প্রধান মেনু খুলুন

চলচ্চিত্র শিল্প অথবা গতিশীল চিত্রশিল্প নির্মাণ নির্ভরশীল প্রযুক্তি এবং বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের উর্পর। যেমন চলচ্চিত্র নির্মাণ কোম্পানি, চলচ্চিত্র স্টুডিও, গতিশীল চিত্রগ্রহণ, চলচ্চিত্র তৈরি, চিত্রনাট্য রচনা, নির্মাণ পূর্ব-কর্ম, নির্মাণ পরবর্তী ক্রিয়া, চলচ্চিত্র উৎসব, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তর; অভিনেতা-অভিনেত্রী, চলচ্চিত্র পরিচালক এবং চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট অন্যান্য লোকজন সংযুক্ত থাকেন একটি চলচ্চিত্র তৈরির সময়। চলচ্চিত্র তৈরির সাথে বিরাট ব্যয়ের প্রশ্নটি জড়িত বিশেষভাবে তাৎক্ষণিকভাবে উৎপাদন প্রক্রিয়ার সাথে কোম্পানির বোঝাপড়া হতে হয়। প্রারম্ভেই চলচ্চিত্রের ক্ষেত্রে যান্ত্রিক সহায়তা, ব্যয়ের পুজির সহায়তা চলচ্চিত্রের প্রাথমিক অনুষঙ্গ হিসেবে গৃহীত। এসব থাকলেই সেক্ষেত্রে স্বাধীন একটি চলচ্চিত্র তৈরির সুযোগ হয়। হলিউড হচ্ছে পৃথিবীর প্রাচীনতম চলচ্চিত্র নির্মাণ প্রতিষ্ঠান এবং সেটা পৃথিবীর বৃহত্তম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান, যেখান থেকে ইতোমধ্যেই অসংখ্যা চলচ্চিত্র তৈরি হয়েছে।[1]

আধুনিক চলচ্চিত্র শিল্পসম্পাদনা

টেমপ্লেট:বিশ্ব সিনেমা সাম্প্রতিক কালে চলচ্চিত্রের বৃহত্তর বাজার হচ্ছে আমেরিকা, চীন, যুক্তরাজ্য, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং ভারত; এবং একথা সত্য যে, ভারতে সর্াধিক সংখ্যক নির্ত হয়, এছাড়া নাইজেরিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রে। অন্যান্য যেসব দেশ কেন্দ্রে আছে হংকং এবং ইরোপের যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, ইটালি, স্পেন এবং জার্ানি চলচ্চিত্র নির্াণ করে।[১] প্রথিবী ব্যাপী থিয়েটারের বাজার এখন বক্স অফিস কেন্দ্রিক; যা টেমপ্লেট:ইউএসডি ২০১৫ সালের হিসেব মতে। তিনটি দেশ বা অঞ্চল বক্স অফিসের তালিকায় শীর্ অবস্থার করছে; এগুলো হচ্ছে-- এশিয়া প্যাসেফিক টেমপ্লেট:ইউএসডি উত্তর আমেরিকা এবং ইউরোপ মিলে টেমপ্লেট:উএসডি, মধ্যপ্রাচ্য এবং উত্তর আফ্রিকায় টেমপ্লেট:ইউএসডি.[২]

আধুনিক চলচ্চিত্র শিল্পসম্পাদনা

বিশ্ব চলচ্চিত্র আফ্রিকান চলচ্চিত্র এশিয়ান চলচ্চিত্র পূর্ এশিয়ান চলচ্চিত্র দক্ষিণ এশিয়ান চলচ্চিত্র পশ্চিম এশিয়ান চলচ্চিত্র ইউরোপিয়ান চলচ্চিত্র ল্যাটিন আমেরিকান চলচ্চিত্র উত্তর আমেরিকান চলচ্চিত্র ওসেনিয়াস চলচ্চিত্র বর্নেমানে চলচ্চিত্রের বড় বাজার যুক্তরাষ্ট্র,চীন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং ভারত; তবে এককভাবে ভারতে, নাইজেরিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রেই সবচেয়ে বেশি চলচ্চিত্র নির্ত হয়। এই তালিকায় অন্যান্য দেশের মধ্যে হংকং এবং ইউরোপের যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, ইটালি, স্পেন এবং জার্মানি বৃহৎ চলচ্চিত্র উৎপাদনকারী দেশ।[২] পৃথিবীব্যাপী সিনেমা হল কেন্দ্রিক ২০১৫ সালের সর্মোট বাণিজ্যের পরিমাণ ইউএসডি ৩৮.৩ বিলিয়ন, উত্তর আমেরিকা এবং ইউরোপ মিলে ইউএসডি ১১.১ বিলিয়ন, মধ্যপ্রাচ্য এবং উত্তর আফ্রিকায় হয়েছে ইউএসডি ৯.৭ বিলিয়ন।[৩]

সাধারণ চলচ্চিত্রায়নের ক্ষেত্রে লোকেশন (স্থান) গুরুত্বপূর্, যেহেতু সেখানে চলচ্চিত্রটি উৎপাদিত হয়। কেননা শ্রম এবং অবকাঠামোগত ব্যয়ের কারণে অনেক চলচ্চিত্রই দেশের বাইরের বিভিন্ন স্থানে উৎপাদিত হয়; কেননা কোম্পানি এই ব্যয়ভার বহন করে এবং স্থানও নির্ারণ করে। উদাহণস্বরূপ বলা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের অনেক চলচ্চিত্রই নির্ত হয় কানাডায়, নাইজেরিয়ার চলচ্চিত্র নির্ত হয় ঘানায়; যখন ভারতের অনেক চলচ্চিত্রই আমেরিকা, ইউরোপ, সিঙ্গাপুরেও নির্ত হয়।

