পুরাতন বিশ্বের চুটকি

মাসসিকাপিডি (Muscicapidae) গোত্রের অন্তর্গত সকল পাখি পুরাতন বিশ্বের চুটকি নামে পরিচিত। পুরাতন বিশ্ব বলতে ইউরোপ, আফ্রিকাএশিয়া মহাদেশকে বোঝানো হয়েছে। এসব পাখির অধিকাংশই আকারে ছোট, পতঙ্গভূক ও বেশ ভাল গান গাইতে পারে। মাসসিকাপিডি গোত্র ও এতে অন্তর্ভুক্ত প্রজাতিগুলোর অবস্থান নিয়ে পক্ষীবিদদের মাঝে যথেষ্ট মতভেদ রয়েছে।[১]

পুরাতন বিশ্বের চুটকি
Copsychus saularis, New Delhi, India 1.jpg
দোয়েল, Copsychus saularis
বৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ: Animalia
পর্ব: কর্ডাটা
শ্রেণী: পক্ষী
বর্গ: Passeriformes
উপবর্গ: Passeri
পরিবার: Muscicapidae
Vigors, 1825
গণ

নিবন্ধ দেখুন

বিবরণসম্পাদনা

চুটকিদের মধ্যে আকার ও গঠনে বেশ বৈসাদৃশ্য লক্ষ্য করা যায়। এরা আকারে ছোট বা মাঝারি; দৈর্ঘ্যে ৯ থেকে ২২ সেমি পর্যন্ত লম্বা হয়।[২] অধিকাংশ প্রজাতির দেহ রঙচঙে নয়, তবে অল্প কিছু প্রজাতির পুরুষ সদস্যদের দেহ উজ্জ্বল বর্ণের।[৩] বেশিরভাগ প্রজাতির ঠোঁট প্রশস্ত ও চ্যাপ্টা যাতে পোকামাকড় ধরে খেতে সুবিধা হয়। তবে যেসব প্রজাতি মাটিতে খাদ্য খুঁজে বেড়ায় তাদের ঠোঁট চোখা।[৪]

যেসব জায়গায় মোটামুটি গাছপালা আছে, সাধারণত সেসব জায়গায় পুরাতন বিশ্বের চুটকিরা নিজেদের সহজে মানিয়ে নেয়। তবে উন্মুক্ত তৃণভূমি, গ্রামীণ বন ও গ্রীষ্মমণ্ডলীয় গহীন অরণ্য এদের আদর্শ আবাসস্থল। শীতপ্রধান অঞ্চলের চুটকিরা শীতকালে দক্ষিণে খাদ্যের সন্ধানে পরিযান করে।[৪]

প্রজাতিভেদে এদের প্রজনন প্রক্রিয়ায় ভিন্নতা দেখা যায়। গাছের কোটরে কিংবা বড় গাছ, ঝোপঝাড় ও পাহাড়ের খাঁজে পেয়ালার মত মজবুত বাসা বানায়। যেসব প্রজাতি কোটরে বাসা করে তারা আটটা পর্যন্ত ডিম দিতে পারে। ডালে বাসা করা প্রজাতিরা দুই থেকে পাঁচটি ডিম পাড়ে।[৪]

শ্রেণীবিন্যাসসম্পাদনা

গোত্র মাসসিকাপিডি

 
টিকেলের নীলচুটকি Cyornis tickelliae ভারত
 
দেশি রবিন Saxicoloides fulicata

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. Sy Montgomery। "Muscicapidae"। Encyclopaedia Britannica। সংগ্রহের তারিখ ২ নভেম্বর ২০১৩ 
  2. del Hoyo, J.; Elliot, A. & Christie D. (editors). (2006). Handbook of the Birds of the World. Volume 11: Old World Flycatchers to Old World Warblers. Lynx Edicions. আইএসবিএন ৮৪-৯৬৫৫৩-০৬-X.
  3. "Old World Flycatchers Muscicapidae"artfullbirds.com। সংগ্রহের তারিখ জুন ৩, ২০১০ 
  4. Perrins, C. (১৯৯১)। Forshaw, Joseph, সম্পাদক। Encyclopaedia of Animals: Birds। London: Merehurst Press। পৃষ্ঠা 194–195। আইএসবিএন 1-85391-186-0 

বহিঃসংযোগসম্পাদনা