দন্তক্ষয় হচ্ছে ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্টি এসিডের মাধ্যমে দাঁতের ভাঙ্গন বা ক্ষয়। ইংরেজিতে এটি ডেন্টাল ক্যারিস বা ক্যাভিটিস নামে পরিচিত। দন্তক্ষয় হলুদ থেকে কালো বিভিন্ন বর্ণের হতে পারে। দাঁতের ব্যাথা বা খেতে সমস্যা হওয়া এর অন্যতম লক্ষণগুলোর অন্তর্ভুক্ত। দন্তক্ষয়ের ফলে সৃষ্ট জটিলতাগুলোর মধ্যে রয়েছে দাঁতের আশেপাশের টিস্যুতে প্রদাহ হওয়ায়, দাঁত হারানো, এবং সংক্রমণ বা মাংসপিণ্ড তৈরি হওয়া।

ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে সৃষ্ট এসিড দাঁতের কঠিন কলার (এনামেল, ডেন্টিন, ও সিমেন্টাম) বিগলিত করার ফল দন্তক্ষয় হয়। দাঁতে লেগে থাকা খাদ্যকণা বা চিনি যখন ব্যাকটেরিয়া শক্তি উৎপাদনের উদ্দেশ্যে রাসায়নিকভাবে ভেঙে ফেলে তখন এই এসিড উৎপন্ন হয়। খাদ্যে থাকা মনোস্যাকারাইড হচ্ছে এই ব্যাকটেরিয়ার প্রাথমিক শক্তির উৎস আর এজন্য যেসকল খাবারে মনোস্যাকারাইড বেশি তা দন্তক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ায়। যদি খনিজের ভাঙ্গনের পরিমাণ, লালা বা এ জাতীয় উপাদানের মাধ্যমে দাঁতের উপরের এই খনিজ আবরণ তৈরির পরিমাণের চেয়ে বেশি হয় তখন দন্তক্ষয় শুরু হয়। এজন্য যেসকল রোগ বা ওষুধের প্রভাবে লালা তৈরির পরিমাণ হ্রাস পায় সেগুলো দন্তক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ার জন্য দায়ী। লালা তৈরি হ্রাস করে এমন রোগগুলোর মধ্যে আছে ডায়াবেটিস ও শোগ্রেন সিনড্রোম। তাছাড়া এন্টিহিস্টামিন ও বিষন্নতারোধী ওষুধগুলোও লালার উৎপাদন হ্রাসে ভূমিকা রাখে। রোগ ও ওষুধ ছাড়া দারিদ্রতা, দাঁত না মাজা বা দাঁতের যত্ন না নেওয়া, এবং মাড়ির পেছনে সরে যাওয়ার মাধ্যমে দাঁতের গোড়া প্রকাশিত হওয়াও দন্তক্ষয়ের ঝুঁকি বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে।

দন্তক্ষয় প্রতিরোধের জন্য নিয়মিত সুষ্ঠভাবে দাঁত মাজা, চিনিযুক্ত খাবার কম গ্রহণ করা, কিছু পরিমাণ ফ্লোরাইড গ্রহণ করা প্রয়োজন। দন্তক্ষয় রোধে প্রতিদিন দুই বার দাঁত মাজা ও দিনে একবার ফ্লস করার পরামর্শ প্রদান করা হয়। পানি, লবন, বা টুথপেস্ট থেকে ফ্লোরাইড পাওয়া যেতে পারে। মায়ের দন্তক্ষয়ের চিকিৎসা প্রদানের মাধ্যমে সন্তানের দন্তক্ষয়ের ঝুঁকি কমানো সম্ভব, কারণ এর ফলে মা থেকে সন্তানের মধ্যে সুনির্দিষ্ট ব্যাকটেরিয়ার ছড়িয়ে যাওয়া পরিমাণ হ্রাস করা সম্ভব। নিয়মিত পরীক্ষার মাধ্যমে দন্তক্ষয় আগে থেকে নির্ণয় করা সম্ভব। ক্ষয়ের তীব্রতার উপর ভিত্তি করে আক্রান্ত দাঁতকে রক্ষা করতে বিভিন্ন রকমের চিকিৎসা প্রদান করা যেতে পারে বা দাঁত ফেলে দেওয়ারও প্রয়োজন পড়তে পারে। এখন পর্যন্ত দাঁতে কোনো অংশ বড়ো পরিমাণে পুনরায় বৃদ্ধি করার প্রক্রিয়া নেই। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে দন্তক্ষয়ের চিকিৎসা পাওয়ার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা রয়েছে। দন্তক্ষয়ের ফলে সৃষ্ট ব্যাথা রোধে প্যারাসিটামল বা ইবুপ্রোফেন গ্রহণ করা যেতে পারে।