জীনতাত্বিক সম্পাদনা

জীনতাত্ত্বিক সম্পাদনা (ফরাসীঃ critique génétique, ইংরেজিঃGenetic editing) একটি বিশেষ সম্পাদনা-পদ্ধতি যা একটি টেক্সট বা পুঁথির বিবর্তনের ধারণা দিয়ে থাকে। মূলত, এই পদ্ধতি একটি পুঁথির রচনাক্রমের পুননির্মাণ ব্যাখ্যা করে থাকে।[১] শুধুমাত্র একটি পুঁথির সর্বশেষ সংস্করণে সীমাবদ্ধ না থেকে তার বিবর্তনের প্রতিটি ধাপ বিবেচনা করা হয়।[২]

বিবর্তনসম্পাদনা

মূলত ১৯৭০ দশকের ফরাসী তাত্ত্বিকদের থেকেই এর উদ্ভব, বিশেষত জেরার্দ জেনেত, ক্লদ জাকেত উল্লেখযোগ্য অবদান রাখেন। জীনতাত্ত্বিক সম্পাদনা, খবরের শিরোনামে আসে প্রখ্যাত পণ্ডিত হান্স ওয়াল্টার গেব্লারের (Hans Walter Gabler) সম্পাদিত আইরিশ লেখক জেমস জয়েস রচিত ইউলিসিস (১৯২২) প্রকাশিত হওয়ার পর (১৯৮৪) যা বহু বিতর্কের সৃষ্টি করে।[৩]

বর্তমান অবস্থাসম্পাদনা

 
প্রুস্তের পান্ডুলিপি

১৯৮৪-এর পর এই পদ্ধতি জনপ্রিয়তা লাভ করে। জেমস জয়েসের পান্ডুলিপি সমগ্রে প্রকাশিত হওয়ার পর (১৯৭৭-১৯৭৯), অন্যান্য লেখকের ক্ষেত্রেও এই পদ্ধতির ব্যবহার বাড়তে থাকে। ফরাসী ঔপন্যাসিক মার্সেল প্রুস্তের রচনা সমগ্রের সম্পাদনার উল্লেখ করা যেতে পারে।

মূলত ফরাসী সম্পাদনা-ত্বত্ত্বের অন্তর্গত হলেও ইউরোপীয় সম্পাদকেরাও এর অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহার করে চলেছেন, আজ এই বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ গবেষণা পুস্তিকাও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।[৪]

বাংলায় সম্প্রতি জীবনানন্দ দাশের পান্ডুলিপির কবিতা (ভূমেন্দ্র গুহ সম্পাদিত) প্রকাশিত হওয়া ও পান্ডুলিপি তথা খসড়ার লেখন পদ্ধতির উপর বিশেষ রেখাপাতকে জীনতাত্ত্বিক সম্পাদনার সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে।[৫]

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. http://www.item.ens.fr/index.php?id=384032
  2. http://www.universalis.fr/encyclopedie/manuscrits-la-critique-genetique/
  3. http://www.nybooks.com/articles/archives/1988/jun/30/the-scandal-of-ulysses-2/
  4. "সংরক্ষণাগারভুক্ত অনুলিপি"। ১৬ মে ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৬ আগস্ট ২০১৪ 
  5. "সংরক্ষণাগারভুক্ত অনুলিপি"। ৬ মার্চ ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৬ আগস্ট ২০১৪