প্রতাপগড় রাজ্য ভারতীয় উপমহাদেশের উত্তর-পূর্বে অবস্থিত একটি মধ্যযুগীয় রাজ্য ছিল। বর্তমান ভারতের আসাম রাজ্যের করিমগঞ্জ জেলার কিছু অংশ এবং বর্তমান বাংলাদেশ এর সিলেটের কিছু অংশ নিয়ে গঠিত ছিল , রাজ্যটি হিন্দু ও ইসলামী অনুসারীদের মিশ্র জনসংখ্যার উপর মুসলিম রাজাদের একটি লাইন দ্বারা শাসিত হয়েছিল। এটি কাছাড়, ত্রিপুরা এবং বাংলার বৃহত্তর রাজ্য দ্বারা সীমাবদ্ধ ছিল। [১]

পূর্ব বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে আধুনিক সীমানা গঠনকারী পার্বত্য বনাঞ্চলকে কেন্দ্র করে, পরবর্তীতে প্রতাপগড় গঠিত ভূমিগুলি প্রাথমিকভাবে ত্রিপুরার শাসকদের নিয়ন্ত্রণে ছিল এবং প্রধানত হিন্দু উপজাতিদের দ্বারা অধ্যুষিত ছিল। এটি বিশ্বাস করা হয় যে খ্রিস্টীয় পঞ্চদশ শতাব্দীর শেষের বছরগুলিতে, অঞ্চলটি তুর্কমেন বংশের রাজা মালিক প্রতাপ কর্তৃক পৃথক করা হয়েছিল, যিনি রাজ্যটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তাঁর নিজের নামে রাজ্যটির নামকরণ করেছিলেন। তাঁর নাতি মির্জা মোহাম্মদ বায়োজিদ খাঁ ওরফে সুলতান বাজিদ এর শাসনামলে প্রতাপগড় রাজ্যটি সিলেটের মধ্যে প্রভাবশালী রাজ্য হয়ে উঠেছিল এবং একটি উল্লেখযোগ্য সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল। এটি একটি উল্লেখযোগ্য সামরিক শক্তিতে পরিণত হয়েছিল। কাছাড়ের শক্তিশালী রাজ্যকে পরাজিত করার পাশাপাশি বাংলার আধিপত্যের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিল। এবং কিছু সময়ের জন্য সিলেট দখল করেছিল।

প্রতাপগড় এর শাসক পরিবার পরে কেবল ব্রিটিশদের অধীনে জমিদার হিসাবে এই এলাকা শাসন করেছিলেন। যাইহোক, এই রাজ্যের উত্তরাধিকারীরা এই অঞ্চলে একটি উল্লেখযোগ্য প্রভাব অব্যাহত রেখেছিল, এর নামটি এই অঞ্চলের পরবর্তী প্রশাসনিক বিভাগ এবং এর ইতিহাস এবং কিংবদন্তিগুলি স্থানীয় জনগণের মধ্যে মৌখিক ঐতিহ্য হিসাবে বেঁচে ছিল।

শাহজালাল নামক ইয়েমেন থেকে আসা একজন মুসলিম সুফি সাধক ১৩০৩ সালে শ্রীহট্ট বা সিলেট জয় করার পর সিলেটের সাথে করিমগঞ্জের বৃহৎ এলাকাটি বঙ্গ সুলতানির অধীনে চলে যায়। সেইসময় এখানে পুরা নামক একজন সামন্ত রাজার রাজ্য ছিল। সেটি বদরপুর বুন্দাশিল,চাপঘাট এলাকা বা আরো বেশী বিস্তৃত ছিল বলে জানা যায় । এই পুরো অঞ্চলটি তখন ত্রিপুরার রাজার অধীনে ছিল। এই অঞ্চল তখন ও শ্রীহট্ট বা সিলেটের সাথে বঙ্গ সুলতানীর অধীনে যায়নি ত্রিপুরার রাজার অধীনে ছিল । চতুরদশ শতাব্দীর শেষভাগে মির্জা মালিক মোহাম্মদ তুরাণির অধীনে আসা বৃহৎ তুর্কি বাহিনী এই অঞ্চলের বদরপুর শহর দখল করে। তুরাণি নিজেকে রাজা ঘোষণা করেন ও পরাজিত ত্রিপুর শাসক পুরারাজার কন্যা উমাবতীকে বিয়ে করেন ও পুরা রাজার রাজ্যটির মালিক হোন । সেই পরিবারটির পরবর্তী বংশধর মির্জা মালিক মজলিশ পরতাব খাঁ লোকমুখে মালিক প্রতাপ নামে পরিচিত ছিলেন।তিনি সমগ্র পাথারকান্দি , নিলামবাজার , বারইগ্রাম এলাকা সহ জয় করে তাদের সাম্রাজ্য অনেকদূর বিস্তৃত করেছিলেন ও নিজের নামে রাজ্যটির নামকরণ করেছিলেন পরতাবগড় পরে লোকমুখে সেটি হয়ে যায় প্রতাপগড় । পরে হুসেন শাহের রাজত্বকালে পরতাবগড় বা (১৪৮৩-১৫১৯) প্রতাপগড় বলে পরিচিত রাজ্যটি ও বঙ্গ সুলতানির অধীনে চলে আসে। হুসেন শাহ ও তার পুত্র মাহমুদ শাহের যথাক্রমে কালিগঞ্জ ও সুপ্রাকান্দিতে পাওয়া লিপি সমগ্র অঞ্চলটির বঙ্গ সুলতানি শাসনের অধীনে থাকা প্রমাণ করে। এই রাজ্যের রাজা মির্জা মোহাম্মদ বায়োজিদ খাঁ ওরফে সুলতান বাজিদ রাজ্যটিকে আরো বিস্তৃত করে নিজেকে পরতাবগড় বা প্রতাপগড় ও সিলেটের রাজা ও সুলতান ঘোষণা করেন। তাই লোকমুখে আজো তিনি সুলতান বাজিদ নামে পরিচিত। পঞ্চখন্ড ও এই পরতাবগড় বা লোকমুখে প্রতাপগড় হয়ে যাওয়া রাজ্যটির অংশ ছিল তাই আইন ই আকবর ই নামক গ্রন্থে পরতাবগড় পঞ্জখন্ড নামটি একসাথে লিখা আছে। ফার্সিতে পাঁচ বা পঞ্চ সংখ্যাটিকে পঞ্জ বলা হয় তাই পঞ্চখণ্ড কে পঞ্জখন্দ বা পঞ্জখন্ড লিখা।সিলেটের সাথে এই অঞ্চলটি ১৫৭৬ সালে সম্রাট আকবরের রাজত্বকালে মোঘল বা মোগল সাম্রাজ্যের অধীনে আসে। আইন-ই-আকবরীর মতে, রাজ্যটির বেশীর ভাগ অঞ্চল মোঘল বা মোগল সিলহাট সরকারের অধীনে পরতাবগড় বা প্রতাপগড় রাজমহলে রাখা হয়েছিল। জেলাটি মোগল বা মোঘল সিলহট সরকার ও বাংলা সুবাহর অংশ হিসেবে ছিল।

