পানিপত্ররন্ধ্র

পানিপত্ররন্ধ্র বা হাইডাথোড (ইংরেজি: Hydathode) সাধারণত সপুষ্পক উদ্ভিদের বহিঃত্বকে প্রাপ্ত এক ধরনের ছিদ্র, যা পাতার বহিঃত্বক বা এর কিনারা থেকে তরল পানি নিঃসরণ করে। পাতার একদম প্রান্তভাগ বা প্রান্তের সম্পূর্ণ অংশের পানিপত্ররন্ধ্র দিয়ে পানি নির্গত হতে পারে। পানিপত্ররন্ধ্র পানিতে নিমজ্জিত Ranunculus fluitans প্রভৃতি উদ্ভিদে যেমন দেখা যায়,[১] তেমনি স্কটিশ ব্লুবেল (Campanula rotundifolia) প্রভৃতি স্থলজ বিরুৎজাতীয় উদ্ভিদেও দেখা যায়।[২] এই ছিদ্রপথটি পরিবহন কলাগুচ্ছ দিয়ে উদ্ভিদের মূল সংবহনতন্ত্রের সাথে যুক্ত। পানিপত্ররন্ধ্র টোপাপানা, কচুরিপানা, গোলাপ, ব্যালসাম ও আরো অনেক প্রজাতির উদ্ভিদে পাওয়া যায়।

ব্রোকহজ ও এফ্রন বিশ্বকোষীয় অভিধান থেকে চীনা প্রিমরোজের (Primula sinensis) পানিপত্ররন্ধ্রের প্রস্থচ্ছেদ

শারীরবৃত্তীয় কাঠামোসম্পাদনা

পানিপত্ররন্ধ্র অসংখ্য পানিপূর্ণ আন্তঃকোষীয় ফাঁকবিশিষ্ট একগুচ্ছ জীবিত কোষ দ্বারা তৈরি হয়। কোষগুলোতে ক্লোরোপ্লাস্ট থাকে না বললেই চলে। এটি পরিবহন কলার এক ধরনের বিশেষায়িত প্রান্ত। পরিবহন কলার এই বিশেষ কোষগুলো (যাদের এপিথেম কোষ বলা হয়[৩]) বহিঃত্বকের নিচে এক বা একাধিক প্রকোষ্ঠ বা সাব-স্টোমাটাল বায়ুকুঠুরি বা শ্বাসকুঠুরিতে উন্মুক্ত। এই বায়ুকুঠুরি বা শ্বাসকুঠুরিগুলো আবার মুক্ত পানিরন্ধ্র বা মুক্ত ছিদ্রপথ-এ বাইরের পরিবেশে উন্মুক্ত। রন্ধ্রপথটি গাঠনিকভাবে সাধারণ পত্ররন্ধ্রের মতোই, কিন্তু আকারে কিছুটা বড় এবং নড়ন অক্ষম।

কার্যপদ্ধতিসম্পাদনা

মূলীয় চাপের কারণে সৃষ্ট জাইলেম চাপের ফলে তরল পানি গাটেশন প্রক্রিয়ায় পানিপত্ররন্ধ্র দিয়ে বের হয়ে যায়।[৪] কিছু কিছু লোনা পানির উদ্ভিদে গ্রন্থিযুক্ত ট্রাইকোম থাকে, যা সক্রিয়ভাবে লবণ নিঃসরণের মাধ্যমে কোষীয় সাইটোপ্লাজমে অজৈব সাইটোটক্সিক আয়নের ঘনমাত্রা হ্রাস করে। এর ফলে পাতার উপরিতলে সাদা লবণের স্তর জমা হতে দেখা যায়।

প্রকারভেদসম্পাদনা

পানিপত্ররন্ধ্র দুই প্রকারের হয়ে থাকে: নিষ্ক্রিয় ও সক্রিয় পানিপত্ররন্ধ্র। পাতার শিরা পাতলা প্রাচীরযুক্ত প্যারেনকাইমা নির্মিত এপিথেম অঞ্চলে শেষ হলে সাধারণত নিষ্ক্রিয় পানিপত্ররন্ধ্র গঠিত হয়। এ ধরনের পানিপত্ররন্ধ্র দিয়ে নিষ্ক্রিয়ভাবে পানি বের হয়। আবার পাতার বহিঃত্বকীয় কোষ সক্রিয়ভাবে পানি বর্জন করলে সক্রিয় পানিপত্ররন্ধ্র গঠিত হয়।

আরও দেখুনসম্পাদনা

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. মর্টলক, সি (১৯৫২)। "The structure and development of the hydathodes of Ranunculus fluitans Lam."। নিউ ফাইটোলজিস্ট51 (2): ১২৯–১৩৮। ডিওআই:10.1111/j.1469-8137.1952.tb06121.x 
  2. স্টিভেনস, সি জে; উইলসন, জে; ম্যাকঅ্যালিস্টার, এইচ এ (২০১২)। "Biological Flora of the British Isles: Campanula rotundifolia"। জার্নাল অব ইকোলজি100 (3): ৮২১–৮৩৯। ডিওআই:10.1111/j.1365-2745.2012.01963.x 
  3. কাটার, ই জি (১৯৭৮)। Plant Anatomy. Part 1. Cells and Tissues। লন্ডন, যুক্তরাজ্য: অ্যাডওয়ার্ড আর্নল্ড। পৃষ্ঠা ২২৬–২২৭। আইএসবিএন 978-0713126389 
  4. টাইজ, লিংকন; জিগার, এদুয়ার্দো (২০১০)। Plant Physiology (৫ম (আন্তর্জাতিক) সংস্করণ)। সাইনর অ্যাসোসিয়েটস ইনকর্পোরেশন। পৃষ্ঠা ৯০। আইএসবিএন 9780878935659 

বহিঃসংযোগসম্পাদনা