ক্ষমতা বা প্রযুক্তিগত নির্মানকে প্রকাশ করে।

বিজ্ঞানের অবজেক্টিভিটি হ'ল ব্যক্তিগত পক্ষপাত, আবেগ এবং ভ্রান্ত বিশ্বাসকে বাদ দিয়ে প্রাকৃতিক বিশ্ব সম্পর্কে সত্য প্রকাশ করার চেষ্টা

বৈজ্ঞানিক গবেষণায় বস্তুবাচকতার সীমাবদ্ধতা না বুঝতে পারায় সমস্যার সৃষ্টি হয়, বিশেষ করে তখন সমস্যার সৃষ্টি হয় যখন ফলাফলের সাধারণীকরণ করা হয়। যদি বস্তু নির্বাচন এবং পরিমাপ পদ্ধতি ব্যক্তিবাচক হয়, তাহলে সেই ব্যক্তিবাচক পদ্ধতির ফলাফল যে বৃহত্তর ব্যবস্থা থেকে বস্তু নির্বাচন করা হয়েছিল তার প্রতি সাধারণীকৃত হলে, তাহলে অবশ্যই গৃহীত সিদ্ধান্ত পক্ষপাতদুষ্ট হয়ে থাকে।

বস্তুবাচকতাকে বৈজ্ঞানিক সর্বসম্মতির (scientific consensus) সাথে মিলিয়ে ফেলা উচিত না। বিজ্ঞানীগণ একটা সময়ে একটি বিষয়ে এক মত হতে পারেন, কিন্তু পরে আবিষ্কার করতে পারেন যে, সেই বিষয়টি একটি ব্যক্তিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করছে।

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. Daston, Lorraine; Galison, Peter (২০১০)। Objectivity। Zone Books। আইএসবিএন 9781890951795। ২২ মে ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৮ মে ২০১৭ 

বহিঃসংযোগসম্পাদনা