যুক্তরাষ্ট্রসম্পাদনা

যুক্তরাষ্ট্রের চলচ্চিত্র হলিউড নামেই পরিচিত, সাধারণত হলিউড বিশ্বব্যাপী পরিচিতি লাভ করে বিশ শতকের শুরুতে। যুক্তরাষ্ট্রের (হলিউড) চলচ্চিত্র শিল্প পৃথিবীর সবচেয়ে পুরনো, যা প্রায় ১২১ বছর আগে শুরু হয়েছিল; হলিউড চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রি পৃথিবীর বৃহত্তম মুনাফা উপার্জনকারী প্রতিষ্ঠানও বটে। আমেরিকার চলচ্চিত্র অধ্যায়ন ইন্সটিটিউটের সাথে হলিউডের যোগসূত্র স্থাপনের মধ্য দিয়ে ফিল্ম অধ্যয়নের সুযোগ তৈরি হয়। যেমন এলএ ফিল্ম স্কুল এবং এনওয়াইএফএ এর সাথে সম্পৃক্ত।[4] এমনকি ৬টি বড় ফিল্ম স্টুডিওর মধ্যে ৪টিই পূর্ব উপকূলী কোম্পানির। হলিউডের সবচেয়ে বড় স্টুডিও মেট্রো-গোল্ডইন-মেয়ার এর অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া টুয়েন্টিন্থ সেঞ্চুরি ফক্স, প্যারামাউন্ট পিকচার এবং লাইটস্টর্ম বিনোদনের জন্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করে এবং প্রতিষ্ঠানগুলো বাণিজ্যিকভাবেও সাফল্য লাভ করেছে। বণিজ্য সফল এসব চলচ্চিত্রের মধ্যে আছে ‘গান উইথ দ্য উইন্ড’ (১৯৩৯), ‘স্টার ওয়্যার’ (১৯৭৭), ‘টাইটানিক’ (১৯৯৭) এবং ‘অবতার’ (২০০৯)। বর্তমানে আমেরিকার ফিল্ম স্টুডিওগুলো সামষ্টিকভাবে বছরে কয়েক শ’ চলচ্চিত্র নির্মাণ করে। এবং এসব স্টুডিওর চলচ্চিত্র নির্মাণের মধ্য দিয়ে আমেরিকা পৃথিবীতে সর্ববৃহৎ চলচ্চিত্র নির্মাণকারী দেশ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। শুধুমাত্র ওয়াল্ট ডিজনি কোম্পানি, যা ওয়াল্ট ডিজনি স্টুডিওর প্রতিষ্ঠান এটি দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার এবং সনি পিকচার এন্টারটেইনমেন্টের মূল অফিস কালভার শহর ক্যালিফোর্নিায়ায়;[5] এটি মূল কোম্পানি সনি কর্পেোরেশনের। এর মূল অফিস জাপানের টোকিও শহরেও আছে। অধিকাংশ চিত্রায়নের ক্ষেত্রে এখন ক্যালিফোর্নিয়া, নিউইয়র্ক, লুসিয়ানা, জর্জিয়া এবং উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ার স্থান সমূহ ব্যবহৃত হয়। হলিউড চলচ্চিত্র শিল্প জনপ্রিয়তার শীর্ষে এবং চলচ্চিত্র উৎপাদনেও পৃথিবীর শীর্ষে রয়েছে। ২০০৯-২০১৫ সাল পর্যন্ত পরিসংখ্যানে জানা যায়, হলিউড গড়ে প্রতি বছর ১০ বিলিয়ন ইউএস ডলার (বা তারও বেশি) আয় করেছে।[6] হলিউডের পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান সাধারণভাবে পরিচিত অস্কার নামে। এটি প্রতি বছর মোশন পিকচার আর্টস এবং সাইন্স (এএমপিএএস) নামে অনুষ্ঠিত হয়। এ পর্যন্ত সাকুল্যে ২,৯৪৭টি অস্কার পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে।[7]

যুক্তরাষ্ট্রের মোশন পিকচার প্রাথমিক যাত্রা শুরু করেছিল ১৮৯৪ সালের জুন মাসে রিচমন্ডে, চার্লস জেনকিন্স ইন্ডিয়ানা নির্মাণের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এবং পৃথিবীর চলচ্চিত্র শিল্পের যাত্রা সূচিত হয়েছিল। জেনকিন্স ফ্যান্টাসকপি ব্যবহার করে একটি পরিবারকে দর্শকদের সামনে ‍উপস্থাপন করেছিলেন, যেখানে ছিলেন তাঁর বন্ধু-বান্ধব এবং রিপোর্টারগণ। এই ফিল্মে তিনি মূলত প্রজাপতির নৃত্যকেই আনন্দদায়ক ও জীবন্ত করে তুলেছিলেন। জেনকিন্স এবং তাঁর বন্ধু থমাস আর্মাট ফ্যান্টাসকপির উন্নত সংস্করণ ব্যবহার করে কটন শহরের অস্থায়ী থিয়েটার হলে ১৯৮৫-তে প্রদর্শন করেন। পরে ফ্যান্টাসকপি থমাস এডিসনের নিকট বিক্রী করা হয়েছিল, এবং তিনি এটির পরিবর্তন করে নাম রেখেছিলেন প্রোজেক্টর কিংবা এডিসন্স ভিটাসকপি।


টেমপ্লেট:Filmmaking

  1. "European Audiovisual Council" (PDF)European Audiovisual Council, Council of Europe.। সংগ্রহের তারিখ ২০০৯-০৫-১১ 
  2. Frater, Patrick (এপ্রিল ১৩, ২০১৬)। "Asia Expands Domination of Global Box Office"Variety। সংগ্রহের তারিখ এপ্রিল ১৯, ২০১৬