পরশুরামের প্রাসাদ

পরশুরামের প্রাসাদ ঐতিহাসিক মহাস্থানগড়ের সীমানা প্রাচীর বেষ্টনীর ভিতরে যেসব প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শন আবিষ্কৃত হয়েছে তার মধ্যে অন্যতম। স্থানীয়ভাবে এটি তথাকথিত হিন্দু নৃপতি পশুরামের প্যালেস নামে পরিচিত।[১] পুরাণে পরশুরাম ছিলেন বিষ্ণুর ষষ্ঠ অবতার। তিনি ত্রেতা যুগে বর্তমান ছিলেন। পরশুরামের পিতা জমদগ্নি ব্রাহ্মণ হলেও, মা রেণুকা ছিলেন ক্ষত্রিয়। কঠোর তপস্যা করে তিনি শিবের নিকট হতে পরশু লাভ করেন এবং যুদ্ধবিদ্যা শেখেন।

পরশুরামের প্রাসাদ
পরশুরামের প্রাসাদ
পরশুরামের প্রাসাদ
পরশুরামের প্রাসাদ বাংলাদেশ-এ অবস্থিত
পরশুরামের প্রাসাদ
পরশুরামের প্রাসাদ
স্থানাঙ্ক: ২৪°৫৭′ উত্তর ৮৯°২০′ পূর্ব / ২৪.৯৫০° উত্তর ৮৯.৩৩৩° পূর্ব / 24.950; 89.333স্থানাঙ্ক: ২৪°৫৭′ উত্তর ৮৯°২০′ পূর্ব / ২৪.৯৫০° উত্তর ৮৯.৩৩৩° পূর্ব / 24.950; 89.333
দেশবাংলাদেশ বাংলাদেশ
স্থানশিবগঞ্জ, বগুড়া
সময়কালখ্রিস্টীয় ৪র্থ থেকে ১১শ শতক

ইতিহাসসম্পাদনা

১৯০৭, ১৯৬১ ও ১৯৯৫ সালে মোট তিন বার এখানে প্রত্নতাত্ত্বিক খনন কাজ পরিচালনা করে তিনটি নির্মাণ যুগের সন্ধান পাওয়া যায়।

১৯৬১ সালে উপরিভাগের ইমারত ভেদ করে দুইটি গভীর খাদ খননের ফলে আরও দুইটি নির্মাণ যুগের ইমারতের ভগ্নাবশেষসহ বহুসংখ্যক উজ্জ্বল মৃৎপাত্রের টুকরা পাওয়া যায়। যা সুলতানি আমলের মৃৎপাত্রের সাথে সাদৃশ্যপূর্ন। অর্থাৎ দ্বিতীয় পর্যায়ের নির্মাণ কাল ১৫শ/১৬শ শতকের বা সুলতানী আমলের বলে প্রত্নতত্ত্ববিদগণ ধারণা করেন। এছাড়া এখানে কোম্পানি আমলের (১৮৩৫-১৮৫৩) দুইটি মুদ্রা পাওয়া গেছে।

সুলতানী আমলের ইমারতের নিচে প্রথম পর্যায়ে নির্মিত ইমারতের ভবনাবশেষসহ পোড়ামাটির চিত্রফলক, প্রস্তর নির্মিত বিষ্ণুপট্টের ভগ্নাংশ ও বহু কড়ি পাওয়া গেছে। প্রথম পর্যায়ে প্রাপ্ত স্থাপত্যের কাঠামো ও প্রত্নবস্তুর সাথে পাল আমলের কাঠামো ও প্রত্নবস্তুর সাদৃশ্য রয়েছে। অর্থাৎ প্রথম পর্যায়ে প্রাপ্ত এ সকল নিদর্শন থেকে ধারণা করা যায়, এখানে অষ্টক শতক বা পাল আমলের নির্মিত ইমারতের ধ্বংসাবশেষ রয়েছে।

অবকাঠামোসম্পাদনা

উপরের স্তরে অপেক্ষাকৃত আধুনিককালে নির্মিত একটি বিরাট আবাস বাটির সম্পূর্ণ নকশা উন্মোচিত হয়েছে। অন্দর মহলে অবস্থিত ছোট একটি অঙ্গনের দিকে মুখ করে নির্মিত পৃথক পৃথক ৪টি মহল বা অংশের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। মোহগুলোর প্রবেশ পথ সহ বেশ কিছু কক্ষ, সোপান শ্রেণী, সীমানা প্রাচীর এবং পুর্ব ও পশ্চিমে দুটি প্রবেশদ্বার আবিষ্কৃত হয়েছে। মুল প্রবেশদ্বার হচ্ছে পুর্ব পাশের প্রবেশদ্বার। যার দুই পাশে দুইটি প্রহরী কক্ষের নিদর্শন দেখা যায়। উপরিভাগে মোঘল ও ব্রিটিশ আমলে ব্যবহৃত ছোট আকারে ইট, চুন সুরকীর আস্তর, চুনকামের ব্যবহার, গঠনশৈলী ইত্যাদি দেখে অনুমান করা যায় যে, এই ইমারত অষ্টাদশ শতকের শেষদিকে নির্মিত হয়েছিল।

চিত্রশালাসম্পাদনা

আরও দেখুনসম্পাদনা

তথ্যসূত্রসম্পাদনা