উত্তরাধিকার : প্রতাপগড় রাজ্য নিজেদের মধ্যে ভাগ হয়ে কয়েকটি পরগণা বা এলাকায় পর্যবসিত হয়েছিল। প্রতাপগড় রাজবংশের উত্তরাধিকারী লোকদের নামে বিভিন্ন তালুক এর নাম আছে । সিলেটের সুলতান ও প্রতাপগড় এর রাজা মির্জা মোহাম্মদ বায়োজিদ খাঁ এর ছেলেদের উত্তরাধিকারী গণ প্রতাপগড় , জফরগড় ও পাথারিয়া পরগণাতে বর্তমান ছিলেন ও আছেন। প্রতাপগড় এ সুলতান মোহাম্মদ , জফরগড় এ সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ , কাছাড় এ তালিব মোহাম্মদ ওরফে তালিব মোহাম্মদ ঠাকুর এবং পাথারিয়া তে মালিক মোহাম্মদ ও মির্জা জাহিদ খাঁ এর বংশধর গণ আজ ও জীবিত আছেন।


প্রতাপগড়ের জমিদার : প্রতাপগড় রাজ্য নিজেদের মধ্যে ভাগ হয়ে কয়েকটি পরগণা বা এলাকায় পর্যবসিত হয়েছিল। প্রতাপগড় রাজবংশের উত্তরাধিকারী লোকদের নামে বিভিন্ন তালুক এর নাম আছে । সিলেটের সুলতান ও প্রতাপগড় এর রাজা মির্জা মোহাম্মদ বায়োজিদ খাঁ এর ছেলেদের উত্তরাধিকারী গণ প্রতাপগড় , জফরগড় ও পাথারিয়া পরগণাতে বর্তমান ছিলেন ও আছেন। প্রতাপগড় এ সুলতান মোহাম্মদ , জফরগড় এ সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ, কাছাড় এ তালিব মোহাম্মদ ওরফে তালিব মোহাম্মদ ঠাকুর এবং পাথারিয়া তে মালিক মোহাম্মদ ও মির্জা জাহিদ খাঁ এর বংশধর গণ আজ ও জীবিত আছেন।

উৎপত্তি

সম্পাদনা

প্রারম্ভিক ইতিহাস

সম্পাদনা

রাজবংশের প্রতিষ্ঠা

সম্পাদনা

ইতিহাস

সম্পাদনা

ত্রিপুরা থেকে স্বাধীনতা

সম্পাদনা

বাংলার বিরুদ্ধে যুদ্ধ

সম্পাদনা

কাছাড়ি আক্রমণ

সম্পাদনা

প্রতাপগড়ের জমিদার

সম্পাদনা

জনগণ ও রীতিনীতি

সম্পাদনা

উত্তরাধিকার

সম্পাদনা

প্রতাপগড়ের রাজাদের বংশবৃত্তান্ত

সম্পাদনা

তথ্যসূত্র

সম্পাদনা
  1. "প্রতাপগড় রাজবংশের ইতিহাস"সিলেটের ডাক (ইংরেজি ভাষায়)। ২০২২-০৩-৩০। সংগ্রহের তারিখ ২০২৩-০১-৩০ [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]

বহিঃসংযোগ

সম্পাদনা