পাটন জেলা

গুজরাটের একটি জেলা

পাটন জেলা হল পশ্চিম ভারতের গুজরাট রাজ্যের ৩৩টি জেলার মধ্যে একটি। পাটন জেলাটির উত্তরে গুজরাটের সীমানা অবস্থিত এবং উত্তর ও উত্তর-পূর্বে বনাসকাণ্ঠা জেলা, পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বে মেহসানা জেলা, দক্ষিণে সুরেন্দ্রনগর জেলাএবং পশ্চিমে কচ্ছ জেলা এবং কচ্ছের রণ অবস্থিত। জেলাটির আয়তন ৫৭৯২ বর্গকিলোমিটার।

পাটন জেলা
জেলা
রানী কি ভব, পাটন
গুজরাতে পাটন জেলার অবস্থান
গুজরাতে পাটন জেলার অবস্থান
দেশ ভারত
রাজ্যগুজরাত
সদরপাটন
আয়তন
 • মোট৫,৭৯২ বর্গকিমি (২,২৩৬ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা (২০১১)
 • মোট১৩,৪৩,৭৩৪
 • জনঘনত্ব২৩০/বর্গকিমি (৬০০/বর্গমাইল)
ভাষা
 • অফিসিয়ালগুজরাটি, হিন্দি, ইংলিশ
সময় অঞ্চলআইএসটি (ইউটিসি+০৫:৩০)
যানবাহন নিবন্ধনGJ-24
ওয়েবসাইটgujaratindia.com

পাটনের কিছু অঞ্চল যেমন হারিজ ও সামি, কচ্ছ সীমান্তবর্তী অঞ্চল যথেষ্ট সংবেদনশীল। ভৌগোলিকভাবে সীমানা বেশ কিছুটা দূরে থাকলেও এখানে এবং পাকিস্তানের সীমান্তের মধ্যে কোনও জনবসতি নেই।

নামের উৎপত্তিসম্পাদনা

এই জেলার পূর্ব নাম পাটন ছিল যা এখন এই জেলার সদর দপ্তর। এটি গুজরাটের প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় রাজধানীগুলির মধ্যে একটি যা কে.এম. মুন্সী রচিত উপন্যাসটিতে স্পষ্টভাবে বর্ণিত রয়েছে। মূলত রাজা ভানরাজ চাভদা একটি নতুন শহর প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং তার নাম রেখেছিলেন আনাহিলপুর পাটন বা আনহিলবাদ পাটন নামকরণের পরে তাঁর খুব নিকটতম বন্ধু 'আনাহিল ভারবাদ' পাটন রাজ্য প্রতিষ্ঠার পথপ্রদর্শক ছিলেন, স্থানীয় আদিবাসী, নাগরিক এবং তাঁর পিতার অনুগত যোদ্ধারাদের সহায়তায় দক্ষিণ থেকে তৎকালীন শাসকের বিরুদ্ধে দীর্ঘ লড়াই করেছিলেন। যা বর্তমানে পাটন থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে পঞ্চসার রাজার রাজ্য। পরে ভীমদেব, কুমারপাল, সিদ্ধরাজ এবং কর্ণদেবের মতো বেশ কয়েকটি শাসক পাটন থেকে শাসন করেছিলেন।

ইতিহাসসম্পাদনা

এই জেলাটি ৯টি তালুক নিয়ে গঠিত যেমন- পাটন, সিদ্ধপুর, চানসমা, হরিজ, সামি, রাধানপুর, সানতালপুর, শঙ্করেশ্বর, সরস্বতী ইত্যাদি। ২-১০-৯৭ তারিখে পাটন জেলা মেহসানা ও বনাসকাণ্ঠা জেলার অংশ থেকে গঠিত হয়েছিল। পাটন জেলাটি গঠিত হয়- পাটন, সিদ্ধপুর, চানসমা, হরিজ ও সামি তালুক মেহসানা জেলার অন্তর্গত এবং বনাসকাণ্ঠা জেলার রাধানপুর ও সানতালপুর তালুক নিয়ে গঠিত হয়েছিল। এই জেলার সদর দফতর পাটন। এই জেলায় অনেক হিন্দু মন্দির এবং জৈন মন্দির রয়েছে। এই জেলার সদর দফতর পাটন শহর যা সব মিলিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্র তৈরি করেছে। শঙ্করেশ্বর জৈন মন্দিরের মতো ধর্মীয় স্থানগুলি জনপ্রিয় এছাড়া সহস্ট্রালিং হ্রদ এবং রানাকাই ভাভ স্থানগুলিও জনপ্রিয়।[১]

জনসংখ্যার উপাত্তসম্পাদনা

২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসারে, পাটন জেলার জনসংখ্যা ১,৩৪৩,৭৩৪ জন। সোয়াজিল্যান্ড এর সমান জনসংখ্যা।[২] এই জেলাটি ভারতে ৩৫৯তম স্থান (মোট ৬৪০ এর মধ্যে)। এই জেলার জনসংখ্যার ঘনত্ব ২৩৪ জন প্রতি বর্গকিলোমিটার (৬১০/বর্গ মাইল)। ২০০১-২০১১ সময়কালে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১৩.৫৩% ছিল। পাটন জেলায় প্রতি ১০০০ জন পুরুষের মধ্যে ৯৩৫ জন মহিলার লিঙ্গ অনুপাত রয়েছে এবং সাক্ষরতার হার ৭২.৩০%।

ভারতের ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসারে, এই জেলার জনসংখ্যার ৯৮.৩৬% গুজরাটি এবং ১.১৭% হিন্দি ভাষায় কথা বলেন।[৩]

সোলার প্রোজেক্টসম্পাদনা

গুজরাট সোলার পার্ক চারাঙ্কাতে সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ৩৪৫ মেগাওয়াট। এই পার্কটিকে আরও উন্নত করা হচ্ছে।

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. https://patandp.gujarat.gov.in
  2. US Directorate of Intelligence। "Country Comparison:Population"। সংগ্রহের তারিখ ২০১১-১০-০১Swaziland 1,370,424 
  3. 2011 Census of India, Population By Mother Tongue