নব্য-নোয়ার চলচ্চিত্র

চলচ্চিত্রের ঘরানা; নোয়ার ঘরানার আধুনিক রূপ
(নব্য-নোয়া থেকে পুনর্নির্দেশিত)

নব্য-নোয়ার চলচ্চিত্র আধুনিক চলচ্চিত্র ও অন্যান্য সৃষ্টিশীল ক্ষেত্রে দৃষ্ট একটি বিশেষ বর্গ। শব্দটির উৎস গ্রিক নিও (neo অর্থাৎ নতুন); এবং ফরাসি শব্দ নোয়ার (noir অর্থাৎ, কালো) শব্দ দুটি। মূলত ফিল্ম নোয়ার বর্গের উপাদানগুলিকে নিয়ে গঠিত হয়েছে এই বর্গটি। তবে ১৯৪০ ও ১৯৫০-এর দশকের ফিল্ম নোয়ার-এ অনুপস্থিত আপডেটেড থিম, বিষয়বস্তু, ধরন ও দৃশ্য উপাদান বা মাধ্যম এই ধারায় পরিলক্ষিত হয়ে থাকে।

ইতিহাসসম্পাদনা

১৯৪৬ সালে ফিল্ম নোয়ার (ফরাসি ভাষায় "কৃষ্ণ চলচ্চিত্র" বা "black film") শব্দটি সর্বপ্রথম ব্যবহার করেছিলেন সমালোচক নিনো ফ্র্যাঙ্ক। কিন্তু পরবর্তী কয়েক দশকে এই শব্দটি চলচ্চিত্রকার, সমালোচক বা চলচ্চিত্রমোদী কারোর দ্বারাই ব্যবহৃত হয়নি। ১৯৪০-এর দশকের প্রথম ভাগ থেকে ১৯৫০-এর দশকের শেষভাগ পর্যন্ত সময়কালটি ফিল্ম নোয়ার বর্গের ধ্রুপদী যুগ বলে পরিগণিত হয়। ফিল্ম নোয়ার মূলত আমেরিকান ক্রাইম ড্রামা বা মনস্তাত্ত্বিক থ্রিলার। এই বর্গে একাধিক সাধারণ থিম ও প্লট-পরিকল্পনা এবং অনেক বৈশিষ্ট্যপূর্ণ দৃশ্য উপাদান লক্ষিত হয়। এই ধারার চরিত্রদের প্রায়শই দ্বন্দ্ব্বরত অ্যান্টিহিরো রূপে দেখা যায়। তারা প্রতিকূল পরিস্থিতির শিকার হয় এবং হতাশা বা অবিশ্বাসবাদী নৈতিক ব্যবস্থার প্রেক্ষিতে নিজের পন্থা নির্বাচন করতে বাধ্য হয়। দৃশ্য উপাদানের মধ্যে রয়েছে লো-কি লাইটিং, আলোছায়ার চমকপ্রদ প্রয়োগ ও ক্যামেরার লক্ষ্যনীয় ব্যবহার।

১৯৬০-এর দশকের প্রথম ভাগ থেকে ধ্রুপদী ফিল্ম নোয়ার ধারায় অতি অল্পসংখ্যক কিছু উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র নির্মিত হলেও অন্যান্য চলচ্চিত্র-বর্গের উপর এই ধারার প্রভাব ছিল অত্যন্ত গভীর। এই ছবিগুলিতে পুরনো কালের ফিল্ম নোয়ার-এর বিষয়গত ও দৃশ্য উপাদানগত মিল লক্ষ্য করা যায়। অনেক ধ্রুপদী ফিল্ম নোয়া;' ছিল স্বাধীন চলচ্চিত্র। কারণ হলিউডের প্রধান প্রধান স্টুডিওগুলি অনেক নয়ার প্রকল্পের প্রতি আদৌ নজর দিতেন না। আবার ঠিক সেই কারণেই অনেক নিও-নয়ার ফিল্মও স্বাধীন হিসেবে পরিগণিত।

১৯৭০-এর দশক থেকে নতুন চলচ্চিত্রগুলির সঙ্গে আগেকার ফিল্ম নোয়ার-এর তুলনা হতে থাকে। ধ্রুপদী নোয়া-এর বৈশিষ্ট্যের বিপরীতে নিও-নোয়া'র ছবিগুলি আধুনিক পরিস্থিতি ও প্রযুক্তির দিকে দৃষ্টিক্ষেপ করতে থাকে – বিস্তারিত বর্ণনা ধ্রুপদী ফিল্ম নোয়ায় হয় অনুপস্থিত থাকত নয় অপ্রয়োজনীয় গণ্য হত। যেসব আধুনিক থিম এই ধারায় যুক্ত হয় সেগুলি হল ব্যক্তিপরিচয়গত সংকট বা আইডেনটিটি ক্রাইসিস, স্মৃতিসংক্রান্ত ইস্যু বা আধ্যাত্মিকতা, এবং প্রযুক্তিসমস্যা ও সমাজের উপর তাদের প্রভাব। একইভাবে এই সকল উপাদানবিশিষ্ট কথাসাহিত্যের যে কোনো ধারার উপর এই শব্দটিকে আরোপ করা যায়।

উদাহরণসম্পাদনা

চলচ্চিত্র